প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গায়ে আগুন দেওয়া সেই মা মারা গেলেন মৃত সন্তান জন্মের ১২ ঘণ্টা পর

নিউজ ডেস্ক: এক বছর আগে বিয়ে হয় নেত্রকোণার কলমাকান্দার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্যর (১৭)। বিয়ের কয়েকমাস পর তার গর্ভে আসে সন্তান। মৃত সন্তান জন্ম দিয়ে ১২ ঘণ্টা পর নিজেও পরপারে চলে গেলেন লাবণ্য।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় লাবণ্যের মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মানসিক নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে ৯ অক্টোবর নিজ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন লাবণ্য।

লাবণ্যর চাচা এস এম সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে লাবণ্যের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২ লাখ টাকা যৌতুক চান লাবণ্যের স্বামী। যৌতুক না দেওয়ায় তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ ও ভাসুর মানসিকভাবে নিপীড়ন করতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত আগস্ট মাসে লাবণ্য তার বাবার বাড়িতে আসেন। ৯ অক্টোবর সে স্বামীকে ফোন দেয়। লাব্যণ্যের স্বামী ফোনে গালিগালাজ করেন। এতে রাগ করে কেরোসিন দিয়ে নিজ শরীরে আগুন দেন লাবণ্য। প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।’

লাবণ্যের বাবা শাহ মোস্তফা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘লাবণ্য আমার একমাত্র সন্তান। বিয়ের পর তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়ের ওপর অনেক মানসিক নিপীড়ন চালায়। অতিষ্ঠ হয়ে সে গায়ে কোরোসিন দিয়ে আগুন দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাবণ্য একটি মৃত সন্তানের জন্ম দেয়। এর ১২ ঘণ্টা পর লাবণ্যও আমাদের ছেড়ে চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে তার স্বামী বা শ্বশুর বাড়ি কেউ দেখতে আসেননি। কেউ কোনো খোঁজও নেননি। আমি লাবণ্যের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ ও ভাসুরের নামে মামলা করবো।’

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট সার্জন পার্থ সংকর পাল বলেন, ‘মেয়েটির শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছিল। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

সর্বাধিক পঠিত