প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরুল হক: দেশে কেন স্পোর্টিং পিচ বানানো হয় না?

মঞ্জুরুল হক
জেফরি বয়কট কুকনিজ একসেন্টে ইংরেজি বলতেন। যেমন কলকাতাকে বলতেন ‘ক্যালকুত্তা’! সৌরভকে বলতেন, ‘প্রিন্স অব ক্যালকুত্তা’! তিনি শারজাহ মাঠে থাকলে হয়তো বলতেন, ‘দিস ইজ নত আ কিরকিত! অল আর ফুলিশ, নাথিং তু সে এবাউত দেম’! আসলেই। এটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামর্থ্য। তারা তাদের সর্বোচ্চ এফোর্ট দিয়ে এতোটুকুই পারেন। এবার আপনি বোর্ড, ভাষ্যকার, ক্রিটিক, আবেগের নৌকা তালগাছে ওঠানো দর্শক আর মহাপণ্ডিত ক্রিকেট লিখিয়েদের বহুলচর্চিত এবং চর্বিত বাণীসমূহ কমোডে ফেলে ফ্ল্যাশ করে দিতে পারেন। নো ওয়ে। বাণীগুলো মনে আছে তো? ‘আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আল্লাহর রহমতে জিতবো।’ ‘এই ম্যাচে অমুক অমুক ভুলগুলো না করলে জিততাম। পরের ম্যাচে এই শিক্ষা কাজে লাগাবো।’ ‘আমরা প্রতি ম্যাচেই শিখছি। নবীন দল। সময় দিতে হবে।’ ‘ওই ক্যাচটা, সেই স্ট্যাম্পিংটা, অমুক রান আউট চান্সটা মিস না হলে কিংবা অমুক লফটেড শটটা না খেললে জিততাম।’ ‘আমরা সর্বোচ্চ এফোর্ট দিয়েছিলাম, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিলো না, তাই জিততে পারিনি।’ ‘আমাদের সাকিব-মোস্তাফিজ আইপিএল-এ খেলে প্রভ‚ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।’ ‘আমিরাত-বাংলাদেশের কন্ডিশন প্রায় একই।’ ‘অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারানো আমাদের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।’ ‘এবার আমাদের চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার কিছু দেখি না।’

কমোডে ফেলে ফ্ল্যাশ করেছেন তো? এবার রেকর্ডে চোখ বুলিয়ে নিন। দুধকে দুধ, পানিকে পানি মিলে যাবে। ২০০৭ সালে প্রথম ম্যাচেই সাউথ আফ্রিকাকে হারানো। হ্যাঁ, এখন পর্যন্ত ৫টি টি-২০ বিশ্বকাপে ওই একটিই জয় বাংলাদেশের, আর এবার কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ২টি, পাপুয়া নিউ গিনি আর ওমান। এই হলো পুঁজি। এই রেকর্ডধারী দলকে আপনারা চাঙ্গে ওঠাবেন না মাথায় তুলবেন সেটা তাদের দায় নয়। আপনাদের, মানে আমাদের দায়। বারবার সুইচ শট খেলতে গিয়ে আউট হওয়া মুশফিক তো ঠিকই বলেছে, ‘আয়নায় মুখ দেখুন’… বিলকুল ঠিক। আপনি মিরপুরের গিশ টার্নিং পিচে সাড়ে চারটা স্পিনার নামিয়ে আধা শক্তির দলগুলোকে হারিয়ে বগল বাজাবেন! কে মানা করেছে? মিরপুরের পিচটা যে আমিরাতে বয়ে নিয়ে যাওয়া যায় না, সেটা কেন বলে দিতে হবে? এই মিরপুরে মোস্তাফিজ প্রায় আনপ্লেবল। অথচ সে শেষ ওভারে ১৯ দেয়! এটা তার দোষ নয়। আপনার, মানে বোর্ড থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলের।

সম্প্রতি শুনছি মাশরাফি কোচিং স্টাফদের নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। এখন তো তুলবেনই, কারণ বোর্ডের বিরুদ্ধে তো বলার হ্যাডম রাখেন না। কয়েকটা সিম্পল প্রশ্নও তো মাশরাফি থেকে আগে-পরের কোনো সিনিয়রা করেন না। [১] দেশে কেন স্পোর্টিং পিচ বানানো হয় না? [২] ৪ দিনের ফার্স্টক্লাস ম্যাচ কেন সারা বছর হয় না? [৩] কেন ফার্স্টক্লাস ম্যাচে ক্যাটাগরি-১ এর ক্রিকেটাররা খেলে না? [৪] কেন জিম্বাবুয়েকে ডেকে এনে জেতার আনন্দে ব্রেকিং নিউজের মজমা হয়? [৫] কেন ঘরোয়া ক্রিকেট কম্পিটেটিভ হয় না? [৬] কেন শৃঙ্খলা ভঙের শাস্তি হয় না, হলেও ক’দিন পর মাফ করে দেওয়া হয়? আর কথা বাড়িয়ে কাজ নেই। ‘বুইল্লে তো ফির বুইলবেন বুইলসে’! জঘন্য খেলতে থাকা উইন্ডিজকে হারাতে না পারার ব্যাখ্যার ধারেকাছেও যাবো না। সেটা দ্বিগগজ পণ্ডিতেরা চ্যানেল-ফ্যানেলে বলে বলে ফাতা ফাতা করেছেন। আমার কাছে বরং একটা সান্ত¡না এখনো বিদ্যমান- ভাগ্যিস নামিবিয়া আমাদের গ্রপে নেই! Monjurul hq-র ফেসবুক ওয়ারে লেখাটি পড়ুন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত