প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরকারি চাকুরেদের জিপিএফ ও সিপিএফ তহবিলের মুনাফার হার কমলো

সোহেল রহমান : [২] সরকারি চাকরিজীবীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) এবং প্রদেয় ভবিষ্য তহবিল (সিপিএফ)-এর মুনাফা বা সুদের হার কমলো। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের অঙ্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট মুনাফার হার নির্ধারণ করেছে সরকার। এতদিন পর্যন্ত এ তহবিলে যে পরিমাণ অর্থই রাখা হোক না কেন, মুনাফার হার নির্ধারিত ছিল ১৩ শতাংশ।

[৩] অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ‘দি জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড রুল্স ১৯৭৯’-এর ১২(১) ধারা এবং ‘দি কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড রুল্স ১৯৭৯’-এর ১২ ধারায় বর্ণিত বিধান অনুসারে ‘জিপিএফ’ ও ‘সিপিএফ’ মুনাফার হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

[৪] প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের শুরুতে ‘জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড’ (জিপিএফ)-এর প্রারম্ভিক স্থিতি অনূর্ধ্ব ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় ধাপে অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে অনূর্ধ্ব ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে মুনাফার হার হচ্ছে ১২ শতাংশ। তৃতীয় ধাপে তহবিলের আকার হচ্ছে ৩০ লাখ ১ টাকা থেকে তদূর্ধ্ব। এক্ষেত্রে মুনাফার হার হচ্ছে ১১ শতাংশ।

[৫] অন্যদিকে ‘কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড’ (সিপিএফ)-এর ক্ষেত্রে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রারম্ভে জমাকৃত চাঁদার স্থিতি অনূর্ধ্ব ১৫ লাখ টাকা হলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপে জমাকৃত চাঁদার স্থিতির প্রারম্ভিক পরিমাণ হচ্ছে ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে অনূর্ধ্ব ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে মুনাফার হার হচ্ছে ১২ শতাংশ। তৃতীয় ধাপে জমাকৃত চাঁদার স্থিতির প্রারম্ভিক আকার হচ্ছে ৩০ লাখ ১ টাকা থেকে তদূর্ধ্ব। এক্ষেত্রে মুনাফার হার হচ্ছে ১১ শতাংশ।

[৬] প্রজ্ঞাপনে ‘সিপিএফ’-এর বিষয়ে বলা হয়েছে, সকল সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের (স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, কর্পোরেশন ইত্যাদি) আর্থিক সঙ্গতি একরকম না হওয়ায় প্রতিষ্ঠান/ সংস্থাসমূহ তাদের নিজস্ব আর্থিক বিধিবিধান ও আর্থিত সামর্থ্য অনুযায়ী বর্ণিত সøাব-ভিত্তিক হারসমূহকে সর্ব্বোচ্চ হার হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সিপিএফ-এ জমাকৃত আমানতের ওপর হ্রাসকৃত হারে মুনাফা নির্ধারণ করতে পারবে।

[৭] প্রসঙ্গত, যেসব সরকারি কর্মচারী রাজস্ব খাত থেকে বেতন পান, তারা টাকা জমা রাখেন জিপিএফ-এ। আর যারা রাজস্ব খাতের বাইরে থেকে বেতন পান, তারা টাকা রাখেন সিপিএফ-এ।
জিপিএফ-এ জমাকৃত অর্থের মুনাফা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। এ তহবিলে টাকা রাখলে মুনাফাসহ টাকা দেয় সরকার। ফলে চাকরি শেষে ভালো একটা অঙ্ক নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন কর্মচারীরা।

[৮] অন্যদিকে সিপিএফ-এ যে পরিমাণ টাকা জমা রাখেন কর্মচারীরা, সরকার ওই জমাকৃত টাকার সম-পরিমাণ টাকা অনুদান হিসেবে দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত জমার ওপর কোনো মুনাফা দেয় না।

[৯] জানা যায়, ২৫ বছর চাকরি করলে একজন জিপিএফধারী কর্মচারী ৮০ মাসের মূল বেতনের সমান টাকা পান। কিন্তু একই সময়ে একজন সিপিএফধারী কর্মচারী পান ৫০ মাসের মূল বেতনের সমান টাকা। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত