প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দৃশ্যমান হচ্ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

শিমুল মাহমুদ: [২] রোদ কিংবা বৃষ্টি। কোনো কিছুতেই থেমে নেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের (টার্মিনাল- ৩) নির্মাণকাজ।

[৩] নতুন এ টার্মিনালে ১১৫ টি চেক ইন কাউন্টার, ১২ টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১৬ টি কনভেয়ার বেল্ট এবং ৬৪ টি করে বহির্গমন ও আগমনী ইমিগ্রেশন থাকবে। এছাড়া টার্মিনালে ৫৪ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে হবে তিনতলা গাড়ি পার্কিং। সেখানে রাখা যাবে ১ হাজার ২৩০ টি গাড়ি।

[৪] নতুন এ টার্মিনালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকবে ২৭টি ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, ১১টি বডি স্ক্যানার। টার্মিনালে প্রবেশ করা একজন যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠা পর্যন্ত হাতের স্পর্শ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তল্লাশি করা যাবে। সেক্ষেত্রে যাত্রীকে বডি স্ক্যানার মেশিনের ভেতর দুই হাত তুলে দাঁড়াতে হবে। ফলে যাত্রী ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সময় বাঁচবে। স্ক্যানিংও হবে নির্ভুল ও স্বচ্ছ।

[৫] সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৯ শতাংশ। ইতিমধ্যে এর নির্মাণ কাঝ শেষ হয়েছে ২২ শতাংশ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

[৬] হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ২১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে চোখে পড়বে থার্ড টার্মিনালের অবকাঠামোগত অগ্রগতি। ২০২৩ সালের জুনে শেষ হবে অত্যাধুনিক এ টার্মিনালের নির্মাণকাজ।

[৭] বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত থাকবে স্বপ্নের মেট্রোরেল। তৈরি হবে পৃথক একটি স্টেশনও। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে বের না হয়ে খিলক্ষেত, নরদা, নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ হয়ে সরাসরি কমলাপুর যেতে পারবেন।

[৮] ট্রার্মিনাল নিমার্ণের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচলা কতৃপক্ষ বেবিচক ২০১৪ সালে একটা সম্ভাবতা যাচাই সমিক্ষা করে। এতে বলা হয় ২০২৫ সাল নাগাদ এই বিমানবন্ধর দিয়ে যাতায়াত করা যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়াবে বছরে ১ কোটি ৪০ লাখ। ২০৩৫ সালে তা আড়াই কোটিতে পৌঁছাবে। এ সমীক্ষা বিমানবন্দরে টার্মিনাল, রানওয়ে ও পন্য পরিবহণ সুবিধা সম্প্রসারণে সুপারিশ করা হয়। এরপর তৃতীয় ট্রার্মিনাল নির্মাানের জন্য বিমান বন্ধর সম্প্রসারণে প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যার অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের অক্টোবরে।

[৯] প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। নতুন টার্মিনাল ভবনটি হবে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের। যা বর্তমান টার্মিনালের চেয়ে দুই গুনের বেশি।

[১০] এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ড অব ডিরেক্টরস-এর সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিদেশি অনেক যাত্রী ও কার্গো এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছে। কিছু সুযোগ-সুবিধা আর অবকাঠামোর অভাবে তারা আসতে পারছে না। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে তারা বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। সবাই এর সুফল ভোগ করবে। এছাড়া আগামী ১০ বছরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী পরিবহন তিনগুণ বাড়বে। বিমানবন্দরের জন্য টার্মিনালটি অপরিহার্য ছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত