প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: বাঙালির এখন দরকার বেশি বেশি বিতর্কিত মানুষ

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: টিকটকার অপু ভাইকে ওয়েব সিরিজে কাস্ট করা নিয়ে বিতর্ক দেখে মনে পড়লো, শিল্পী কবির সুমন মাস কয়েক আগেই লিখেছিলেন- আমার গান আর আজকাল তেমন কেউ শোনে না, ইউটিউবে লাখ লাখ ভিউ নেই…ইত্যাদি। তার আক্ষেপ মনে পড়লো যখন আজকে সুবর্ণা মুস্তফার একটা সাক্ষাৎকার দেখলাম। সেখানে তিনি বললেন- ফেসবুকে লাখ লাখ ফলোয়ার কখনো অভিনেতা বানায় না, অভিনেতা বানায় সৃজনশীলতা, প্রতিভা আর পরিশ্রম। কিন্তু প্রিয় সুবর্ণা মোস্তফা- এদেশে প্রতিভা, পরিশ্রমের মূল্যায়ন কে করবে?

মানি লন্ডারিং মামলার আসামী, ঘুষখোর সরকারি কর্মকর্তা নাকি তোষামুদে দলীয় শিক্ষক? এদেশে মিডিয়াকর্তা কারা? যারা মামলা চলাকালীনও ‘ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশান’-এর সংবর্ধনা পান- তারাইতো? নাকি আপনারা যারা ব্লগার হত্যা কিংবা যেকোনো বাক স্বাধীনতা বিরোধী আইন, বিভিন্ন খাতের দুর্নীতি নিয়ে একটি শব্দও করেন নাই? অপু ভাইয়ের মতো লাখ লাখ ভিউতো হিরো আলমের কাজেও আছে, কিন্তু সেই লাখ লাখ ভিউয়ের বস্তাপচা মানহীন কন্টেন্টের দায় কার?- আপনারই। কারণ আপনি ট্রল করতে গিয়ে ট্রলকে জনপ্রিয়তায় রূপান্তরিত করছেন, ভিউ বাড়াচ্ছেন, মাহহীন আজেবাজে বিষয়কে বানাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ। এখন দয়া করে তর্ক করতে আসবেন না- ‘মান কি’ সেটা নিয়ে।

আমি সবসময়ই বলি- ‘মান’ সম্মিলিত রুচির পরিচয়। কেউ জীবনানন্দ দাশের কবিতা বোঝেন না কিন্তু হিরো আলমের নর্তন কুর্দন বোঝেন বলেই যা বোঝেন তাকেই মনে করেন ‘সুরুচি’। আইন্সটাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব বোঝেন না বলে যেমন সেটা মানহীন অগুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় না, সেরকম হিরো আলমকে প্রমোশন দিলেই সে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় না। বরং একটা জাতির রুচির সম্মিলিত অবক্ষয় দেখায়। যে জাতি এককালে ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’ শুনে একটা প্রশিক্ষিত আর্মির সাথে যুদ্ধ করে নয় মাসে যুদ্ধ করে জিতেছিলো তারা ২০২১ সালে শুনছে হিরো আলম? কেন শুনছে? কারণ এই জাতির তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের অধিকাংশই কম্প্রোমাইজড। তারা শিখিয়েছেন কীভাবে আপোষ করতে হয় এবং কীভাবে নিজের স্বার্থ হাসিল করা যায়। কীভাবে একটা পদ বা পদবীর জন্য ‘অবিতর্কিত’ থাকা যায়। হিরো আলম কিংবা অপু ভাই বিতর্কিত বলেই জনপ্রিয়। এর সাথে বুদ্ধিমত্তার হয়তো সম্পর্ক নেই, কিন্তু সম্পর্ক আছে ব্লগার হত্যা, বই ব্যান করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইন করে মানুষের মুখ বন্ধ করার। ফলে এরচেয়ে ভালো ঘটনা কীভাবে আশা করেন? মানুষ সরকারের সমালোচনা করতে পারবে না, অমুক তমুক বিষয়ে কথা বলতে পারবে না, তাহলে অহেতুক ও অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক করবে না তো কি করবে?

অমর একুশে বইমেলা যারা শুরু করেছিলেন তাদের চিন্তা ছিলো জাতির মননশীলতার চর্চা শুরু করা, কিন্তু আপনারা এই বইমেলায় স্পোকেন ইংলিশ আর গত বইমেলায় বানিয়েছেন মোটিভেশনের বইকে বেস্টসেলার। আরিফ আজাদের সস্তা মিথ্যায় ভরা বই পেয়েছে বেস্টসেলার হওয়ার গৌরব। আগামীবার যদি বিসিএস গাইড বই একুশে গ্রন্থমেলায় বেস্টসেলার হয় তাতেও আমি একেবারেই অবাক হবো না। কারণ দেশের কর্মক্ষম ৭০ শতাংশ বেকারের কাছে সাহিত্য, শিল্প গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ খাওয়া পরা। যারা এখনো খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়নি, বাকস্বাধীনতা, মুক্তচিন্তার চর্চা শুরু করতে পারে নেই তাদের কাছ থেকে শিল্পবোধ আশা করা বেকুবি না? যে জাতি নিজেদের পতন নিজেরা ডেকে আনে, নিজেদের দায়িত্ব তুলে দেয় অযোগ্যদের হাতে, তাদের জন্য এটাই ঠিক আছে। হুমায়ুন আজাদের মতো আমি মনে করি- বাঙালির এখন দরকার বেশি বেশি বিতর্কিত মানুষ। সেটা হিরো আলম বা অপু ভাই যেইই হোক তাতে আমার সমর্থন আছে। মুখোশ পরে অবিতর্কিত হয়ে ক্ষমতার পূজা ছাড়া অবিতর্কিত থেকে আপনারা কোন ছাতার জায়গাটা তৈরি করেছেন? ঠিক কি কারণে লোকে আপনাদের ওপর ভরসা রাখবে? ফেসবুক থেকে, মামুন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত