প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক মো. মসিউল আযম: করোনাকালে কালো রাতে হারিয়েছি এক উজ্জল নক্ষত্রকে

অধ্যাপক মো. মসিউল আযম: গত ২০২০ সালের ২৯’শে অক্টোবর ঠিক এক বছর পূর্বে এই দিনে, করোনা কালের ভয়ঙ্কর কালো রাতে আমার মেজভাই শহীদুল আযম (হেলাল)’ কে হারিয়েছি আমাদের মাঝ থেকে। মরহুম শহীদুল আযম আমার থেকে পাঁচ বছরের ছোট। আমার জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বও, আর তিনি ১৯৪৮ সালের ১লা ডিসেম্বরও জন্মগ্রহণ করেন। আমার বাবা মরহুম মকছেদ আলী বিশ্বাস ও মা মরহুমা মজিদা খাতুনের ০৯ সন্তান। ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে আমি বড় ও হেলাল মেজো ছেলে।

আমার মেজো ভাই হেলাল যশোর জেলার সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের একজন কৃতি সন্তান। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমি মানসিক দিক দিয়ে মুষড়ে পড়ি এবং হঠাৎ বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। এতটা দূর্বল হয়ে পড়ি যে পরবর্তীকালে আমি সম্পূর্ণ লেখনী শক্তি হারিয়ে ফেলি। প্রায় ৪ মাস যাবৎ শত চেষ্টা করেও কলম থেকে কোন লেখা বের করতে পরিনি।

আজ এইদিনে আমি তাকে নিয়ে অনেক অজানা গল্প, কাহিনী আমার ভক্ত পাঠকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্ঠা করব। শহিদুল আযম ১৯৬৩ সালে যশোর জেলা স্কুল হতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর যশোর সরকারী এম.এম. কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে মানবিক বিভাগ হতে উ”চ মাধ্যমিক। উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর হেলাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ কল্যান বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে মামা এনামুল হক (কোটন) ঢাকাস্থা ধানমন্ডির বাসায় লজিং থেকে পড়াশুনা করতেন।

এনামুল হক ছিলেন আনবিক শক্তি কমিশনের পরমাণু বিজ্ঞানী। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞান ড. এম.এ.ওয়াজেদ মিয়ার সহকর্মী। একই দপ্তরে কাজের সুবাদে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের কারণে দুই পরিবারের মধ্যেও ছিল খুবই সখ্যতা। ১৯৭১ সালে শহীদুল আজম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজকর্ম বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

বাড়ি থেকে স্কুল-কলেজে পড়ালেখাকালীন সময়ে দেখা গেছে, ডিকশোনারী হতে প্রতিদিন ১০টি ইংরেজী ওয়ার্ড (বাক্য) খাতায় লিখে তা রপ্ত করা। এভাবে বছরের ৩৬৫ দিনই চলতো তার সংগ্রহের কর্মযজ্ঞ। এর ফলে ইংরেজীতে অনর্গল কথা বলায় তিনি খুবই পারদর্শিতা অর্জন করেন। পরবর্তীকালে কর্ম জীবনে তার এই সাধনা ও অধ্যাবসায় খুবই কাজে আসে। প্রধান কার্যালয়ে কর্মজীবনে বিদেশী মেহমানদের সমস্ত প্রটোকল তাকেই দিয়ে হয়।

তিনি ১৯৭৪ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত পদে এ পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৪ সালে ২৬ জুন প্রথমে তিনি ইজউই’তে সহকারী পরিচালক প্রশিক্ষণ পদে প্রধান কার্যালয়ে (পল্লীভবন, কাওরানবাজার) যোগদান করেন। ১৯৭৮-১৯৮৫ পর্যন্ত উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসাবে দায়িত্বপালন করেন। এরপর ১৯৮৫-১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বগুড়া, রংপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি স্থাানে উপ-পরিচালক পদে মাঠ প্রশাসনে অত্যন্ত সততা, সুনাম ও দক্ষতার সাথে চাকুরীর পর আবার পদোন্নতি পেয়ে ১৯৯৯ সালে প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত Asian Development Bank (ADB) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত Rural Livelihood Project (RLP) প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসাবে দায়িত্বপালন করেন।

শহীদুল আযম দেশ ও বিদেশ বহু প্রশিক্ষণে অংশ নেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডের ম্যানেচেষ্টার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে Communitz Development বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে ফিলিপাইন হতে কৃষি ফসল বিপনন কৌশল এবং ১৯৯৬ সালে টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের মধ্যে ২০০১ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যথাক্রমে ঢাকা ও সিলেটে অংশ গ্রহণ করনে। তিনি বগুড়া জউঅ হতে ১৯৮৬ সালে সেচ ব্যবস্থাাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

বি.আর.ডি.বি’তে চাকরিকালীন সময়ে তিনি ছিলেন একজন প্রবাদ পুরুষ। প্রতিষ্ঠানের একজন তুখোড় চৌকস ও সৎ অফিসার হিসেবে সারা দেশে তাঁর যথেষ্ঠ সুনাম ছিল। যারা তাঁর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন, তাদের সকলের মুখে একইকথা তার মত এমন সুদক্ষ অফিসার আর ফিরে আসবে না এই দপ্তরে।

এছাড়াও সামাজিক ও পারিবারিক বহু দায়িত্ব কর্তব্য পালনে তিনি তার উদার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সর্বক্ষেত্রে। বি.আর.ডি.বি’তে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে চাকুরীকালীন সময়ে ১৯৭৮ সালে আমার মামাতো ভাই কাজী লতিফুল ইসলাম তাঁর বাসায় থাকতেন। তিনি তখন রুপালী ব্যাংকের এ.জি.এম। আমার ছোট ভাই শাহিকুল আজম (সাহিল), বর্তমানে যশোরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী (লোটো জুতা)-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়াকালীন সময়ে ৪ বছরের পড়াশুনার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার তিনি বহন করেছেন।

আমার নোয়াভাই জাহিদুল আযম মিলনকে তিনি দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমাদের পৈত্রিক সস্পত্তির ভাগের অংশ ফসলাদি তদারকী করা এবং বিক্রি শেষে তা বুঝে নেয়া। কুল বরইয়ের আচার দিয়ে দুধ ভাত খাওয়া ছিল তার খুব পছন্দের, এজন্যে প্রতি বছর মিলনকে বাড়ি থেকে আচার তৈরি করে ঢাকার বাসায় নিয়ে গেলে তিনি খুবই খুশী হতেন। তাঁর কাছে কোন প্রার্থী বা আত্মীয় স্বজনরা চাকুরী বা বদলী বিষয়ে দেখা করলে তিনি কখনও কাউকে নিরাশ করেননি। এসকল ক্ষেত্রে অনেকেই আমার শরণাপন্ন হলে, আমিও তাদের জন্য জোর সুপারিশ করেছি তাঁর কাছে। এক্ষেত্রে যারা উপকৃত হয়েছেন তারা এখনও পর্যন্ত কৃতজ্ঞার সাথে স্মরণ করেন তাঁকে।

আমি যখনই ঢাকায় কাজের ফাঁকে ঢাকা কাওরান বাজারে বি.আর.ডি.িবি’র প্রধান কার্যালয়ে যেতাম, আমাকে সাথে নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে তাঁর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বি.আর.ডি.বি’র মহাপরিচালক সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অরবিন্দ কর সহ অন্যান্যদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁদের দপ্তরে গেলে সম্মান-শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমিও নিজে সম্মানবোধ করতাম। এরফলে সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদকে সস্ত্রীক আমি দু’বার নজরুল ইসলাম কলেজের অনুষ্ঠানে আনতে সক্ষম হই। অরবিন্দ কর আমার গ্রামে শেকড়ের সন্ধানে একটি সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। তিনি আমার মায়ের পায়ে হাত দিয়ে ভক্তি শ্রদ্ধা জানান।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব জনাব কামাল সিদ্দিকীর সাথে বি.আর.ডি.পি’তে কাজ করার সুযোগ ঘটে শহীদুল আজমের। তিনিও খুবই পছন্দ করতেন তাঁকে। একদিন সন্ধ্যায় ঢাকায় তার বাসভবনে আমরা দু’ভাই সৌজন্য সাক্ষাতে যায়। চা-নাস্তা পর্ব শেষে প্রায় ঘন্টা খানেক যাবত আমরা খোশ গল্পে মেতে উঠি। আমাদের বিদায়ের কালে তিনি তাঁর দু’খানি গবেষনা বই “মৎস্য চাষ ও ফল চাষাবাদের” উপর লেখা ‘বাঁচতে শেখা’র নির্বাহী পরিচালক এ্যাঞ্জেলা গমেজকে শুভেচ্ছা স্বরুপ আমার হাতে তুলে দেন। গমেজ বই দুটি পেয়ে খুব খুশি হন। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান আমাদেরকে।

একটি স্মরনীয় ঘটনার কথা তিনি আমাকে জানান। শহীদুল আজম কিশোরগঞ্জ জেলার বি.আর.ডি.বি’র উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত। বাংলাদেশের তখন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। তিনি ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার অধিবাসী। একদিন অফিস চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব তাঁকে টেলিফোনে জানান আপনি আগামীকাল সন্ধ্যার পর রাষ্ট্রপতির কিশোরগঞ্জ বাসভবনে দেখা করেন। যথারীতি সালাম বিনিময়ের পর রাষ্ট্রপতি তখন তাঁর দলীয় লোকজনদের সরিয়ে একান্তভাবে তাঁকে বললেন, আমার একজন নিকটতম জন আমাকে ধরেছেন একটি বদলীর বিষয়ে। আমার ভাই অত্যান্ত বিনীতভাবে বললেন, আপনি বলা মানেই আদেশ। কিন্তু স্যার এই জেলার অভ্যন্তরেই আমার বদলীর ক্ষমতা। আপনি প্রধান কার্যালয়ে বললেই তো তাঁরা ব্যবস্থাা নিতে পারেন। রাষ্ট্রপতি আরও বিনয়ের সুরে বললেন, তা হয় না। আপনাকে পাশ কাটিয়ে আমি উপর মহলে বলতে চাই না, তবে আমার লোকজন তো চইবে। কিন্তু আপনার ক্ষমতা আপনি প্রয়োগ করবেন। রাষ্ট্রপতির এমন আচরণে তিনি অত্যন্ত গভীরভাবে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তার প্রতি।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটি’তে Development Officer, Czclone Preparedness Programme পদে প্রথমে ভোলার চরফ্যাশনে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সেবার সমুদ্র উপকুলবর্তী এলাকায় যান ঘূর্ণীঝড় আশ্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। সেখানে জনসভায় ভাষণ দান শেষে শহীদুল আজমের পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, আমার জনগন থাকলো, আপনি দেখবেন। কর্মস্থাল চরফ্যাশন কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার সাথে আমার ভাইয়ের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি পরবর্তীকালে যশোর শিক্ষাবোর্ডের ভিজিলেন্স টিমের সদস্য হিসেবে উ”চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে গোলাম মোস্তফা আমাকে পেয়ে খুবই আনন্দিত হন।

একজন সফল চাকুরিজীবির সাথে সাথে তিনি ছিলেন একজন সফল পিতা। ছেলে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তার ছেলে ড. মোহাম্মদ শাকিফ-উল-আযম (দীপ্ত) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ভেটেরিনারি সাইন্স বিভাগে খুব থেকে সফলতার সহিত স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে ২০০৫ সালের ০২’রা জুলাই ২৪’তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীণ হয়ে প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে যোগদান করেন। বর্তমান তিনি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালতি ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসাবে। তার বৌমা ডঃ দীপ্তর সহধর্মিনী চৌধুরী ওয়াহিদা সুলতানাও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃষি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন এবং ২৯’তম বিসিএস পরীক্ষায় উর্ত্তীন কৃষি ক্যাডার যোগদান করেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সরকার ও ইফাদের যৌথ অর্থায়নে পরিচালতি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Small Holder Agricultural Competativness Project (SACP)-এ সিনিয়র মনিটরিং অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। পিতৃতুল্য শ্বশুরের প্রতি তার ছিল অকৃত্রিম ভক্তি ও শ্রদ্ধা। অফিস শেষে বিকেলে বাসায় এসে প্রথমেই তার খোঁজ খবর নেওয়া ছিল তার নিত্য দিনের অভ্যাস। মেয়ে শামীমা আযম সায়মা ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। সায়মার স্বামী ২৯’তম বিসিএস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েছে কাস্টম ক্যাডারে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি ডেপুটি কমিশনার হিসাবে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার দায়িত্ব রয়েছে। আমার ছোট্ট ভাই হেলাল বৌমা এবং জামাইকে খুবই স্নেহ করতেন ঠিক যেন নিজের মেয়ে ও ছেলের মত।

এবার আমি শাহীদুল আজমের আমার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির কিছু কথা উল্লেখ করবো। অবসর গ্রহণের পর তাঁর দৈনন্দিন কর্মসূচী ছিল, পৌত্র সাওম’কে ঢাকা মিরপুর টোলারবাগ বাসা হতে মনিপুরী স্কুলে পরবর্তীকালে ঢাকা মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সসিয়াল মডেল স্কুলে আনা নেয়া করা। প্রতিদিনের তার স্কুলের পড়াশুনা, খেলাধুলা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া, স্থাান লাভ ইত্যাদি বিষয়ে সন্ধ্যায় আমাকে জানানো। আর ঢাকা জাতীয় পত্রিকায় চিঠিপত্র, কলামে নিয়মিত লেখা ছিল তাঁর অভ্যাস। লেখা ছাপা হলেই আমাকে জানাতেন সেটি দেখার জন্য।

শহীদুল আজম ২০১৯ সালে রমজানের ১ মাস পূর্বে গ্রামের বাড়িতে আসেন। আমরা ৩ ভাই আমাদের পারিবারিক মাজার জেয়ারত শেষে আমাকে তাঁর অভিপ্রায়ের কথা জানালেন। ভাই আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ কি আছে? পাশে সাথে আমার সেজ ভাই মহিরুল আজমও ছিলেন। তিনি জানালেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী রমজান মাসে ওমরাহ হজ্জে যাচ্ছেন। আপনি যাওয়ার প্র¯‘তি নেন। উল্লেখ্য, আমার ওমরাহ পালনের সমুদয় খরচ তাঁরা দু’জনই বহন করেন। শহীদুল আজম দুইবার পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেছেন।

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ১লা মে ২০১৯ রাত ১১টার পূর্বে আমাকে ঢাকা বিমান বন্দরে পৌছাতে হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি আমার বড় মেয়ে নূপুরের ঢাকা মিরপুরের বাসায় উপস্থিাত হন। রাতে এক সাথে আহার শেষে আমি দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করি। আমাকে বিদায় জানাতে সেদিন আমার মেয়ে জামাই নাতী-নাতনী, আত্মীয় স্বজনেরা উপস্থিাত হন। ঐ সময় তিনি আমাকে বললেন, ভাই একটু দাঁড়ান। এই বলে বসে আমার পায়ে হাত দিয়ে সালাম ও কোলাকুলি করেন। বড় ভাইয়ের প্রতি এ ধরনের শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রত্যক্ষ করে সকলেই খুব মুগ্ধ হন।

১৯৯১ সালের একটি বিশেষ স্মরণীয় ঘটনা। শাহীদুল আজম তখন রংপুর জেলার বি.আর.ডি.বি’র উপ-পরিচালক। আমার মামা এনামুল হক ঢাকা পরমাণু বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী। তিনি শহীদুল আজমকে জানান, আমরা ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তোমার বাসায় নৈশভোজে অংশ নেবো। উক্ত দলের বিশেষজ্ঞ প্রধান হিসেবে উপস্থিাত ছিলেন এনামুল হক, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ডঃ এম.এ. ওয়াজেদ মিয়া, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতাধীন ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড অ্যালাইড সাইন্সের রংপুর শাখায় আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন স্থাাপনের লক্ষ্যেই উক্ত টিমের আগমনের উদ্দেশ্য। আমার ভাইপো ড. শাফিক উল আজম (দীপ্ত) অস্ট্রেলিয়া গড়হধংয বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন।

তিনি তখন রংপুর জেলা স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। দীপ্ত একটি স্মরণীয় ঘটনা আমাকে জানান- সেই দিনটির কথা তাঁর স্পষ্ট মনে আছে। মায়ের কাছ থেকেও জেনেছি ৮ সদস্যের উক্ত নৈশ ভোজে খাবারের মেন্যু ছিল মুরগী, গরুর মাংস, মাগুর মাছ, ভাজি ও ডাল। ড. ওয়াজেদ মিয়া’র মাগুর মাছ খুব পছন্দের খাবার ছিল। খাবার পরিবেশন কালে আমার ভাইয়ের স্ত্রীকে হাস্যরসিকতা ছলে বলেন, মাগুর মাছের সাথে মাথা ও লেজ যদি তার পাতে দেয়া হয় তবেই তিনি খেতে বসবেন। সেদিন সকলে পরিতৃপ্তি সহকারে খাবার খেয়ে রান্নার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

করোনা কালে হারিয়ে যাওয়া সেই উজ্জ্বল নক্ষত্র শহীদুল আজমকে নিয়ে লেখা এটি আমার শেষ পর্ব। যা তার ছেলে আমার ভাইপো ডঃ দীপ্তর কাছ থেকে শোনা। সেপ্টেম্বর, ২০২০ তারিখের শেখ সপ্তাহ। হঠাৎ করে বাবার জ্বর এসেছিল, সে জ্বর ছিল ২-৩ দিন। ৩০ শে সেপ্টেম্বর বাবা বললেন, শরীরটা খারাপ লাগছে। গা দিয়ে ঘাম ঝরছে। মুখে খাবারের কোন স্বাদ নেই। আমি বাবাকে ২টি লেবু চিপে হালকা লবন দিয়ে খেতে দিলাম, তিনি কিছু ভাল বোধ করলেন।

করোনা পরিস্থিাতির কথা বিবেচনা করেই Pulse Oximeter দিয়ে অক্সিজেন লেভেল মাপা হলে হঠাৎ করেই ৮৩-৮৪ হয়ে গেলে ভয় পেয়ে গেলাম। সাথে সাথেই তার ভাইরা ইবনে সিনা হাসপাতালের ডাক্তার জাকিরকে জানানো হয়। তিনি হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। ডা: জাকির বলেন মুগদা জেনারেল কোভিড রোগী চিকিৎসা ভাল সেদিন রাত বেশি হওয়াই পরদিন ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রতিদিনের মত সেদিনও সকালে আমরা এক সংগে নাস্তা খায়। ইদানিং খুব লক্ষ্য করছিলাম নাস্তায় বা দুপুরের খাবার তরকারি বা ভাজি জাতীয় খাবার তিনি মোটেও পছন্দ করতেন না। যা আমাকে খুব অবাক করতো এবং সত্যি বলতে মাঝে মাঝে আমি খুব বিরক্ত বোধ করতাম।

হাসপাতালে প্রথম অবস্থাায় বাবার ঠাই হয় ৮ তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে ৯১৭ নং বেডে। সেখানে তখন রোগীর সংখ্যা ছিল বাবা সহ ৩জন। সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডের অবস্থাা অনেকটা বেহাল সেটা সবাই জানে। বাবা তাঁর জীবনে ২০১৪ সালে দাঁতের চিকিৎসার জন্যে একবারই ঢাকা ডেন্টাল হাসপাতালে দাঁতের টিউমার চিকিৎসার জন্যে ভর্তি হন।

আমাদের পরিবারের লোকবল কম হওয়াই বাবার সাথে থাকার জন্যে হাসপাতালের ওয়ার্ডের একজনকে প্রতিদিন সকাল ৮টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত ১,০০০/- টাকা চুক্তিতে ঠিক করি। ওয়ার্ডে তিনি ভালই ছিলেন, শুধুমাত্র কমন টয়লেট বলে তার পছন্দ ছিল না। চেষ্টা করতে থাকি কেবিনে শিফট করার। পরে ৩ অক্টোবর হতে ১২ তলার ১২১৬ নম্বর কেবিনটি বরাদ্দ হয়। কেবিনে বাবাকে যাতে একা থাকতে না হয় সেজন্যে আমার বোন সায়মার ড্রাইভার খালেদ মাসুদকে বাবার সাথে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সবকিছু ঠিক চলছিল। হাসপাতালের ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক তাঁর এক্সরে, রক্তসহ কিডনী পরীক্ষার জন্যে মেডিনোভা হাসপাতালে ব্যবস্থাা করা হয়।

এই পরীক্ষাগুলোর ব্যবস্থা মুগদা সরকারী হাসপাতালে নেই। পরীক্ষা শেষে তিনি সেদিন কেবিনে গোসল করার পরই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অক্সিজেন লেভেল ৩০-৪০ এ নেমে আসে। মুগদা হাসপাতাল হতে ড্রাইভার মাসুদের ফোন পেয়ে বাসা থেকে তার ড্রাইভার গাজীকে নিয়ে হাসপাতালে পৌছানোর পর দেখি বাবা প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট পাচ্ছেন। উপস্থিাত সবাই তখন বাবাকে ওঈট তে শিফট করার পরামর্শ দিচ্ছিলেন। ইতোমধ্যে ডা. জাকিরের মাধ্যমে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তপুর সাথেও আমি নিজে আমার শ্রদ্ধেয় স্যার সুফিয়ানের বন্ধু ডা. নাজিম এর সাথেও যোগাযোগ করা হয়। তারা সকলেই চেষ্ঠা করতে থাকেন ১টি সিট বরাদ্দের জন্যে। অতঃপর ৩য় তলার (High Dependencz Unit) ১টি সিট বরাদ্দ পাই।

এই প্রথমবার দেখলাম সরকারি হাসপাতালের ১টি সিট বরাদ্দের জন্য কেমন জঘন্য সংগ্রাম করতে হয়। অবশেষে ডাক্তার তার মহা মূল্যবান কলমের কালি দিয়ে ঐউঠ এর ৬নং বেড বরাদ্দ দিলেন। বেড পাওয়ার পরও অপেক্ষা করতে থাকলাম কখন বাবাকে সেখানে শিফট করতে পারবো। সময় লাগছিল, কারণ সেই বেডে তখনও ছিল ১টি মৃত ব্যক্তির লাশ। বিশ্বাস করুন বা নাই করুন আমি মনে মনে চাচ্ছিলাম যতদ্রুত লাশটা সরে যাবে, আমার বাবা তত দ্রুত Highflow O২ পাবেন। ৪ঠা অক্টোবর দুপুর ১.৩০ মিনিটে HDV এর ৬নং বেডটিতেই বাবার স্থাান হল, কি করে জানব যে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাবার ঠিকানা হবে ঐউঠ । দিন ও রাতের বেলা অন্যান্য রোগীদের ন্যায় পালাক্রমে বাবার সাথেও একজন থাকতেন।

প্রথম দিকে আমার বোন সায়মার ড্রাইভার মাসুদ দিনে এবং বাবাকে দেখার জন্য রেহানা নামে একজন আয়াকেও রেখেছিলাম। তাদের কাজ ছিল পর্যবেক্ষণ করা। রোগীর বাথরুম পরিষ্কার, খাবার খাওয়ানো, আনুসঙ্গিক কাজে সাহায্য করা। আমার কাছে Savina ৩০০ কে জটিল একটি যন্ত্র বলে মনে হয়, যাকে কিছুক্ষণ পর পর খাদ্য হিসাবে Distilled Water দিতে হতো। প্রচন্ড শব্দ সৃষ্টিকারী বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রটি ২৪ ঘন্টা বিরামহীন ভাবে চলতো। অন্যান্য রোগীর ন্যায় এই যন্ত্রের মাধ্যমে তরল O২ কে মানুষের শ্বাসযযোগ্য করাই ছিল এর প্রধান কাজ। যা আমাকে যারপরনাই অবাক করতো। সময় পেলেই আমি ভাবতাম মহান আল্লাহ পাক এই পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের দিনের পর দিন অবিরাম বিনা পয়সায় বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করে যাচ্ছেন। অথচ এই সরবরাহকৃত অক্সিজেনের কোন মূল্য দিতে হয় না।

ড. দীপ্ত জানান, তাঁ=র এক ভক্ত নাদিম তার সাথে পরিচয় হয় জাতীয় চিড়িখানায় কাজের সুবাদে। তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় রোগীর সেবার। দুই মাস আগে তিনি একজন কোমায় আক্রান্ত রোগীর সেবা করেছেন। এই দুঃসময়ে তাঁকে পাওয়া এটি সৌভাগ্যের বিষয়। ১৫ অক্টোবর হতে একবার অফিসে যাওয়ার পূর্বে হাসপাতালে যাওয়া এবং প্রতিদিন রাত ১১টা বা কোন কোন দিন রাত ২টা/ ৩টা পর্যন্ত কাটিয়েছি বাবার পাশে। এর ফলে, লক্ষ করতাম বাবার আত্মতুষ্টি। অনেক বিষয় নিয়েই তাঁর সাথে গল্প করতাম। বাবাকে যখন বলতাম, তুমি আমার আদর্শ, তুমি আমার আইকন। এতে খুব খুশী হতেন। ফলে আশাবাদী হয়ে উঠলাম বাবা সুস্থা হবেন। এটাই বোধ হয় আমাদের কাল হল। ২২ অক্টোবর সকালে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসার পূর্বে বাবাকে বললাম, বাবা আজ আমি আসব না। কাল সকালে এসে দেখা করব। তিনি হাসিমুখে আমাকে বিদায় দিলেন।

২৩ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টায় নাদিমের মোবাইল ফোনে ঘুম ভাঙে, জানলাম বাবা হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তখুনি একটি উবার ট্যাক্সি নিয়ে ভোর রাতে হাসপাতালে পৌছালাম। ডিউটিরত ডাক্তারের কাছ থেকে জানা গেল, ১টি Portable X-raz থাকত তাহলে Lungs’ র সর্বশেষ অবস্থাটা জানা গেলে চিকিৎসা ভাল করা যেত। ঐ দিন বিকেলে বাবাকে দেখতে আসেন আমার বড় চাচা মসিউল আজমের বড় মেয়ে নুপুর ও ছোট মেয়ে শিল্পীর পরিবার, সেজ চাচার মেয়ে চুমকী ও দুলাভাই এবং ফুফুর ছেলে মিহির। সবচেয়ে অবাক হতে হয় যারাই তাকে দেখতে আসতেন সবাইকে ঠিক ঠাক চিনতেন এবং হাসিমুখে কথা বলতেন দোয়া করতে এবং বিদায় বেলায় বলতেন তিনি ভাল আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসনাধীন অবস্থায় আমার মা ও স্ত্রী একদিন বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন। বাবা সেদিন গ্লাভস পরিহিত মায়ের হাতটা ঠিক মতে স্পর্শ করতে পারেননি। সেদিন ছিল এ জীবনে বা-মার শেষ স্বাক্ষত।

আমার ছোট্ট বোনের স্বামী কাষ্টমস কর্মকর্তা রিয়াদুল হাসপাতালে একটি Portable X-ra মেশিন জোগাড় করে দেন। ২৮ তারিখ সকালে মেশিনটি হাসপাতালে ঢুকবে এটি বাবাকে আগেই জানান হয়। তিনিও মনে মনে প্র¯‘ত ছিলেন এবং খোঁজ নিচ্ছিলেন। পরে মেশিন চালানোর পর বারবার চেষ্টা করেও ভাল ছবি না পাওয়ায় ৩ বার পর ফল পাওয়া যায়। সংগ্রহকারীকে রিপোর্ট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তেমন কিছু বলতে পারলেন না। কাকতালীয় ভাবে ডাঃ নাজিম ঐ সময় বাবাকে দেখতে আসেন। তিনি রিপোর্টটি দেখে বললেন, তার সারমর্ম বাবার ডান ও বাম উভয় ফুসফুসই সংক্রমিত হয়ে এসেছে। মোট কথা তাঁর শারীরিক অবস্থাা ভাল নয়। খবরটা শোনার পর আমি আরও ভেঙে পড়ি।

আমি বাবার কাছে মাফ চেয়ে নিই। সেদিন আমি অনেক কেঁদেছি। বাবা বোধ হয় আঁচ করতে পেরেছিলেন এবং বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন আমার রিপোর্টটা খুব খারাপ। আমি বাবাকে সেদিন সত্যিটা বলতে পারিনি। কে জানতো সেদিনই ছিল আমার বাবার শেষ দিন। ২৯ অক্টোবার ভোর ৩.২৫ মিনিটে আমি আমার চ্যাম্পিয়ন বাবাকে চিরদিনের মতো হারিয়ে ফেললাম। বাবা আমি তোমাকে খুব মিস করছি ……..

অন্তিম মূহুর্তে হাসপাতালের বেডে শিয়রের ধারে ছায়ার মতো দেখতে পান তিনি একজন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ তিনি বলেন উঠেন…কে? উপস্থিাত সকলে বিষয়টি জানার জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠেন। তখন তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা চিনবা না…….। মৃত্যর ঠিক আগ মুহুর্তে মানুষের বাঁচার প্রচন্ড এক আকুতি থাকে, আমি সেইদিন তা লক্ষ্য করেছিলাম। এরপর পরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যায় সেই উজ্জল নক্ষত্রটি। সেখান হতে আর কেউ কোন দিন ফিরে আসে না…….।

প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক ও উন্নয়ন কর্মী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত