প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৬ বছরের গবেষণায় বারি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন মসলার নাম ফিরিঙ্গি

মতিনুজ্জামান মিটু: [২] বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর, হজম শক্তি ও রুচি বর্ধনে কার্যকরী এ মসলাটি নামে ফিরিঙ্গি হলেও জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা। ফেবেসি গোত্রভুক্ত এ মসলার নির্ধারিত কোনো জাতই দেশে ছিল না।

[৩] দীর্ঘ ছয় বছর গবেষণা করে ২০১৯ সালে মসলাটির একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) একদল বিজ্ঞানী।

[৪] উদ্ভাবিত জাতের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বারি ফিরিঙ্গি-১’। এ বছরই কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ বোর্ড জাতটি চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কৃষকরা ফেবেসি গোত্রীয় ফিরিঙ্গির মিশ্রণ চাষাবাদ করছেন, যা রান্নায় পাঁচফোড়নের একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত নয় বলেই ফিরিঙ্গির এ জাতটি উদ্ভাবন করলেন কৃষিবিজ্ঞানীরা।

[৫] বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. শামসুন্নাহার মাহমুদার নেতৃত্বে আটজন কৃষিবিজ্ঞানী বারি ফিরিঙ্গি-১ জাত উদ্ভাবন করেছেন। ফিরিঙ্গি বীজ অনেকটা মেথির মতো। কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য, যেমন গাছের বৃদ্ধি এবং পডের আকৃতির কারণে মেথির সঙ্গে ফিরিঙ্গির পার্থক্য রয়েছে।

[৬] গবেষক দলের প্রধান শাসুন্নাহার মাহমুদা বলেন, ফিরিঙ্গি গাছের পাতা এবং ফল মেথির মতোই ব্যবহৃত হয়। তবে এ দেশে ফিরিঙ্গির পডসহ বীজ পাঁচফোড়নের মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতবর্ষে এটি ‘কাচুরী মেথি’ নামে পরিচিত এবং গাছটির পাতা শুকিয়ে বাজারজাতের জন্য বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়। কৃষক পর্যায়ে বীজ দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এ ফসলটি এখনও বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হয় না।

[৭] তিনি বলেন, ফিরিঙ্গি বীজ নানা প্রকার তরকারি, আচার, চাটনি ইত্যাদি স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে বেশ উপযোগী। ফিরিঙ্গির যথেষ্ট ঔষধি গুণ রয়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে। তুলনামূলক স্বল্প বিনিয়োগে ভাল রিটার্ন আসে তাই বাংলাদেশে ফসলটির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ঔষধিগুণের মসলা জাতীয় এ ফসলের বীজ থেকে উৎপাদিত তেল খাওয়াসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে মেশিন না থাকায় বীজ থেকে তেল করার ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি।

[৮] এ জাতের গাছের উচ্চতা ২২ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৫ থেকে ৬টি। প্রতি গাছে পডের সংখ্যা ৩৬০ থেকে ৪৬০টি। প্রতিটি পডে ৮ থেকে ১০টি বীজ থাকে। বীজগুলো শুস্ক ও হলুদাভ বাদামি বর্ণের। এ জাতে রোগবালাই নেই বললেই চলে। প্রতি এক হাজার বীজের ওজন ১.১ থেকে ১.২ গ্রাম। জাতটির জীবনকাল ৯০ থেকে ১০০ দিন। প্রতি হেক্টরে পডের উৎপাদন ১.৬ থেকে ১.৯ টন এবং বীজের ফলন ০.৪ থেকে ০.৫ টন। রবি মৌসুমের এ ফসলটির বীজ নভেম্বর মাসে লাগানো হয় এবং ২ মাস থেকে আড়াই মাস পরে জানুয়ারি শেষে বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ফসল ঘরে তোলা যায়।

[৯] উল্লেখ্য, ফিরিঙ্গির অর্থ বিদেশি হলেও মূলত পর্তুগিজরা ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত ছিলো। তারা এ অঞ্চলে এসেছিল মসলার ব্যবসা করতে। শুরুতে ব্যবসা দিয়ে শুরু করলেও দক্ষিণ এশিয়ার জনপথে তাদের একছত্র রাজত্ব থাকায় তারা ক্রমেই হয়ে উঠেছিলো বেপরোয়া।

[১০] সুযোগ পেলেই অন্য জাহাজে আক্রমণ করতো অর্থাৎ জলদস্যুর কাজ করতো। তাই ফিরিঙ্গি শব্দটা হয়ে উঠেছিলো জলদস্যুর সমর্থক শব্দ। ফিরিঙ্গি জলদস্যু। ফিরিঙ্গি নামক এ মসলাটিও সম্ভবত এ দেশে এসেছিলো পর্তুগিজদের হাত ধরেই। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

সর্বাধিক পঠিত