প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রভাষ আমিন: যে কারণে বিএনপি নিজেদের করণীয় ও ভবিষ্যৎ স্থির করতে পারছে না

প্রভাষ আমিন: মানুষ কেন বিএনপিকে ভোট দেবে? আওয়ামী লীগকে বদলে বিএনপিকে আনলে কী এমন পরিবর্তন হবে? যদিও ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। তবু বিএনপির সর্বশেষ ৫ বছরের দুঃশাসনের কথা মানুষ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল যেটা বলেছেন, সেখানেই লুকিয়ে আছে বিএনপির ব্যর্থতা। ‘আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে বাঁচতে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে’ তার মানে বিএনপির নিজেদের কোনো অর্জন বা যোগ্যতা নেই। গত এক যুগে তারা জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেনি। নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারেনি। আর আওয়ামী লীগ থেকে বাঁচতে বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে বিএনপির হাত থেকে তাদের কে বাঁচাবে? ভোট দিয়ে ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে ঝাঁপ দেবে কেন মানুষ।

‘আওয়ামী লীগ থেকে বাঁচতে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে’ এই নেতিবাচক ভোটের আশায় বসে না থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেদিন বিএনপিকে ভোট দেওয়ার পক্ষে ইতিবাচক যুক্তি তুলে ধরতে পারবেন, অতীতের ভুলত্রæটি স্বীকার করে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে পারবেন, সেদিন তাদের রাজনীতি নতুন করে শুরু হবে। আওয়ামী লীগ খারাপ। কিন্তু বিএনপিও তো ধোয়া তুলসি পাতা নয়। এক খারাপকে বিদায় করে আরেক খারাপকে আনার দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে। বিএনপির আরেকটা বড় সংকট তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব। আগামী নির্বাচনে বিএনপির নেতা কে? এই প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াই তাদের নেতা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুর্নীতির মামলায় দপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এখন বিএনপির কোনোও পদে নেই।

সরকারের অনুগ্রহে তিনি এখন কারাগারের বদলে নিজ বাসায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন বটে, তবে বিএনপি যেন তাকে ভুলেই গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার যা বয়স, শারীরিক যে অবস্থা তাতে তিনি আবার নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবেন, এটা বিশ্বাস করার লোক বিএনপিতেও খুব বেশি নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক মামলার দ নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে আছেন। লন্ডন থেকেই তিনি দল চালাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে একটি দল চালানো যায়, কিন্তু সে দলকে আন্দোলন বা নির্বাচনে ক্ষমতায় আনা কঠিন।

তাছাড়া দেশে-বিদেশে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। তাই আওয়ামী লীগ থেকে বাঁচতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হলে নেতৃত্ব আগে ঠিক করতে হবে। একটা কথা বলা হয়, সিদ্ধান্তহীনতার চেয়ে ভুল সিদ্ধান্তও ভালো। এই কথাটা বিএনপির ক্ষেত্রেও খাটে। তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, সিদ্ধান্তহীনতা। একবার নির্বাচন বয়কট, একবার অংশগ্রহণ, একবার সংসদ বয়কট, একবার যোগদান, কখনো আন্দোলন, কখনো ঢিমেতালে, কখনো ড. কামালের সঙ্গে, কখনো জামায়াত বিএনপি আসলে নিজেদের করণীয় ও ভবিষ্যৎ স্থির করতে পারছে না। আওয়ামী লীগের মতো বড় ও শক্তিশালী দলকে হটাতে হলে নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করতে, সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে হবে, নেতৃত্ব ঠিক করতে হবে। হাওয়াই কথা বলে লাভ হবে না।

আমরা গণতন্ত্র চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, যাতে মানুষ নিজেদের ভোট দিতে পারে, পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নিতে পারে। কিন্তু গণতন্ত্র মানে যেন শুধু এক দুঃশাসক বদলে আরেক দুঃশাসককে ক্ষমতায় আনা না হয়। গণতন্ত্রের পথ ধরে আসে সুশাসন, মানবাধিকার, টেকসই অগ্রগতি, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত