প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিজেলের দামের প্রভাব সবজির বাজারে

নিউজ ডেস্ক: সবজি আবাদ প্রধান বগুড়া অঞ্চলে শীতকালীন আগাম সবজির আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেই গিয়েছিল। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ল সবজির ওপর। বগুড়ার প্রধান সবজি বাজার মহাস্থানগড়ের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় লোকজন কম দামে সবজি কিনতে পারবেন। তবে ট্রাকে করে যে সবজি ঢাকা ও বড় শহরে যাবে, সেখানকার ক্রেতাদের বেশি দামেই কিনতে হবে। ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মহাস্থানগড় থেকে প্রতিদিনই সবজির ট্রাক ঢাকা অভিমুখে রওনা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, বগুড়ায় এবার সবজির বাড়তি আবাদ হয়েছে। গত অক্টোবরে শুরু হওয়া সবজির আগাম আবাদ হয়েছে এবার ৩ হাজার ৮শ’ হেক্টরে। এই সবজি এখন বাজারে আসছে। শীতকালীন মৌসুমি সবজি আবাদের টার্গেট করা হয়েছে ১৩ হাজার হেক্টর। কৃষক এই সবজির আবাদ শুরু করবে ২৯ নবেম্বর থেকে।

মহাস্থানগড়ের ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, কার্তিকের শুরুতে প্রতিমণ ফুলকপি ছিল প্রায় চার হাজার টাকা। আগাম সবজি ওঠায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এই দাম নেমে এসেছে প্রতিমণ ১ হাজার ৬শ’ থেকে ১ হাজার ৮শ’ টাকায়। অন্যান্য সবজির দাম নিম্নমুখী। এক গৃহস্থ বললেন, প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৫০ টাকায়। দাম কমে যাওয়ার সুফল পাবেন স্থানীয়রা। ঢাকা চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাকে তোলার পর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। পাইকারি সবজি বিক্রেতা ও আড়তদার রফিকুল ইসলাম বললেন, বগুড়া থেকে প্রতিদিন বড় ও মাঝারি ট্রাক মিলে অন্তত ২৫টি ট্রাক রওনা হয় ঢাকা চট্টগ্রাম অভিমুখে। ডিজেলের দাম বাড়ানোর খবর পেয়েই ট্রাক মালিকরা ভাড়া প্রায় বিশ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছেন। মাঝারি প্রতিটি ট্রাকে প্রতি ক্যারেটের (সবজি বহনকারী এক ধরনের কাঠের বাক্স যার পরিচিতি ক্যারেট) ভাড়া ছিল ৫০ টাকা। ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় প্রতিটি ক্যারেটের ভাড়া ধার্য হয়েছে ৬০ টাকা। আট টন পণ্য বহনের একটি ট্রাকে ২০০ ক্যারেট সবজির ভাড়া আগে ছিল ১০ হাজার টাকা। এখন গুনতে হবে ১২ হাজার টাকা। এর চেয়ে বড় ট্রাকে ৫০০ ক্যারেট সবজি পরিবহনে ভাড়া গুনতে হবে ৩০ হাজার টাকা। এর ফলে ঢাকাবাসীদের বেশিদামে সবজি কিনে খেতে হবে। আড়তদার মনসুর আলী বললেন, সবজির দাম যেভাবে নেমে আসছিল, ঢাকার লোকজন এবার কম দামেই সবজি কিনতে পারতেন। ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় তাদের বেশি দাম কিনতে হবে। শিবগঞ্জের মহাস্থান, গড়মহাস্থান, রায়নগর, অনন্তবালা, সুধানগর, কৃষ্ণপুর, মোকামতলা, চণ্ডিহারা এলাকা; বগুড়া সদরের ভবানীগঞ্জ, বাঘোপাড়া, তেলিহারা; শাজাহানপুরের শাহনগর কামারপাড়া জোড়া ও জোকা সবজি আবাদের অন্যতম এলাকা। এর বাইরে বগুড়ার পূর্বাংশের বেশিরভাগ এলাকায় সবজি উৎপাদিত হয়। কৃষক প্রধান খাদ্যশস্য ধানের আবাদের পরই মাঝের সময়ে এক দফা সবজি আবাদ করে। শীতকালীন মৌসুমে সবজি আবাদের জমি আলাদা করে রাখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দুলাল হোসেন জানান, গত মৌসুমে অতি বৃষ্টির কারণে কৃষক সবজি আবাদে কিছুটা মার খেয়েছিল। এবার আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় সবজির ফলন আশাতীত। বাজারে আগাম সবজি ওঠায় দামও সকলের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এসেছে। শীতকালীন মৌসুমি সবজি আবাদের টার্গেট এবার অতিক্রম করবে।- জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত