প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য

সুজন কৈরী: [২] সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

[৩] বুধবার বিকেলে এআইজি (ইন্সপেকশন) ও মিডিয়া অ্যান্ড পিআর শাখার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এআইজি মোহাম্মদ শাহ জালাল স্বাক্ষরিত পুলিশ সদরদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় কুমিল্লার সদরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে মূর্তির (প্রতিমা) পায়ের উপর কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে চলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতিকারী উসকানিমূলক ও বিকৃত প্রচারণা চালায় এবং পরে আরও উচ্ছৃঙ্খল দুষ্কৃতিকারী সংঘবদ্ধ হয়ে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা ও পূজামেণ্ডপে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া, দুষ্কৃতিকারীরা শহরের কাপড়িয়া পট্টি কলোনির চানমনি পূজামণ্ডপ, শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির, কালিতলাসহ আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় এবং প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ করে।

[৪] কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সেজন্য সারাদেশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রচেষ্টা সত্তে¡ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

[৫] কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার শ্রী ত্রিনয়নী সংঘ রাজা ল²ী নারায়ণ জিউর আখড়া, মোকিমাবাদ পূজামণ্ডপে ৫০০ থেকে ৬০০ দুষ্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের উপর হামলা করে এবং ৫ থেকে ৬টি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করে। দুষ্কৃতিকারীদের ইট-পাটকেলের আঘাতে ১৫ জন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হয়। জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়।

[৬] কুমিল্লার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গত ১৪ অক্টোবর বেলা ১১টা ২০মিনিটে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউনিয়নের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা পূজা মন্দিরের কাছে ৮০০ থেকে ১০০০ উচ্ছৃঙ্খল লোক জড়ো হয়ে উসকানিমূলক শ্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা অসংখ্য ইট, লাঠিসোটা নিয়ে মন্দিরের সামনে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিজিবি’র টহল দলের উপর হামলা চালায়, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে এবং মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। পরে পুকুর থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

[৭] ১৭ অক্টোবর রংপুরের পীরগঞ্জের বড় করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামের জনৈক পরিতোষ তার ফেসবুক আইডিতে পবিত্র কাবা শরীফের অবমাননাকর ছবি আপলোড করেন। পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে রাত প্রায় ৮টার দিকে এলাকার কতিপয় দুষ্কৃতিকারী ওই গ্রামের একটি মন্দিরসহ ১৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

[৮] এছাড়া, কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়া, সিলেটের জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কাশিমপুর থানাসহ দেশের আরও কয়েকটি স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সকল ঘটনায় সারাদেশে সাত জনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে দুই জন হিন্দু এবং পাঁচ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্ব পালনকালে ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

[৯] পুলিশের বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, সংঘটিত এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সারাদেশে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

[১০] এছাড়া আরও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং দুষ্কৃতিকারীদেও গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। ঘটনা বা অপরাধের রহস্য উদঘাটনের জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তি নির্ভর তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

[১১] সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও উসকানি রোধকল্পে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃখলা বাহিনী এবং সরকারের সকল গোয়েন্দা সংস্থা সার্বক্ষণিকভাবে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
যে কোনও বিভ্রান্তিকর তথ্য অথবা গুজব কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত বা উত্তেজিত না হয়ে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে দেশের সকল নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছে পুলিশ।

সর্বাধিক পঠিত