প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আপিল নিষ্পত্তির ৪ বছর আগেই দুজনের ফাঁসি

খালিদ আহমেদ: [২] দণ্ড কার্যকরের চার বছর পর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আপিল শুনানির।

[৩] ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে করা আপিলটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হলে আইনজীবী স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারেন, চার বছর আগে ২০১৭ সালেই দণ্ড কার্যকর হয়ে গেছে।

[৪] মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কখনোই আপিল শুনানি নিষ্পত্তির আগে সম্ভব নয়।

[৫] দুই আসামির বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারি ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে। তাদের একজন আব্দুল মোকিম মৃত মুরাদ আলীর ছেলে, অপরজন গোলাম রসুল ঝড়ু মৃত আকছেদের ছেলে।

[৬] যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর রাতে আসামি দুজনের ফাঁসি হয়।

[৭] আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির জানান, হাইকোর্ট ফাঁসির আদেশ দিলে এর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালেই আপিল করা হয়েছিল।

[৮] তিনি বলেন, ‘আসামির পরিবার দাবি করেছেন ৪ বছর আগে ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেছে। হাইকোর্ট যখন তাদের ফাঁসির আদেশ দেয় তখনই আমরা ২০১৩ সালে আপিল দায়ের করে রাখি। দীর্ঘ দিন পর আজকে তালিকায় আসে মামলাটি যেটি আপিল বিভাগের কার্য তালিকার ১১ নম্বরে আছে।’

[৯] তিনি বলেন, ‘মামলাটি যখন তালিকায় আসে, তখন আমরা আসামির পরিবারকে খবর দেই। তখন তারা এসে আসামি মোকিমের স্ত্রী জানান, চার বছর আগেই ফাঁসি কার্যকর করেছে। তার আগে কারাগারে তারা শেষ সাক্ষাতও করেছেন বলে তিনি জানান। ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ এনে দাফনও করা হয়।’

[১০] ঘটনাটি আপিলের দৃষ্টিতে এনেছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নে হুমায়ন কবির বলেন, ‘আজকে মামলাটি তালিকায় থাকলেও শুনানি হয়নি। যেদিন শুনানি হবে সেটি আদালতের দৃষ্টিতে বিষয়টি আনব। ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে তাহলে নিশ্চয় কারো না কারো ভুলে হয়েছে।’

[১১] বিষয়টি বিচারবিভাগীয় তদন্তের জন্য আবেদন জানাবেন বলে জানান এই আইনজীবী।

[১২] মামলা থেকে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন কুমারি ইউনিয়নের দুর্লভপুর এলাকার সাবেক মেম্বার মো. মনোয়ার হোসেন খুন হন। ওই ঘটনায় তার চাচাতো ভাই মো. অহিমউদ্দিন বাদি হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে মোকিম ও ঝড়ুর নাম আসে।

[১৩] পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এ মামলার বিচারে তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, দুইজনকে যাবজ্জীবন ও অপর আসামিদের খালাস দেয় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন একই ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, মোকিম ও ঝড়ু।

[১৪] বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুসারে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। মামলার ডেথ রেফারেন্স নম্বর ছিল ৩৯/২০০৮। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মোকিম ও ঝড়ুর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে ২০১৩ সালের ৭ জুলাই ও ৮ জুলাই মামলার রায় ঘোষণা করে। বাকি আসামিদের খালাস দেয়া হয়।

[১৫] পরে মোকিম (আপিল নং- ১১১/২০১৩) ও ঝড়ু (আপিল নং- ১০৭/২০১৩) মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন। তখন মোকিমের পক্ষে আপিল মামলাটি তদারকির দায়িত্ব পান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির। এরপর কেটে যায় আটটি বছর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সম্প্রতি আপিল মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় উঠেছে।

[১৬] অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনও তেমন কিছু জানি না। না জেনে তো এ বিষয়ে বলা ঠিক হবে না।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত