প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ আদনান ফাহাদ: দুর্গাপূজায় হনুমানের মূর্তিতে কোরআন রেখল তার রাজনৈতিক পরিচয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ

শেখ আদনান ফাহাদ: দুর্গাপূজায় হনুমানের মূর্তিতে কোরআন রেখে যে লোকটি এতো বড় বড় হামলা করালো তার রাজনৈতিক পরিচয় আমার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রথমদিনই বলেছিলাম, কে করলো জামায়াত নাকি বিজেপি? আমি এখনো অপেক্ষা করছি আমার অনুমান সত্য না মিথ্যা প্রমাণিত হয়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলও যদি করে থাকে তবু আমার অনুমান আংশিকভাবে সত্য প্রমাণিত হবে। কারণ ঘটনাটা রাজনৈতিক। ধর্মের কোনো সংযোগ এর মধ্যে নেই। যদি জামায়াত করে থাকে তাহলেও লাভবান বিজেপি। বাংলাদেশে আক্রমণ হবে হিন্দুদের ওপর। ওপাশে ভোট বাড়বে বিজেপির। গরিব হিন্দুরা পালিয়ে গেলে সম্পত্তি কিনবে ধনী কোনো হিন্দু বা মুসলিম। শেখ হাসিনা সরকারের ভিত নড়ে গেলে লাভ হবে জামায়াত, বিএনপি, ভ বাম, আমেরিকা, এমনকি ভারতের। ফলে কারা এই ঘটনাগুলো ঘটালো তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানা আমাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। একজন ধার্মিক মুসলমান হনুমানের মূর্তির পায়ের কাছে জীবনেও কোরআন শরীফ রেখে আসবে না। একজন প্রকৃত হিন্দুও করবে না। কারণ গুনাহ বা পাপ হবে। ঈমান থাকবে না, পূজা হবে না। জামায়াত বা বিজেপির পক্ষেই এমন জঘন্য কাজ সম্ভব।

হিন্দু পরিচয়ে মুসলিম এবং মুসলিম পরিচয়ে হিন্দুর প্রচুর ফেসবুক আইডি আছে। অনেকে ধরা পড়ছে। আজ এক হিন্দু কলেজ শিক্ষিকা ঢাকাতেই গ্রেপ্তার হয়েছে গুজব ছড়ানোর জন্য। মুসলমান নামের মডেলও এর আগে এমন কাজ করেছিলো। মডেল নওশেবার কথা মনে আছে আমাদের? ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে ধর্মটা অবলম্বন কিন্তু ধর্মকে তারা ভালোবাসে না। যে ছেলেটি কোরআন শরীফ রেখে আসল হনুমানের পায়ের কাছে তাকে কীভাবে মুসলমান বলা যায়? নামে মুসলমান হলেই কি একজন মানুষ মুসলমান হয়ে যায়? আমি বিশ্বাস করি, যে কোনো ধর্মের গুজব সৃষ্টিকারী জামায়াতের দোসর। গোবিন্দ প্রামাণিক নামের এক জামায়াত নেতা আছে। এটা বললে কেউ বিশ্বাস করবেন? না চিনলে আপনারা অধ্যাপক মুনতাসির মামুন স্যার এবং সাংবাদিক স্বদেশ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নেবেন। জামায়াতের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলো ইহুদি-খ্রিস্টানরা। বিশেষ করে ইহুদিরা। এর জন্য অবশ্য আপনাকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।

বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি যখন বাংলাদেশে হিন্দু ভোট চাইতে আসল তখন সারাদেশে কী নাশকতা করেছে মুসলমানরা নাকি হেফাজতিরা? হেফাজতিরা মুসলমান হলে আমিও কী মুসলমান নই? কুমিল্লায় যে ছেলে ধরা পড়েছে তার রাজনৈতিক পরিচয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রধান করে দেখলে আমি মনে করি ঘটনার পেছনের ঘটনা জানা যাবে না। সব হিন্দু যেমন বিজেপি, শিবসেনা করে না, সব মুসলমান জামায়াত করে না। বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক মানুষ জামায়াত করে। অধিকাংশ মানুষ জামায়াত করলে তো দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হতো? দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলে সব ধর্মের লোক আছে এবং মুসলমানদের সংখ্যা এখানে অনেক অনেক বেশি, স্বাভাবিকভাবেই। আবার সেদিন দেখলাম হিন্দু নেতাদের একাংশ তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের মন্ত্রিসভায়ও হিন্দু মন্ত্রী ছিলো। সুতরাং ধর্মকে সব জায়গায় ট্যাগ করলে মহাবিপদ আমাদের সামনে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। খুব সাবধানে এবং যত করে কথা বলতে হয়, লিখতে হয়। শব্দ কখনো কখনো শব্দ বোমা হয়ে যায়। Sheikh Adnan Fahad ’র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত