প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাল ভিসায় আফ্রিকানদের বাংলাদেশে আসা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের চিঠি

নিউজ ডেস্ক: জাল ভিসা এবং জাল আমন্ত্রণপত্র নিয়ে নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকান অন্য দেশের নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে নানা অপরাধে জাড়িয়ে পড়ছেন। এটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জাগো নিউজ ২৪

গত ৪ অক্টোবর সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে তিনটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রতারণার মাধ্যমে নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকান অন্য দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে আনার সঙ্গে জড়িত কালো তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক/শিল্প প্রতিষ্ঠান ও এনজিও’র তালিকা চেয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন এলাকা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির সিনিয়র সচিব, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো মহাপরিচালক, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নাইজেরিয়াসহ অন্য আফ্রিকান দেশ থেকে বিদেশি নাগরিকরা জাল ভিসা এবং জাল আমন্ত্রণপত্র নিয়ে বাংলাদেশ এসে থাকেন। বাংলাদেশে প্রবেশের পর তারা ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি না করে অবৈধ হয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করেন এবং এটিএমকার্ড জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা, জাল মুদ্রা তৈরি ও প্রতারণাসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এতে আরও বলা হয়, আফ্রিকান দেশগুলো থেকে কোনো যাত্রী বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে ইমিগ্রেশনে আসলে ইমিগ্রেশন পুলিশ ভিসার সঠিকতা যাচাইয়ের পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে ভিসা ইস্যু করা হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাচাইসহ তাদের বাংলাদেশে আগমনের যৌক্তিকতা যাচাই করে থাকে। যাচাইয়ে জাল ভিসা শনাক্তের পাশাপাশি দেখা যায়, যাত্রীদের ভিসা ঠিক থাকলেও আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নামসর্বস্ব অর্থাৎ তাদের কোনো কার্যক্রম এবং ঠিকানা সঠিক থাকে না।

এই অবস্থায় কালো তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক/শিল্প প্রতিষ্ঠান ও এনজিও’র নাম, ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানের তালিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই চিঠিতে।

জাল ভিসা এবং জাল আমন্ত্রণপত্র নিয়ে নাইজেরিয়াসহ অন্য আফ্রিকান দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে তিনটি নির্দেশনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব), সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবের কাছে আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিন নির্দেশনার বিষয়ে এই চিঠিতে বলা হয়, সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে/প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বিদ্যমান ভিসার মেয়াদ শেষের আগেই তা বৃদ্ধির সুপারিশ করে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কোনো বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের (বেসরকারি) বিরুদ্ধে ভিসার বিদ্যমান পরিপত্র অনুযায়ী অর্থদণ্ড আরোপের বিষয়টি নিশ্চিতকরণ করতে হবে। অবৈধ অভিবাসের জন্য সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদেরকে বিধি মোতাবেক চলে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, বিষয়টি বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে জানানোর জন্য পররাষ্ট্র সচিবকে (সিনিয়র সচিব) চারটি নির্দেশনা দিয়ে আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, নাইজেরিয়াসহ অন্য আফ্রিকান দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ মিশনগুলো ভিসা দেওয়ার আগে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এবং ওই বিদেশি নাগরিক সম্পর্কে সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাধ্যমে এসবি প্রতিবেদন গ্রহণ করে ভিসা দিতে হবে।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো মেশির রিডেবল ভিসার পরিবর্তে যেন হাতে লেখা ভিসা না দেয় সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেসব দেশে মেশির রিডেবল ভিসা দেওয়ার সিস্টেম নেই, সেই সব দেশের মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের যেসব নাগরিকদের ভিসা দেবে তাদের তালিকা সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানাতে হবে।

এছাড়া যেসব দেশে মেশির রিডেবল ভিসা সিস্টেম নেই, সেই সব দেশে মেশির রিডেবল ভিসা সিস্টেম দ্রুত চালুর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয় সুরক্ষা সেবা বিভাগের চিঠিতে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত