প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সুপারি চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান চাষীরা, চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা

আয়াছ রনি: [২] কক্সবাজারের আট উপজেলায় এ বছর ও সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। সুপারির হাটে ভালো দাম পেয়ে সুপারির বাগান মালিকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

[৩] কক্সবাজার জেলার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি উৎপাদনে উপযোগী।জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিশাল-বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সুপারি বাগান।মৌসুমি অর্থকারী এ ফসলকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত সুপারির বাজার দর ভালো থাকায় সুপারি চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

[৪] ভারী প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাই মুক্ত পরিবেশ পাওয়ায় চলতি বছর কক্সবাজারে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার আট উপজেলায় প্রায় ৩৫১৪ হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিকটন। উৎপাদিত সুপারি স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

[৫] বাজার দর হিসেবে এই বছরে উৎপাদিত সুপারি বিক্রয় করে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা আয় হবার সম্ভাবনা দেখছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে করে সুপারি চাষি পরিবার ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। আর বাণিজ্যিক সুপারি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে অনেকে।

[৬] জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলায় চলিত বছরে ৩৫১৪ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে টেকনাফে ১২৬০ হেক্টর, উখিয়ায় ৯৭০ হেক্টর, কক্সবাজার সদরে ৬৭৫ হেক্টর, রামুতে ৪০০ হেক্টর, মহেশখালীতে ১৫০ হেক্টর, চকরিয়ায় ৪০ হেক্টর, কুতুবদিয়ায় ১৩ হেক্টর ও পেকুয়ায় ৬ হেক্টর ভূমি বাণিজ্যিক ভাবে সুপারি চাষের আওতায় আসে।

[৭] হিসাব মতে প্রতি হেক্টর জমিতে ২.৭ টন সুপারি উৎপাদিত হয়। সে হিসেবে এবছর ফলন উঠবে প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিকটন। প্রতি পোন (৮০পিস) বা কেজি প্রতি সুপারি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। সে হিসাবে এবারে সুপারি বিক্রি করে আয় হবে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।গত বছর সুপারি চাষের আওতায় ছিল ৩,৪০০ হেক্টর জমি।

[৮] সরেজমিনে কয়েকটি বাজারে দেখা যায়,স্থানীয় বাগানে উৎপাদিত সুপারি বাজারে ক্রয় বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। এবারে সুপারির দাম চাষিদের অনুকূলে রয়েছে। যার ফলে স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছে ব্যবসায়ীরা।এছাড়া দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকলে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

[৯] কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, কৃষি নির্ভর অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে আমরা সবসময় সচেষ্ট রয়েছি। মৌসুমি অর্থকরী ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তৎপরতায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে।

[১০] তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার ও বেশি সুপারি বিক্রয় হবে বলে আশা রাখছি। সুপারি বাজারজাতে কৃষকেরা লাভবান হওয়ায় এলাকাভিত্তিক সুপারি চাষ ক্রমশ বাড়ছে, এটা কৃষি কাজের জন্য ইতিবাচক।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত