প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাকন রেজা: অদম্য সাংবাদিকতা : বিরুদ্ধ সময় ও পক্ষ-বিপক্ষ

কাকন রেজা
ফ্রি প্রেস আনলিমিটেডের পুরস্কার পেয়েছেন প্রথম আলোর রোজিনা ইসলাম। সেরা অদম্য সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার প্রাপ্তি। এ বছর শান্তিতে নোবেল জেতা ফিলিপিনো সাংবাদিক মারিয়া রেসাও এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। মারিয়া রেসা ফিলিপাইনের ড্রাগ ডিলারদের বিপক্ষে সক্রিয় ছিলেন। সক্রিয় ছিলেন সরকারের অগণতান্ত্রিক, বেআইনি কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও এবং তাকে মাশুলও গুনতে হয়েছে। আর সে কারণেই তার নোবেল পাওয়া।

ফ্রি প্রেসের পুরস্কার মূলত বিরুদ্ধ সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য। লজিক অনুযায়ী ব্যাপারটি দাঁড়ায় দৃশ্যত একটা রেজিম, যা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিরুদ্ধ সময় তৈরি করে, স্বাধীন সাংবাদিকতা বিপন্ন হয়, তার বিপরীতে এমনসব পুরস্কার। অর্থাৎ এই পুরস্কার হলো বিরুদ্ধতার বিরুদ্ধে। আর পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক সেই বিরুদ্ধ পরিবেশের স্বীকৃতির উছিলা। আক্রান্ত একজনকে ঘিরে সেই পরিবেশটাকে সামনে আনার প্রচেষ্টা।

এখন প্রশ্ন হলো, বিরুদ্ধ পরিবেশের ব্যাপারটি অনেকে মানবেন কিনা। অনেকের মতে, হালে সাংবাদিকতার অসম্ভব রকম অনুক‚ল পরিবেশ বিরাজমান দেশে। সাংবাদিকরা প্রণোদনার টাকা পাচ্ছেন। করোনাকালীন বিপর্যয় কাটাতে সাংবাদিকদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ‘সাংবাদিক’ নেতারাও তা বলছেন। তাদের কাছে একমাত্র বিরুদ্ধতা ছিলো ব্যাংক হিসেব তলব করার ব্যাপারটি। এছাড়া মোটামুটি সব ঠিকঠাক, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া। সুতরাং বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ধরে ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড এর দেওয়া পুরস্কার কতোটা ঠিক হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারেন তারা।

তারা প্রশ্ন তুলুন অসুবিধা নেই। তবে এই পুরস্কার কিন্তু বিশ্ব এখন প্রশ্ন তৈরি করবে। এতোদিন আলোচনায় ছিলো, এই পুরস্কার সেই আলোচনাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফ্রি প্রেস আনলিমিটেডের কার্যক্রম নেদারল্যান্ড ভিত্তিক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খোদ সহায়তা দেয় সংস্থটিকে। সুতরাং প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক। এখন দেখা যাক দেশে এই পুরস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে কী আলোচনা হয়। হলে ব্যাপারটি ইন্টারেস্টিং হবে নিশ্চয়ই।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সর্বাধিক পঠিত