প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহীদের লাগাম টানতে কী করবে আওয়ামী লীগ

নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন শুরু হচ্ছে ১১ নভেম্বর। এ লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন-প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। দলের মনোনীত নেতাদের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বিদ্রোহীও প্রার্থী হতে পারেন। তবে, সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তবে, অতীতেও হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও বিদ্রোহীদের দমাতে পারেনি ক্ষমতাসীন দলটি। এখন প্রশ্ন উঠছে এবার বিদ্রোহীদের লাগাম টেনে ধরতে কী করবে আওয়ামী লীগ? ইত্তেফাক

এদিকে, আগের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না-নেওয়া, স্থানীয় পর্যায় রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রাখা ও প্রভাবশালী নেতাদের প্রশ্রয়ে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন বিদ্রোহীরা। এছাড়া, ভুল প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে, ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় প্রভাব বিরাজমান রাখা ছাড়াও কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ ভালো না থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। আবার তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ে একদিকে যেমন দল হারাচ্ছে জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে অভিমানে দূরে সরে যাচ্ছেন দলের ত্যাগী, পরিশ্রমী নেতারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘তৃণমূলের কর্মীবাহিনী ও তাদের ঐক্যই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। দলের গঠনতন্ত্র ও আইন মেনে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে হবে। কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

দলের মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে পেছনে ফেলে কেন বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, ব্যক্তি চরিত্র, অতীতের ত্যাগ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মূলত মনোনয়ন দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বর্তমান নির্বাচনগুলোয় কেবল আওয়ামী লীগই অংশ নিচ্ছে। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী অন্য দলগুলো দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এরই সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন। এরফলে আওয়ামীবিরোধী প্রার্থী যে ভোট পাওয়ার কথা, সেই ভোট দলের বিদ্রোহীদের বাক্সে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতেই বিদ্রোহী প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’

আফজাল হোসেন আরও বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায় নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন হলেও এই নির্বাচনে মূলত স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন মেরুকরণের বিষয়গুলো কাজ করে। সেক্ষেত্রে আমরা মনোনয়নের বিষয়গুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেই। তারপরও দেখা যায় এলাকার স্থানীয় কিছু রসায়ন রয়েছে। সেজন্যই হয়তো কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হন।’

বিদ্রোহী প্রার্থী দমনের প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় নেতার পাশাপাশি সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের পরস্পরের মতের অমিলের কারণেও বিদ্রোহী প্রার্থী তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে, আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। যারাই নৌকার বিরোধিতা করবেন, তাকে নৌকা দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক যে কর্মকাণ্ড সেটিও হুমকির মধ্যে পড়বে। পাশাপাশি যারা নৌকাবিরোধী প্রার্থীদের সমর্থন জোগাবেন, তারা কিন্তু পার পাবেন না।’

কেন বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মো. ইকবাল হোসেন অপু বলেন, ‘দল ক্ষমতায় আসার পর যারা আওয়ামী লীগে ঢুকেছেন, তাদের সঙ্গে দলের কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী নেতাকর্মীর জন্যই মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী তৈরি হচ্ছে। যদি আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়, পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই, নৌকাকে ফেল করায়। যেখানে আওয়ামী লীগ দ্বিধাবিভক্ত, সে জায়গায় বিদ্রোহীরা পাস করবেন। এমন অবস্থা হওয়া উচিত না। কারণ, নৌকা হলো বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক ও শেখ হাসিনার প্রতীক। এই প্রতীক আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, এই প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র মুক্ত করে এনে দিয়েছে। প্রার্থী বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে নৌকা। নৌকাকে বিজয় করা আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীদের দায়িত্ব।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত