প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আদমদীঘিতে বিনা-১৭ ধান কাটা শুরু

আমিনুল জুয়েল: [২] বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় স্থানীয় জাতসহ বেশ কয়েক জাতের ধান রোপণ করেছে কৃষকরা। শীষগুলো পুষ্ট হয়ে হলুদ আকার ধারণ করতে আরও ২০-২৫ দিন লাগবে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বিনা-১৭ নামের ধান পেকেছে। কৃষকরা এখন এই বিনাধান কাটতে শুরু করেছে।

[৩] সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটা শুরু হয়। কিন্তু একই সময়ে বিনা-১৭ ধান রোপণ করা হলেও অন্যান্য ধানের তুলনায় আগেই পেকেছে। এই ধান উৎপাদনে সময় ও খরচ কম হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা বিনাধান চাষে ঝুঁকছেন।

[৪] কৃষকরা বলছেন, রোপণের ১১০ দিনের মাথায় এ ধান কাটা যায়। ধানগুলোর ছড়া (শীষ) অন্য ধানের চেয়ে বড়, রংও উজ্জল হলুদ। অন্যান্য ধানক্ষেত এখনও গাড় সবুজ অথচ বিনাধান-১৭ আবাদ করা হয়েছে যে জমিতে তা পেকে গেছে। আবার অনেক জমির ধান কেটে রোদে শুকাতে দিয়েছে কৃষকরা।

[৫] উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে-স্বর্ণা-৫, রনজিত, পাইজাম, হাইব্রিড, ব্রি-ধান ১১,৩৪, ৪৯ এবং ৬২সহ বেশ কিছু স্থানীয় জাতের আমন ধান রোপণ করেছে কৃষক। নিজ আগ্রহে এবছর অনেক কৃষকই বিনা-১৭ ধান চাষ করেছেন।

[৬] সদর ইউনিয়নের শিয়ালসন গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন জানান, বিনা-১৭ ধান চাষের মূল লক্ষ্য ওইসব জমিতে আলু বা সরিষা চাষ করা যাবে। কারণ, ১০০ দিনের মধ্যে এই বিনাধান পেকেছে। এখন আমি অনায়াসে এসব জমিতে রবিশষ্য বপণ করতে পারবো।

[৭] আরেক কৃষক হারুনুর রশীদ জানান, একমাস আগেই বিনাধান ঘড়ে তুলতে পেরে আনন্দ হচ্ছে। ফলনও ভাল পেয়েছি। এই মৌসুমে ১৫ কাঠা জমিতে বিনাধান রোপণ করেছি। পরের বছর আরও বৃদ্ধি পাবে।

[৮] এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, আমন ধানের স্বাভাবিক জীবনকাল ১৪৫-১৫০ দিন হলেও বিনাধান ১১০ দিনেই পেকেছে। খরচ কম, ফলনও বেশি। দ্রুত ধান পেকে যাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হবেন কৃষক। বিশেষকরে, এই এলাকার যেসব কৃষকরা আলু, সরিষা, ডাল এবং পেঁয়াজ চাষ করবেন তাদের জন্য খুবই লাভজনক একটি ব্যাপার। এছাড়া দুই ফসলি জমিতে বিনাধান-১৭ আবাদে তিন-চারবার ফসল চাষ করা সম্ভব বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত