প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসান শান্তনু: আমাদের সাংবাদিকতায় নোবেল পুরস্কার আসবে?

হাসান শান্তনু: এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া দুই সাংবাদিকের একজন রাশিয়ার দিমিত্রি আন্দ্রেয়েভিচ মুরতাভ অন্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে বাক্য ব্যবহারে খুবই স্বৈরতান্ত্রিক! রাশিয়ায় কারাবন্দি, নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির প্রাপ্য ছিলো এবারের শান্তি পুরস্কার এটা মনে করেন দেশটির ভদিমির পুতিন সরকার বিরোধী সাংবাদিক সমাজের অনেক সদস্য। তাদের উদ্দেশ করে প্রচারমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় গতকাল দিমিত্রি ‘ফাক ইউ’ শব্দও ব্যবহার করেছেন। যা রাশিয়ার প্রচারমাধ্যম ‘আরটি’ গতরাতে ‘আনসেন্সরড’ প্রচার করে। এবার শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন বলে বেশি আলোচিতও ছিলেন নাভালনি। দিমিত্রি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন ‘ভিন্নমত প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের’ জন্য। তার দেশের ‘গণতন্ত্রপন্থি সাংবাদিকরা’ ভিন্নমত প্রকাশ করায় তিনি যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, এতে অন্যমতের প্রতি তার সম্মান আছে কিনা এ প্রশ্ন সামনে আসছে। ১৯৩৫ সালের পর এবার শান্তিতে যৌথভাবে নোবেল পান দিমিত্রিসহ ফিলিপাইনের মারিয়া রেসা। ’৩৫ সালে জার্মান সাংবাদিক কার্ল ফন অসিয়েতস্কি এ পুরস্কার পান। কার্লের পুরস্কার নিয়েও মারাত্মক বিতর্ক ওঠে। বলা হয়ে থাকে, সাংবাদিকতায় অবদানের তুলনায় ইহুদিদের পক্ষ নেওয়ায় তিনি পুরস্কার পান। মারিয়া রেসা ফিলিপাইন থেকে প্রচারিত যে অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন, সেটা চালানোর টাকা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যা তাসনিম খলিলের ‘নেত্র নিউজ’ আদলের।

রেসার পোর্টাল আলোচিত বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রচার করেছে। তিনি রদ্রিগো দুতার্তের কর্তৃত্ববাদী সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যা অবশ্যই নিন্দাযোগ্য। তাকে সাংবাদিকতার যতোটা, এর চেয়ে বেশি পশ্চিমা কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট দুতার্তের সরকারের সমালোচক হওয়ায় পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এমনটাই বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। নিজ দেশে মুসলমান সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়েও তিনি বেশ চুপ। দিমিত্রি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর কঠোর সমালোচক। তিনি প্রকাশ্যে পশ্চিমা পুুঁজিবাদের পক্ষে। তার সম্পাদিত পত্রিকায় পুতিন সরকারের ঘনিষ্ঠ একজনের মালিকানা আছে। পুতিনের যতোটা সমালোচক তিনি, এর চেয়েও বেশি সমালোচক পুতিনের ‘রাজনৈতিক শত্র’ নাভালনির। বলা হচ্ছে তাকে পুরস্কার দিয়ে পুতিনকে খুশি করতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা। একই সঙ্গে পশ্চিমা নাগরিক ও রাশিয়ায় নাভালনির সমর্থকদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে কথিত ঠান্ডা যুদ্ধের বদলে আফগানিস্তানের তালেবানসহ অন্যান্য ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্ব পুতিনের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চাচ্ছে। যতো ‘শত্রæতাই’ থাকুক, নাইন ইলেভেনে টুইন টাওয়ারে হামলার পর আফগানিস্তান দখলে যুক্তরাষ্ট্র পাশে পেয়েছে পুতিনকে। নোবেল কমিটির রীতি অনুযায়ী শান্তিতে পুরস্কারের জন্য তাদেরই বেছে নেওয়া হয় যারা পুঁজিবাদের পক্ষে, পশ্চিমা দেশগুলোর ‘অপছন্দের সরকারের’ চাপে নিজ ভ‚খ নির্বাসিত, ভিন্নমতাবলম্বী বা মূল পন্থার পরিপন্থী। এমন ব্যক্তিদের দেশেও আবার পশ্চিমাদের সরাসরি কোনো স্বার্থ জড়িত থাকলে সময়, পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের পুরস্কারের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়া নোবেল কমিটির দায়িত্বের অংশ।

এবারের শান্তি পুরস্কার কর্তৃত্ব সরকারের বিরুদ্ধে ‘মত ও তথ্যের স্বাধীনতার লড়াই’ বলে যা দাবি করা হচ্ছে সেগুলো নিঃসন্দেহে অতিরিক্ত। মত, তথ্য প্রকাশের ভ‚মিকার প্রকৃত বিচারে হলে এডওয়ার্ড স্নোডেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জরা পুরস্কার পেতেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী সরকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যারা সাংবাদিকতা করেন, তাদের মধ্যে থেকেও কারো প্রাপ্য ছিলো। দিমিত্রি, রেসার নোবেল পাওয়া পত্রিকা দুটির চেয়ে আরো উন্নত মানের ইংরেজি, বাংলা পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রচারিত, প্রকাশিত হয়। এ দেশে তাদের সাংবাদিকতাও আন্তর্জাতিক মানের। তাদের লেখার সাধ্যের ছাপ, অনুসন্ধান, গভীর মনোবিশ্লেষণ, নিজস্ব ভাষাভঙ্গি, ভাবনার গভীরতা, ভাষা ও প্রকাশের নতুনত্ব থাকে প্রতিবেদনে। দুই সাংবাদিকের নোবেল পাওয়ার যে ভ‚মিকা, তা সাংবাদিকতায় এ দেশে অনেকে রাখছেন। অনেক রাষ্ট্রের সাংবাদিকই এ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নোবেল পাবেন না, অবশ্য অনেকে সাহসী সাংবাদিকতা করলেও এ জাতীয় পুরস্কারের কথা কখনো ভাবেনও না। কোনো পেশারই সব মানুষ পুরস্কারের আশায় মহৎ কাজ করেন, এটা কোনোকালেই সত্য ছিলো না। বাংলাদেশকে পশ্চিমা বিশ্ব দেখে ভারতের চোখে। সরাসরি দেখার মতো স্বার্থ না থাকলে পশ্চিমাদের কাছে কোনো দেশ গুরুত্ব পায় না। একটা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি উন্নত দেশগুলোর কাঠামোর মতো হলেও গুরুত্ব বাড়ে। সবকিছুর পরও কোনো রাষ্ট্রের সাংবাদিকদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ যারা লালন করবেন, ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদের দখল দারিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, পুুঁজিবাদের দূষিত রাজনীতির বিপক্ষে কথা বলবেনÑ তারা নোবেল পাবেন না। এটা আমাদের দেশের সাংবাদিকদের বেলায়ও সত্য। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ