প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জননিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফেসবুকপ্রধানের

নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে ভুয়া তথ্যের বন্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন ফেসবুককর্মীরা। সে সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুকের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তারা। নিউজ বাংলা ২৪

আবারও সমালোচনায় জর্জরিত ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির কারণে জননিরাপত্তায় সৃষ্টি হুমকি সম্পর্কে অবগত ফেসবুকপ্রধান। কিন্তু ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেয়ায় আগ্রহী নন তিনি।

অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস করা সাবেক ফেসবুক কর্মকর্তা ফ্রান্সেস হাওগেন জানিয়েছেন, ফেসবুকে প্রকাশিত ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর কারণে ব্যবহারকারীরা যেন বিপদে না পড়েন- তেমনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো ইচ্ছা নেই জাকারবার্গের।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র অবজারভারকে এসব কথা বলেন তথ্য প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী হাওগেন।

অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হাওগেনের ফাঁস করা নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে চাপ বাড়ছে ফেসবুকের ওপর। এর মধ্যে ফের নতুন তথ্য দিয়েছেন আমেরিকান এই নারী। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা রয়েছে ফেসবুকের।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে ভুয়া তথ্যের বন্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন ফেসবুককর্মীরা। সে সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুকের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তারা।

হাওগেন জানান, পুঁজিবাজারে ভোটিং শেয়ারে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন জাকারবার্গ। জননিরাপত্তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

হাওগেন বলেন, ‘বর্তমানে মার্ক জাকারবার্গকে কোনো ধরনের জবাবদিহি করতে হয় না। ব্যবসার পুরো নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। তিনি কোনো ভুলত্রুটি সংশোধন করেন না এবং জননিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো ইচ্ছাই নেই তার।’

সব শেয়ারধারীর ফেসবুক পরিচালনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান অধিকার থাকা উচিত বলে মনে করেন হাওগেন। তার মতে, এতে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসবে।

ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ছিলেন হাওগেন। চলতি বছরের মে মাসে পদত্যাগ করেন তিনি এবং হাজার হাজার নথিপত্র তুলে দেন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাতে।

কারণ হিসেবে হাওগেন জানান, এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি শোধরাবে না। তিনি বলেন, ‘অ্যাপল, মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এনেছে। ফেসবুকের জন্যও এটি অসম্ভব কিছু নয়, দরকার শুধু সদিচ্ছা।’

হাওগেনের ফাঁস করা নথিপত্রের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঐক্যবদ্ধভাবে এক গুচ্ছ নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এসব নিছকই মিথ্যা গল্প। আমরা অবশ্যই ব্যবসা করি এবং লাভ করি, কিন্তু জনগণের নিরাপত্তার দামে নয়। আমাদের বাণিজ্যিক স্বার্থও জনকল্যাণকেন্দ্রিক।

‘বাস্তবতা হলো, শুধু ফেসবুকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি এবং আমাদের ৪০ হাজারের বেশি কর্মী এ কাজেই যুক্ত।

হাওগেনের মতো ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসকারী আরও এক ব্যক্তি সামনে আসতে যাচ্ছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিষয়াবলি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি। তার দাবি, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিহিংসার বলি হওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার ভয়ে নিরাপত্তা নীতিমালা কার্যকরে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ফেসবুক।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত