প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী : [২] গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় চাঞ্চল্যকর ইজিবাইক চালক সাইফুল ইসলামকে গলাকেটে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চক্রের মূলহোতা আলাউদ্দিন, সদস্য আজিজুল ইসলাম, ইমন খান, মেহেদী হাসান হৃদয় প্রকাশ মাসুম, বিজয় আহম্মেদ ও আরজু মিয়া।

[৩] শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান ও গাজীপুরের পূবাইল এলাকা তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক, মোবাইলসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

[৪] রোববার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, ১৫ অক্টোবর চালক সাইফুলকে হত্যা করা হয়। তার বড় ভাই শাহ আলম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু এবং হত্যায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

[৫] গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে আজিজুল ইসলাম, ইমন ও পলাতক আসামি জুয়েল অটোরিকশাচালকের হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী তারা সহযোগী বিজয় ও হৃদয় প্রকাশকে ফোন করে উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকায় যেতে বলে। তারা একত্রিত হয়ে ময়নারটেক থেকে পূর্বাচলের হরদি যাওয়ার জন্য সাইফুলের ইজিবাইক ২০০ টাকায় ভাড়া করে। ইজিবাইকটি ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র জুয়েল ছুরি দিয়ে ইজিবাইক চালক সাইফুলের গলায় পোচ দেয়। ফলে তিনি নিচে পড়ে যায়। পরে আজিজুল তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে এবং ইমন জুয়েলের ছুরি নিয়ে শরীরের আরও বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। জুয়েল ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় ও ইমন অটোরিকশাটি চালিয়ে গাজীপুরের পূবাইল মিরের বাজারে দিকে পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আলাউদ্দিন সংঘবদ্ধ অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের মূল হোতা। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ইজিবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ছিনতাই করে। চক্রের অপর সদস্য আজিজুল ও আরজু ছিনতাইকৃত ইজিবাইক, অটোরিকশা এবং অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে।

[৬] সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১ সিও বলেন, অল্প টাকায় চক্রের সদস্যরা ছিনতাই কাজে ভাড়ায় অংশ নেন। এ ঘটনার আগেও তারা চার থেকে পাঁচটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। চক্রের প্রত্যেক সদস্য মাদকসেবী। তারা মাদকের টাকা ও হাত খরচার টাকা জোগাতেই ভাড়ায় ছিনতাইয়ে অংশ নেয়।

[৭] ছিনতাইকৃত অটোরিকশা বিক্রির বিষয়ে লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, খুব অল্প দামে তারা কয়েক হাত বদলে ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রি করে দেয়। সর্বশেষ অটোরিকশাটি তারা ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে ছিনতাই করেন। তবে বিক্রি করেন মাত্র ২০ হাজার টাকায়।তিনি বলেন, চক্রের মূলহোতা আলাউদ্দিন। তিনি নিজেও অটোরিকশা চালাতেন। অটোরিকশার কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকায় ছিনতাই হলেও তা খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। অটোরিকশার ব্যাটারির দাম বেশি। আলাউদ্দিন ব্যাটারি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেয়। চক্রটি আগে ছিনতাই করলেও খুন করেনি। এর সদস্যরা নির্জন স্থানে নিয়ে চালককে হাত-পা বেঁধে ফেলে অটোরিকশা ছিনতাই করে পালাতো। এবারই প্রথম তারা পরিকল্পনা করে খুন করে ও অটোরিক্সা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। গাজীপুর, টঙ্গী, পূবাইল ও পূর্বাচল এলাকায় আট থেকে দশটি ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়। তাদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান চলছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত