প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রউফুল আলম: একটা ডিসেন্ট এমাউন্টের স্যালারি না দিলে গবেষণায় তরুণদের উৎসাহিত করা যাবে না

রউফুল আলম: বাংলাদেশের পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডির বেতন গড়ে মাসিক ২০-২৫ হাজার টাকা। সেটাও নির্ভর করে প্রজেক্টের ধরনের ওপর। কেউ কেউ বলেছেন, বেতন আরো কম। পিএইচডির বেতন মাসিক কমপক্ষে ৪০-৪৫ হাজার টাকা করা উচিত। বিশেষ করে বিজ্ঞান গবেষণাকে উৎসাহিত করার জন্য পিএইচডির বেতন বাড়ানো উচিত। পিএইচডির বেতনের সঙ্গে অন্যান্য চাকরির বেতনের পার্থক্য থাকবে। সেটা স্বাভাবিক। এই বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। কিন্তু একটা ডিসেন্ট এমাউন্টের স্যালারি না দিলে গবেষণায় তরুণদের উৎসাহিত করা যাবে না। পিএইচডির বেতন মাসে ৪০-৪৫ হাজার টাকা করলেই সব স্টুডেন্টরা দেশে পিএইচডি করবে না।

তরুণরা বিদেশে সুযোগ পেলে চলে যাবে। সেটা সহজে আটকানো যাবে না। সেটা হ্রাস করতে হলে ভালো মানের গবেষকদের সেখানে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে রাষ্ট্রীয়ভাবে। প্রচলিত স্কেল-গ্রেড থেকে বেরিয়ে এসে তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দক্ষ গবেষকদের বাছাই করতে হবে। তাদের উচ্চ সুযোগ সুবিধা দিয়ে নিয়োগ দিতে হবে। গবেষণা সম্পর্কে যাদের এক আনা ধারণাও নেই, তারা এসে কমেন্ট করবে, আপনি এসে দেশে কিছু শুরু করেন। তারা মনে করে গবেষণা হলো একটা ইউটিউব চ্যানেল খোলার মতো। সেটা খুলে দেশের হাজার হাজার তরুণদের বিশ্বমানের গবেষক বানিয়ে ফেলা যাবে। গবেষণার জন্য যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, সঠিক নীতিমালা এবং শত শত কোটি টাকা লাগে, সেটা উপলব্ধি করার মতো ধারণা নীতিনির্ধরাকদেরই নেই। তরুণদের দোষ দিয়ে লাভ কী। একজন, দুইজন কিংবা দশজন সেরা গবেষক দেশে ফিরে গেলেই গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা যাবে না। সেটার জন্য চাই রাষ্ট্রীয় মেগা প্ল্যান।

আমাদের লক্ষ্য নিতে হবে আগামী বিশ-ত্রিশ বছরের মধ্যে কী করে দেশেই বিশ্বমানের তরুণ গবেষক তৈরি করা যায়। কাজটা শুনতে যতো সহজ, বাস্তবে মোটেও ততো সহজ নয়। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে পিএইচডির বেতন বাড়ানো একটা পদক্ষেপ মাত্র। তবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাচেলর করেই যেন পিএইচডি শুরু করা যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে তরুণরা গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হবে। সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। চার বছরের স্নাতক করে দুনিয়ার সব দেশেই পিএইচডি শুরু করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো, সরকারকে কয়েকটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে হবে। সেসব ক্ষেত্রে দক্ষ গবেষকদের নিয়োগ দিতে হবে। দেশজুড়ে ব্যাচেলর পাস করা স্টুডেন্টদের শিক্ষক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগের চলমান মহোৎসব বন্ধ না করলে, Cutting-edge গবেষণার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থেকে যাবে। লেপাপোছা গবেষণা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বৈ লাভ কিছুই হবে না। পঞ্চাশ বছরের অপচয় থেকে যদি কোনো বোধ না হয়, তাহলে আর কতো কাল? Rauful Alam-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ন।