প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রোববার মুন্সিগঞ্জে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব উঠছে ক্রয় কমিটিতে

সোহেল রহমান: [২] মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার মেঘনাঘাট জামালদিতে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন গ্যাস বা আরএলএনজি ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিল্ড-ওন-অপারেশন (বিওও) ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে মালয়েশিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এডরা পাওয়ার হোল্ডিং এসডিএন বিএইচডি এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান উইনিএভিশন পাওয়ার লিমিটেড-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে। প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২২ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার।

[৩] এতে গ্যাস ভিত্তিক জ্বালানি হলে ২২ বছরে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৭ হাজার ৪৪৩ কোটি ১২ লাখ টাকা; আর আরএলএনজি ভিত্তিক হলে ৬৯ হাজার ১৬৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এতে গ্যাসভিত্তিক প্রতি কিলোওয়াট/ ঘন্টা বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ৩.৬৯২৩ মার্কিন সেন্ট (২.৯৫ টাকা) এবং আরএলএনজি ভিত্তিক প্রতি কিলোওয়াট/ ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ৬.৮০৯৮ মার্কিন সেন্ট (৫.৪৫ টাকা)।

[৪] রোববার অনুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুষ্ঠেয় ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।

[৫] বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে প্রতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রিটায়ারমেন্ট শিডিউল অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৪২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবসরে যাবে। এমতাবস্থায় চাহিদা মেটানোর জন্য সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

[৬] সূত্র জানায়, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাওয়ার ইভাক্যুয়েশনের জন্য স্পন্সর নিজ খরচে ও নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ট্রান্সমিশন লাইন, সাব-স্টেশন নির্মান এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পে গ্যাস/ আরএলএনজি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে সঞ্চালন পাইপলাইনের অফটেক থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে গ্যাস সরবরাহ পাইপলাইন ও আরএমএস নির্মাণসহ সম্পূর্ণ প্রকল্প ব্যয় নির্বাহ করবে।

[৭] ইপিএইচ-ডব্লিউপিএল কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের বিষয়ে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয় বোর্ড (বিইউবো) তাদের মতামতে জানায়, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার প্রক্ষেপন-এর আলোকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নকাল দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হলে প্রকল্পের পাওয়ার ইভাক্যুয়েশন এ বিষয়ে পিজিবিসি এবং ন্যাচারাল গ্যাস/ আরএলএনজি সরবরাহের বিষয়ে পেট্রোবাংলার নিশ্চয়তা পাওয়ার সাপেক্ষে উদ্যোক্তা কর্তৃক প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ন্থাপনের আনসলিসিটেড প্রস্তাবটি বিবেচনা যেতে পারে।

[৮] প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পিজিসিবি কর্তৃক নির্মিতব্য গজারিয়া ২৩০/১৩২ কেভি উপকেন্দ্র পর্যন্ত ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন এবং গজারিয়া উপকেন্দ্র পর্যন্ত ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন এবং গজারিয়া উপকেন্দ্রে দুইটি ২৩০ জিআইএস ‘বে’ নির্মানের মাধ্যমে পাওয়ার ইভাক্যুয়েশন করার সুযোগ রয়েছে।

[৯] সূত্র মতে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তাদের মতামতে জানায়, ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাসের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে এবং ল্যান্ড বেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন কার্যক্রম সম্পাদনের পর গ্যাসের সরবরাহ সার্বিকভাবে বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পর বেসরকারিখাতে প্রস্তাবিত এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস/ আরএলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

[১] তবে প্রস্তাবিত এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনে দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে বিউবোর সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে করিগরি কমিটি কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রস্তাবটির আর্থিক ও কারিগরিভাবে যোগ্য বলে প্রতিবেদন দিয়েছে। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

 

সর্বাধিক পঠিত