প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুম রহমান: দুনিয়াতে সৌভাগ্য বলে কিছু নেই

মুম রহমান
জীবনে প্রচুর আরাম করতে হবে আর দুলে দুলে ঝুলে ঝুলে বই পড়তে হবে। জীবন মানেই উপভোগ। কারখানার মালিক, স্কুলের মাস্টার, অফিসের বড় কর্তা তোমাকে বোঝাবে, পরিশ্রম করো, পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। বাবারে, তোর প্রসূতি হওয়ার দরকার কী! আর দুনিয়াতে সৌভাগ্য বলে কিছু নেই। সারাজীবন যে রিকশা চালায় তার সর্বোচ্চ স্বপ্ন হলো একটা রিকশার মালিক হওয়া। সারাজীবন যে মাটি কোপায় তার নিজের একটা ভিটামাটি হয় না। সারাজীবন পথে পথে রিকশা না চালিয়ে নিজেকে পথে ছড়িয়ে দিলে সে হয়তো রিকশাচালক নয় পরিব্রাজক হতো। মাটি কোপানো লোকটি যদি নতুন দেশে বেরিয়ে পড়ে সে না খেয়ে মরবে না। মানুষের তিনবেলার খাওয়া জোটানো প্রচুর পরিশ্রমের কাজ নয়। সৃষ্টিকর্তা এতো কৃপণ নন। আমাদেরই চাহিদা বেশি কিংবা বুদ্ধি কম। ধরুন আপনি বেরিয়ে পড়লেন। ভাবলেন, নিজের দেশটাই ঘুরবেন। বাংলাদেশের সবগুলো রেলস্টেশনে যাবেন আপনি কিংবা সবগুলো মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা দেখবেন। সেই সব স্টেশনে বা উপাসনালয়ে এক-দু’রাত কাটাবেন। আপনার কি মনে হয় টাকার অভাবে, খাবারের অভাবে এ ইচ্ছা পূরণ করা যাবে না? না, বরং আপনিই এই ইচ্ছা পূরণে আগ্রহী। নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে চাইলে প্রচুর খাটতে হয় না। আসলে খাটতেই হয় না। কারণ স্বপ্ন বা ইচ্ছাপূরণের জন্য যা করি তা তো কাজ নয়, তা হলো আনন্দ।

জীবনে প্রচুর আনন্দ করতে হবে। পরের জন্য বেগার খাটাখাটুনির ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। নিজের জন্য করতে হবে। আগে নিজেকে ভালোবাসতে হবে। নিজের চারপাশটাকে তারপর ভালোবাসাই যাবে। উন্নতি লাগে না, বেঁচে থাকার জন্য উদ্দম লাগে। উদ্দমী হতে হবে। এই যে আমি দিনে অন্তত দু’ঘণ্টা লিখি। তিন-চার ঘণ্টা পড়ি, ছবি দেখি, গান শুনি, রান্নাবান্না করি, এই সবই আমি উপভোগ করি এবং নিজের জন্য করি। তাতে আমার বিশাল টাকাপয়সা হয়নি। কিন্তু আমি আজকে মারা গেলেও আমার ৫৩টা বই থাকবে এবং আমি জানি এই ৫৩টা বইয়ের মধ্যে অন্তত ৩টা বই টিকে থাকবে। মানুষ তো মরে যায় তার কাজটাই টিকে থাকে। কোন কাজটা? যে কাজটা সে ভালোবেসে করে, উপভোগ করে আনন্দের সঙ্গে করে। আমেরিকার সব প্রেসিডেন্টেরও পদ শেষ হলে মনে রাখে না মানুষ। ভাইস চেন্সলেরের চাকরিরও মেয়াদ ফুরায়। লেফটেনেন্ট জেনারেল কিংবা ডিআইজিও অবসরপ্রাপ্ত হয়। চাকরি, পদবি মানুষকে সাময়িক ক্ষমতা দেয়। কিন্তু আফসোস বহু জমিদার বাড়ির মতো ক্ষমতাও ফুরায়। যা ফুরিয়ে যায়, তার জন্য এতো কীসের সাধনা। অতএব প্রিয় নক্ষত্র। বাজান, জীবনে প্রচুর আনন্দ করতে হবে, বই পড়বে, গান শুনবে, ছবি দেখবে। মনে চাইলে বই লিখবে, গান গাইবে, ছবি আঁকবে। যা মন চায় করবে। অন্যের মন মতো দাসের চলে। তুমি চলবে তোমার মন মতো। পুত্র নক্ষত্র রহমানের জন্য। Moom Rahaman-র

সর্বাধিক পঠিত