প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাপা শুরু

নিউজ ডেস্ক: ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাপার কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি। আটকে থাকা সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জট নিরসনে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, অক্টোবর মাস থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে এই সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাপার কাজ শেষ করার কথা।

বিআরটিএর পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী  বলেন, এই সপ্তাহ থেকে জমে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাপার কাজ শুরু হয়ে গেছে। দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই আবেদনকারীদের কাছে এসএমএস (মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা) পৌঁছে যাবে। ঢাকার বাইরে ছাপা লাইসেন্সগুলো কুরিয়ারে করে পাঠানো হবে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা পড়ে প্রায় ১৪ লাখ। অথচ ওই সময়ের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটির কাছে লাইসেন্স ছাপানোর জন্য হাতে ছিল মাত্র এক লাখ কার্ড। তাই এই সময়ে বাধ্য হয়েই ‘জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে’ লাইসেন্স দিয়েছে বিআরটিএ। তখন থেকেই ১২ লাখ ৪৫ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড ছাপার অপেক্ষায় ছিল। চলতি বছরের মে থেকে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। তবে নতুন আবেদনের বাইরে আগের আবেদনের লাইসেন্স দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এমন পরিস্থিতিতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জট খুলতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০১৬ সালে টাইগার আইটির সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করে বিআরটিএ। এই পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ১৫ লাখ লাইসেন্স প্রিন্ট দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার চাপ বেড়ে যায়। ফলে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টাইগার আইটিকে ১৪ লাখ লাইসেন্স প্রিন্ট করতে হয়। এরপর কার্ডসংকটের কারণেই মূলত লাইসেন্সের জট লাগা শুরু হয়।

টাইগার আইটির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই ২০২০ সালের ২৯ জুলাই নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্সের সঙ্গে চুক্তি করে বিআরটিএ। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ বছরে ৪০ লাখ লাইসেন্স দেওয়ার চুক্তি করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে লাইসেন্স দেওয়ার কাজ শুরু করেছে মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স, কিন্তু সম্প্রতি জমা পড়া আবেদনের বাইরে আগের ঠিকাদারের সময় আটকে থাকা লাইসেন্স নিয়ে কাজ করতে পারেনি এই প্রতিষ্ঠান।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, আটকে থাকা লাইসেন্সের কাজ সেনাবাহিনী ছয় মাসের মধ্যে শেষ করে দেবে। এই জমে থাকা লাইসেন্সের কাজ মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স করতে পারবে—এমন সক্ষমতার প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। মাদ্রাজ সিকিউরিটি আটকে থাকা লাইসেন্স দিতে অন্তত দুই বছর সময় নেবে। তারা জমে থাকা লাইসেন্সের বাইরে নতুন করে যে আবেদনগুলো পড়ছে সেগুলো ঠিকমতো করতে পারলেই হলো।

কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত