প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রংপুরে পরিবহন ধর্মঘটে পরীক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশিত বিপাকে

আফরোজা সরকার : [২] ধর্মঘটের কারণে রংপুর থেকে কাঁচামাল ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ঢাকাগামী পরীক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশী মানুষজন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। মালিক-শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত কেন্দ্রীয় নেতারাও। ভাড়া সমন্বয় না করে শুধু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে সরকারের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলছেন তারা।

[৩] শুক্রবার (০৫ নভেম্বর) ভোর ছয়টা থেকে দেশের অন্যান্য জেলার মতো রংপুরেও চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। প্রতি লিটারে কেরোসিন ও ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধির পর বিভাগীয় ও জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটের কারণে বাস-ট্রাক-ট্যাংকলরিসহ পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

[৪] শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর বারোটায় সরেজমিনে রংপুর নগরের কামারপাড়া কোচ স্ট্যান্ড, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল, কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনাল, মর্ডাণ মোড় ঘুরে দেখা গেছে কোনো বাস ও ট্রাক চলাচল করছে না। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গাড়ি রাস্তায় নেমেছে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ছোট ছোট যানবাহনে গন্তব্যে ছুটছেন তারা। এতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। নগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে কথা হয় আতিকুর রহমান নামে এক চাকরিজীবীর সাথে। তিনি রংপুরে এসেছিলেন তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে। ঢাকায় ফিরতে দুদিন আগে টিকেটও কেটে রেখেছিলেন। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে এই চাকরিজীবী পড়েছেন দুর্ভোগে।

[৫] এ প্রসঙ্গে আতিকুর রহমান বলেন, যেভাবেই হোক ঢাকায় যেতে হবে। অফিস আদালত করতে হবে। আমার ছুটি শেষ। এখন চাকরি বাঁচাতে হলে ঢাকায় যেতে হবে। আত্মীয়স্বজনসহ রংপুরে এসেছিলাম। কিন্তু এখন তো ধর্মঘটের কারণে যেতে পারছি না। আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।

[৬] বাস কাউন্টারের ভিতরে মেয়েকে নিয়ে বসে চিন্তামগ্ন অভিভাবক আখেরুজ্জামান। নগরের কটকিপাড়ায় থাকেন তিনি। সকালে ঢাকা যেতে কোচ স্ট্যান্ডে এসে জানতে পারেন ধর্মঘটের কারণে বাস চলাচল বন্ধ। মেয়ের পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে শংকা প্রকাশ করে আখেরুজ্জামান বলেন, ‘আমার মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। কিন্তু এখন তো বাস বন্ধ। চিন্তা করছি মেয়েকে নিয়ে কিভাবে ঢাকায় যাব? পরীক্ষা তো দেওয়া লাগবে।’

[৭] একই অভিযোগ লালমনিরহাট থেকে আসা নাজমুল ইসলামের। তার স্ত্রীও পরীক্ষা দিতে ঢাকায় যাবেন। ট্রেনের টিকেট না পেয়ে রংপুরে এসেছেন বাসে করে যাত্রা করবেন। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘটের কারণে পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে চিন্তিত তারা।

[৮] ট্রাক ড্রাইভার সালাহউদ্দিন বলেন, ‘কোনো কথাবার্তা হঠাৎ করে লিটারে ১৫ টাকা করে দাম বাড়ানোর ঠিক হয়নি। সরকার তো তেলের দাম বাড়িয়েছে, গাড়ি ভাড়া তো বাড়ায়নি। এখন কারো কাছ থেকে বেশি ভাড়া চাওয়াটা মুশকিল। আবার টোলও বাড়ানো হয়েছে। এজন্য একটা সিদ্ধান্ত আসা দরকার। মনগড়া কোনো সিদ্ধান্ত ভালো না। এখন তো সব জায়গায় দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে।’

[৯] কামারপাড়া কোচ স্ট্যান্ডের এনা পরিবহনের কাউন্টারের সহকারি ম্যানেজার তোতা মিয়া বলেন, ‘তেলের দাম বাড়বে কিন্তু এভাবে হঠাৎ লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ানো কতখানি যৌক্তিক? আমরা তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করছি। এখন বাস ভাড়া না বাড়ানো ছাড়া আমাদেরও উপায় থাকবে না। কিন্তু আমরা যাত্রীদের সুবিধার্থে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সরকারকে পুনর্বিবেচনা করার দাবি করছি।’

[১০] প্রসঙ্গত, বুধবার (৩ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি গেজেটে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে প্রতি লিটার কেরোসিন ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে। এর আগে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি হতো ৬৫ টাকা করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত