প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. আহমদ আল কবির: শিশু শেখ রাসেল, খুনিদের ভয় ছিলো কীসে?

ড. আহমদ আল কবির: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মদিন ১৮ অক্টোবর। আমরা গভীর শ্রদ্ধা এবং স্মৃতিকে মনে করার উদ্দেশ্যেই এই দিনটিকে স্মরণ করি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মনে করি, এই নিষ্কলুষ শিশু আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করার পাশাপাশি তাকে যারা হত্যা করেছে, এ রকম একটি শিশুকে হত্যা করতে যাদের বুক কাঁপেনি তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।

ইতোমধ্যে কিছু লোককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, এখনো অনেকে বিদেশে ফেরারি হিসেবে আছে। খুনিদের মধ্যে কয়েকজনকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছে এবং যারা বিদেশে আছে তাদের এনেও ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো উচিত বলে মনে করি। তাহলে জাতি কিছুটা হয়তো দায়মুক্ত হবে। কিন্তু এই ন্যক্কারজনক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা মানুষ নয় অমানুষ। এই অমানুষদের সম্পর্কে কিছু বলারও প্রয়োজন নেই। কারণ তারা মানুষরূপী হায়েনা। এই মানুষরূপী হায়েনারা এতো কমবয়সী একটি শিশুকে হত্যা করতে পারে। তাদের যদি বিন্দুমাত্র বিবেক থাকতো তাহলে তারা সেটা করতে পারতো না।

শুধু জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেনি, এর সঙ্গে আরও অনেককে হত্যা করেছে। অন্তঃসত্তা নারীকেও হত্যা করতে তাদের হাত কাঁপেনি। তারা খুনি, তাদের অবশ্যই আমাদের ঘৃণা করতে হবে। যে স্বার্থের জন্য তারা এই নির্মম কাজটি করেছে- বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরানোর জন্য। তাদের এই উদ্দেশ্যকে পেছনে ফেলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এটাই আমাদের সফলতা । শেখ রাসেলের জন্মদিনে এটাই সবচেয়ে বড় সম্মান প্রদর্শন। আমরা ১৫ আগস্ট খুন হওয়া ব্যক্তিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতিকে আমরা যেন দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারি সকলে মিলে সেটিই হবে আমাদের আজকের দিনের শপথ।

বাংলাদেশ এখন এমন একটা পর্যায়ে এসেছে- আমরা দেখছি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আমরা উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছি। উন্নয়ন অভিযাত্রায় আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। আমরা এখন ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের তুলনা করি না। আমরা এখন উন্নত বিশ্বের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ঢুকছি। ২০২৪/২৫ সালেই একটি নতুন অবস্থায় আমরা দেশকে নিয়ে যাবো। এটাকে যদি আমরা আরও গতিশীল করতে পারি তাহলেই শেখ রাসেলের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে। শেখ রাসেল শিশুদের প্রেরণার উৎস। তার জন্মদিনে আমরা জাতীয়ভাবে আমরা আরও ঐক্য গড়ে তুলতে চাই। আমাদের যুব সমাজ ও কিশোর সমাজের সকলকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা যারা করেছিলো তারা এখনো সচেষ্ট। তাদের রুখে দেওয়ার জন্য আমাদের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যুব সমাজ যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে আমাদের উন্নয়নের গতিধারা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও চলমান থাকবে। এটা কেউ ঠেকাতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি শেখ রাসেলের জন্মদিনে আমরা তার স্মৃতিকে চিরজাগরিত রাখার জন্য এ দেশের সকল মানুষের উন্নয়ন ও ভাগ্যের চাকাকে পরিবর্তন করার যে অঙ্গীকার নিয়ে রাষ্ট্রনায়ক কাজ করছেন, তাকে শক্তিশালী করার শপথ নেবো। আগামী দিনে আমাদের নতুন বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নতুনভাবে বিশ্ববাসীর কাছে আবিভর্‚ত হবে, এই প্রত্যাশাই আজকের দিনে।

পরিচিতি : সাবেক চেয়ারম্যান, রূপালী ব্যাংক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমিরুল ইসলাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত