প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দক্ষতা-ই তাঁকে করে তুলেছে বাঙালির কাঙ্ক্ষিত দেশরত্ন শেখ হাসিনা

দীপক চৌধুরী: বিএনপিসহ সমমনা কিছু দল যখন গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে আওয়ামী লীগের দোষ খোঁজার চেষ্টা করে তখন প্রশ্ন জাগে তারা তাদের অতীত থেকে কেনো শিক্ষা নেয়নি কেন? কেন একবারও দেখছে না তাদের নিজেদের করা অপকর্মগুলো। নিজেদের নজিরবিহীন কাণ্ডকারখান নিয়ে তর্জমা-বিশ্লেষণ করছে না। ইতিহাস থেকে জানতে পারি, বিএনপি নামের দলটি নির্বাচন পদ্ধতি, নির্বাচন কমিশন, রাজনীতি, গণতন্ত্রকে এদেশে চিরতরে হত্যা করেছে। এখন যেখানে আইনীভাবে সবকিছু হচ্ছে সেখানে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কী? জাতি বুঝতে পেরেছে যে, বিএনপি-জাতীয় পার্টির মতো আওয়ামী লীগের পক্ষে গণতন্ত্রকে হত্যা করা সম্ভব নয়, রাজাকার-জামায়াতকে দলে টেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এটা জেনেও রাজনীতিকে নোংরা করে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার খেলায় নেমেছে বিএনপি। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে যখন একটি অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদেরকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যখন কোনো আইনের শাসন ছিল না- সেই দুর্বিসহ সময়ে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন আলোর দিশারী হয়ে। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেই দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর প্রতিটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন। ভোট-ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শত শতবার বাধার মুখে পড়েছেন। তাঁর সমাবেশে গুলি চালানো হয়েছে। হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেননি। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু যেমন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন ঠিক তেমনি জাতির পিতার মতো শেখ হাসিনাও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সেই ব্রত নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে এবং খালেদা জিয়ার বিএনপিসহ সমমনা দলের কারসাজিতে সৃষ্ট অগ্রণতন্ত্রেক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়েও তিনি নেতৃত্ব দেন।এককথায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতেই শেখ হাসিনাকে কষ্টভোগ করতে হয়েছিল।

বাংলাদেশকে বিশ্বের মানুষ এখন মর্যাদার চোখে দেখে। এদেশের সকল অর্জনই সম্ভব হয়েছে তাঁর সাহস ও সততার কারণে। সহজ নিরাভরণ জীবন যাপন করেন তিনি। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। দেশের প্রতিটি খাত নিয়ে তার একটা পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা মতো তিনি এগিয়ে চলেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় অত্যন্ত মানবিক ও আন্তরিকতা দেখা যায়।

গণভবন সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার মধ্য দিয়ে দিন শুরু হয় শেখ হাসিনার। এরপরে কোরআন তেলাওয়াত করেন। ফজরের নামাজ শেষ করে চা-নাস্তা খাওয়ার পাশাপাশি সংবাদপত্র পড়েন। পত্রিকায় সারাদেশের অবস্থাটি দেখেন। আমাদের গণমাধ্যমগুলোর বৈশিষ্ট্য জানেন। সবকটি যে সত্যি নয় তা জেনেও শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য কোথাও বা কখনো কখনো প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন। শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের এত অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা কেনো, কারণ, মানুষের যে ৫টি মৌলিক চাহিদা রয়েছে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার মানুষকে তা দিতে পেরেছেন।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী না হলে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচার হতো না, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না। বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের মানুষ এখন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে। এসব অজর্নে দেশের মানুষ তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। কৃতিত্বের সম্পূর্ণটা দেশরত্ন শেখ হাসিনার। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে না থাকতেন তাহলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, দর্শন ও চিন্তারজগতে এক স্বৈরাচারের রাজত্ব চলতো। বাংলাদেশ আজো তলাবিহীন ঝুড়ি হয়েই থাকতো। আমরা কাঁদতাম। পাকিস্তানের ভয়াবহ নাজুক অবস্থা তো দেখতেই পারছে দুনিয়াবাসী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এটা এখন বোঝা দরকার যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু জাতীয় নেতাই নন, তিনি এখন তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ সরকারপ্রধান। তিনি পথ দেখিয়েছেন কীভাবে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হওয়া সম্ভব। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির চিন্তা, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উদার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বিজ্ঞানমনস্ক জীবনদৃষ্টি তাঁকে করে তুলেছে বাঙালির কাক্সিক্ষত দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি ও এসএমই খাতে এসেছে নজিরবিহীন সাফল্য।
১৯৭১-এর বহু আগ থেকেই শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত্র হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে। শুরু হয় প্রচণ্ড দমন-নির্যাতন। আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। তার জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর বিপদাশংকা ও দুঃসহ দুঃখ-যন্ত্রণা। ঝড়ের দিনগুলো বঙ্গবন্ধুকন্যা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই যন্ত্রণা দেখে তো জননেত্রী শেখ হাসিনা অভ্যস্ত। একটি দেশ কীভাবে স্বাধীন করা সম্ভব তা বঙ্গবন্ধু দেখিয়ে গেছেন। একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কীভাবে বাঙালি জাতির কাণ্ডারি হয়েছেন তার ইতিহাস এদেশের মানুষ দেখেছে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন রূপায়নের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। আর জননেত্রী শেখ হাসিনা দিচ্ছেন উন্নয়ন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার ও ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত