প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসান শান্তনু : বুদ্ধিজীবীদের দালালি চিহ্নিত করবেন কে, কারা?

হাসান শান্তনু : ‘দার্শনিক’ হিসেবে আবু সয়িদ আইয়ুবের শক্ত একটা অবস্থান আছে অনেক পাঠকের কাছে। গালিব, মীরের কবিতা অনুবাদের সুবাদে তার বিশেষ পরিচিতি বাঙালির কাছে। তিনি ষাটের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র ‘ফাঁদে পড়েন’! চারপাশে দালাল বলে বিতর্ক উসকে ওঠে। কেন তিনি সিআইএ’র সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখেন, তা আজো অনেকের কাছে ‘রহস্যাবৃত’। তখন ভারত, পাকিস্তানের কয়েকটা প্রতিষ্ঠান সিআইএ’র টাকায় চলতো। ভারত, পাকিস্তানের অনেক লেখক সিআইএ’র টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিতেন বলে অভিযোগ ছড়ায়। বিষয়টি চাউর হলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হন সয়িদসহ অভিযুক্তরা। বামপন্থিরা বিষয়টার প্রতিবাদ জানান জোরালো ভাষায়। এমন প্রশ্ন করতেও অনেকে পিছপা হননি- সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ, পাকিস্তান হওয়ার পরও ‘ইসলাম ধর্ম’ পরিচয় বিবেচনায় কয়েক লেখকের সঙ্গে সিআইএ’র সম্পর্কের উদ্দেশ্য কী? সাহিত্যে অবদানের জন্য সয়িদের সিআইএ ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের বুদ্ধিজীবী সমাজ তেমন আলোচনা করেনি।

মুসলমান হওয়ায় তিনি সহজে ‘ছাড়’ পান, এমন অভিযোগ করেন সমালোচকরা। তার বিরুদ্ধে সমালোচনা হলে ‘ইসলামপন্থিরা ধর্ম অবমাননার হুজুগ তুলে’ সশস্ত্র হয়ে মাঠে নামেন কিনা, এ চিন্তা মূলধারার বুদ্ধিজীবী সমাজের অনেকের ছিলো। সয়িদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিলো ভারতীয় দর্শনের আধুনিক ভাষ্যকার দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সয়িদ আইয়ুবের কিছু লেখার তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি। এক লেখায় সয়িদের লাইন উদ্ধৃত করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আফিমের গুলি, সিফিলিসের জীবাণু, পকেটমারের দক্ষতা- এগুলোর সমবণ্টন কী খুব ঘটা করে স্থাপন করার বিষয়?’ দেবীপ্রসাদের প্রশ্নটি এ দেশের অনেক বুদ্ধিজীবীর (সবাই নন) বেলায় করা যায়। দেশের বুদ্ধিজীবী-মানস কখনোই অবিভাজ্য ছিলেন না। তাদের একটি অংশ সবসময়ই প্রতিবাদী, অন্য অংশ সুযোগসন্ধানী। তারা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে টাকা-পয়সা খেয়ে ভিন্ন রাষ্ট্রের স্বার্থে কথা বলে যাচ্ছেন। কথিত দেশপ্রেম, সচেতনতার মোড়কে তারা এমনভাবে কথা বলেন সংবাদমাধ্যমে- যা অনেককে বিভ্রান্ত করে রাখে। তারা দালালি করেন সূ থেকে সূ²তরভাবে। তাদের স্বার্থজনিত বক্তব্যের ‘সমবণ্টন’ চলে আসছে! একাত্তরে এ দেশের কতিপয় ‘বুদ্ধিজীবী’ পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের টাকায় মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাকে অস্বীকার করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য সিআইএ’র নকশা অনুযায়ী প্রেক্ষাপট তৈরিতেও ভ‚মিকা রাখেন কয়েক বুদ্ধিজীবী।

সিআইএ’র এসব দালালের নাম আশির দশকে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন একটা নথি থেকে জানা যায়। দৈনিক প্রথম আলোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে- দেশে আইএসআইয়ের কর্মকা আবারো বাড়ছে। ১৮৮১ সালে নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের লেখা ‘ঘোস্ট’। এ নাটকের উপজীব্য বাবা-ছেলের যৌনরোগ সিফিলিস। যা তখনকার নরওয়ে-ডেনমার্কের সমাজের উঁচুতলার লোকদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সিফিলিস উন্মোচিত করে। এটা মেনে নিতে পারেননি অনেকে। কঠোর সমালোনার শিকার হোন ইবসেন। এর জবাবে তিনি লেখেন ‘দ্য এনিমি অব দ্য পিপল’। এ নাটক অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় নির্মাণ করেন সিনেমা ‘গণশত্র’। প্রগতিশীল এক বুদ্ধিজীবী ইবসেনের ‘গণশত্রতে’ মানুষ ও নগরের কল্যাণে সত্য প্রকাশের ‘অপরাধে’ শাস্তি ভোগ করেন। একইসঙ্গে নাট্যকার নিজ দেশের একশ্রেণির বৃদ্ধিজীবীর নানা ভমিও চিহ্নিত করেন। আমাদের দেশে কাজটা কে, কারা করবেন? তাদের পাপের ‘কাফফারা’ রাষ্ট্র, সমাজ, মানুষেরা দেবে কেন? Hasan Shantonu-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত