প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা ‘উৎসব’ দেখতে চাই

দীপক চৌধুরী
শুধু আইন করেই সবকিছু করা সম্ভব হয় না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেমন শুধু আইন করেই মজবুত করা যায় না তেমনই নির্বাচন প্রক্রিয়াও। শুধু আইন করেই শতভাগ সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হয় না। তবে আইন লাগে। নীতি-বিধানের দরকার হয়। প্রয়োজন পড়ে আন্তরিকতার। দুর্নীতি সেসব ক্ষেত্রে খুবই কম হয়ে থাকে। তৃণমূলে যে ধরনের অবস্থা জনগণ দেখছে এতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা যায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা ‘উৎসব’ দেখতে চাই। তৃণমূলের সবচেয়ে ‘আকর্ষণীয় উৎসব’ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। অথচ এটি এখন কারো কারো কাছে বিস্বাদ হয়ে উঠেছে। শুধু তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতার কারণে। তারা উপজেলা-জেলার তদারকি করছেন। তদারকির নামে সেখানে কী হচ্ছে এর খোঁজ কতটুকু নেওয়া হচ্ছে? স্থানীয় কোনো কোনো নেতার দায়িত্বহীন আচরণ মানুষকে বিস্মিত করেছে। শুধু আওয়ামী লীগের কথা-ই বলছি। বোঝা যাচ্ছে বিএনপি এখন কোনো ইস্যু নয়। তারা এরমধ্যে নির্বাচন করবে না বলে ঘোষণাই দিয়ে রেখেছে। এতে কী বিএনপির তণমূলের আগ্রহী প্রার্থীরা আঙ্গুল চুসবে। শোনা যায়, তারা ফাঁকে- ফোকরে তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে ‘সমর্থন নানা উপায়ে ম্যানেজ’ করে স্বার্থ হাসিল করছে। এর ফলে যারা দুর্দিনের প্রকৃত বন্ধু ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ-কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী তারা ভয়ংকর বিপদের মুখে। বারবার ভাষণে-বক্তৃতায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জঙ্গি-জামায়াত বন্ধুবেশে যেনো কোনোভাবেই দলে প্রবেশ করতে পারে না, এ ব্যাপারে কঠিন দৃষ্টি রাখতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু এরপরও কতিপয় তৃণমূল নেতার আচরণে বিস্মিত হই। রাজাকার-জামায়াত পরিবারের সদস্য কীভাবে আওয়ামী লীগে ঢুকতে পারে? ১৯৭১-এ আওয়ামীবিরোধি পরিবারের সদস্য কী করে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান লাভ করে? অর্থবিত্তশালী হলেই হলো নাকি! বিভিন্ন জেলায় এমন কিছু নমুনা পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

২. দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ৩১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে যাচ্ছেন। আগামী ১১ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপের ৩৬৪টি ইউপি নির্বাচনে মোট ৭১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এই ৭১ জনের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। সম্ভবত এটাকেই বলে ‘নির্বাচনি জোশ।’ নাকি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকায় সাহসী প্রার্থী নেই।

দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬টি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ছিল ১৭ অক্টোবর। গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ধাপে ১ হাজার ৭টি ইউপিতে নির্বাচন হবে ২৮ নভেম্বর। তৃণমূলে ইউপি চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী এমন অনেক নির্ভেজাল ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে কৌশলে বাদ দেয়া হচ্ছে। ধমক দেয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবনের সিংহভাগ কাটিয়েছেন এমন কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে অর্থের অজুহাতে। আর্থিক অনিয়ম তো আছেই। কেন্দ্রে এসব খবর পৌঁছেই না। হয়তো চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তাদের নাম-তালিকা কেন্দ্রে কখনো পৌঁছাবে না। অথচ কাজ হয়নি কিন্তু সরকারি অর্থ খরচ হয়ে গেছে কিংবা কাজ নামমাত্র হলেও অথচ অর্থ খরচ হয়ে গেছে- এমন প্রকল্পেরও দায়িত্বে থাকা দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান বা তৃণমূলের ব্যক্তিদের নাম আবারো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারাই নাকি মনোনয়ন পাবে! গ্রামগঞ্জে- হাটবাজারে তো তাই শোনা যায়। সুতরাং তৃণমূলে যাতে কোনোরকম অনিয়ম না হতে পারে তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংগঠনিকভাবে এর কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আহারে- উহারে বলে লাভ নেই। একটা কথা আছে, সময় থাকতে ভাবো- রে মন।

৩. নানানরকম খেলা চলছে। লন্ডন থেকে নির্দেশ আসছে। বিদেশে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে একটি শক্তিশালী চক্র। এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এখন দেশবিরোধী নানামুখী ষড়যন্ত্র যে হচ্ছে এটা বাঙালি বুঝতে পারে। দেশে-বিদেশে সংঘবদ্ধ চক্রের এই ষড়যন্ত্র। তারা কিছু কিছু অঞ্চলে দলের তৃণমূলে ঢুকে পড়েছে। তাদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে কারা? বের করা দলের স্বার্থেই জরুরি। খেয়াল করলে দেখা যায়, মিথ্যাতথ্য বা গুজবকে ইস্যু করে এদেশে ‘উস্কানীমূলক ভিডিও ’, সামাজিক যোগাযোগ বা মোবাইল ফোনে অপপ্রচার করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে একটি মহল। অথচ এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক। হাজার বছরের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে কারা নষ্ট করতে চায় এটি বের করা জরুরি।

৪. জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মনের কথা জানতে পারতেন। জনগণের চোখের চাওয়া দেখেই বুঝতে পারতেন লোকটির উদ্দেশ্য। কারণ, বঙ্গবন্ধু এদেশের প্রতিটি অঞ্চল, শহর , থানা ঘুরে বেড়িয়েছেন সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তারা প্রাণ দিয়ে শহীদ হয়েছে দেশের জন্য। আর এ কারণেই স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অথচ এদেশেরই একদল ঘাতকের হাতে তিনি জীবন দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলেছেন দুর্বারগতিতে। তিনি প্রিয় বাংলাদেশ নতুনভাবে নির্মাণে বাঙালির সুদক্ষ নেত্রী, বাঙালির আস্থার জায়গা তিনিই। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে জনগণের রায়ে নির্বাচিত হওয়ার পর গণভবনে তৃণমূল নেতাদের দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন। তাঁর প্রতি তৃণমূল নেতাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা শুনেছেন, অভিযোগ- অনুযোগ শুনেছেন। তিনি বলেছেনও, তৃণমূলই আমাদের অন্যতম শক্তি।
লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

সর্বাধিক পঠিত