প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা কে এই ইকবাল?

নিউজ ডেস্ক : কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে যাকে শনাক্ত করা হয়েছে, সেই ইকবাল হোসেন (৩৫ আসলে কে? এরইমধ্যে সবার মনে প্রশ্ন জেগেছে। সেই প্রসঙ্গ থেকেই পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইকবাল নিয়মিত নামাজ পড়েন। আবার মাদকের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা আছে। এছাড়া পুলিশের কাছে ইকবালের পরিবার দাবি করেছে, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে পরিবারের বাইরে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সমকাল, সময়টিভি, ডেইলি নারায়ণগঞ্জ

ইকবাল হোসেনের ন্যাশনাল আইডি কার্ড (এনআইডি) অনুসারে তার বাবার নাম নূর আহমেদ আলম। মায়ের নাম আমেনা বিবি। জন্ম তারিখ ৬ আগস্ট, ১৯৯২। বাড়ি কুমিল্লার সুজানগর এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্কর পুকুর এলাকার নূর আহমদ আলমের ছেলে ইকবাল। তার বাবা মাছের ব্যবসা করেন। পুলিশের একাধিক সংস্থার তদন্তে এবং সিটিটিভির ফুটেজ দেখে ইকবালকে শনাক্ত করা হয়।

ইকবালের মা আমেনা বিবি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই নেশা করা শুরু করে। ১০ বছর আগে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করে। ওই ঘরে তার এক ছেলে রয়েছে। পাঁচ বছর আগে ইকবালের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তারপর ইকবাল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে আরেকটি বিয়ে করে। এই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইকবাল নেশা করে পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার করত। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটেও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াত।

ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতে ভালোবাসতেন জানিয়ে তিনি জানান, সে বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেত। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল।

তার মা জানায়, ইকবালের সঙ্গে ১০ বছর আগে তার বন্ধুদের মারামারি হয়। এসময় তারা ইকবালকে পেটে ছুরিকাঘাত করে। তখন ইকবাল অপ্রকৃতিস্থ আচরণ শুরু করে।

আমেনা বেগম জানান, তিনি স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন ইকবাল পূজামণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা সরিয়ে সেখানে কোরআন শরীফ রেখেছেন। আমেনা বলেন, ইকবাল কারও প্ররোচনায় এমন কাজ করতে পারে। তার বোধবুদ্ধি খুব একটা নেই। ছেলে সত্যিই যদি অন্যায় করে, তাহলে যেন তার শাস্তি হয়।

ইকবালের ছোট ভাই রায়হান বলেন, ইকবালকে খুঁজতে পুলিশের সঙ্গে গত শুক্রবার থেকেই আছি। ইকবাল ভালো কোরআন তিলাওয়াত করতে পারেন।

রায়হান জানান, তার ভাই যদি অন্যায় করে থাকেন, যদি তা সত্য হয়, তাহলে তার শাস্তি হোক। তবে ইকবাল কারও প্ররোচনায় এমন কাজ করতে পারেন।

ইকবালের নানি রহিমা বেগম জানান, ১৩ দিন আগে ঘর থেকে ইকবালকে বের করে দিয়েছি। ব্লেড দিয়ে পাঁচটি হাঁস জবাই করেছে। ইকবালের অত্যাচারে আমি অতিষ্ঠ।

এবিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ সোহেল বলেন, ১০ বছর ধরে ইকবালকে চিনি। প্রায় সময় আমার কার্যালয়ের আশপাশেই থাকে। রঙমিস্ত্রির কাজ করতো। মাঝে মধ্যে নির্মাণ শ্রমিকের কাজও করতো। ইয়াবা সেবন করে। ইকবালকে নিয়ে অনেকেই অভিযোগ দিতো। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। কোনও দলের কর্মী কিংবা সমর্থকও নয়। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। আমার মনে হয়, তার মানসিক অসুস্থতাকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষ কাজটি করেছে। পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ঘৃণা প্রকাশ করছে। তবে ওই ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত