প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা, আফগান ও ইয়েমেন পরিস্থিতি ও সৌদি যুবরাজের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার নিউক্যাসল ক্রয়

রাশিদ রিয়াজ : মুখে সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজরা নিজেদের ইসলামী উম্মাহর খাদেম হিসেবে পরিচয় দেন। নিজেদের আয়ের উৎস কখনোই প্রকাশ করেন না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহতিার ধার ধারেন না। সৌদি আরবে বাক স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। কোনো সৌদি নাগরিক তা দাবি করলে তার পরিণতি হয় সাংবাদিক জামাল খাসোগজির মত। সভ্যদেশের ধারক পরাশক্তি দেশগুলো তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে ও তাদের তেল সম্পদ কুক্ষিগত করতে সাত খুন মাফ করে দেয়। এ কারণেই রোহিঙ্গা মুসলমানরা যখন মানবেতর জীবন যাপন করে, ইসরায়েলের বোমা বর্ষণে গাজায় ফিলিস্তিনিরা মারা যায়, ফিলিস্তিনের আয়তন ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হতে থাকে, আফগানিস্তানের মুসলমানরা যখন দেশ ছেড়ে পালাতে পারলে বাঁচে, কাবুল বিমান বন্দরে বিমানে তাদের ওঠার দৃশ্য ও বিমানের চাকা থেকে দুই ব্যক্তির পড়ে যাওয়ার দৃশ্য ক’দিন আগেও বিশ্ববাসী দেখেছে। ঘটি বাটি বিক্রি করে এক মুঠো খাবার যোগার করতে মরিয়া, ইয়েমেনে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে, তখনো সৌদি যুবরাজ বিন সালমানের বিলাসবহুল জীবনে বিলাসিতার কোনো ঘাটতি হয় না। অথচ তার এ টাকা স্বউপার্জিত নয়, তেলের টাকা যার মালিক সৌদি জনগণ। তার টাকায় হাজিদের টাকার অংশও আছে। আর ইসলাম ধর্ম অনুসারে জান ও মালের মালিক আল্লাহ বলে এসব সৌদি যুবরাজরা তাদের মালের হিসেব দিতে বাধ্য কারণ তারা নিজেদের মুসলিম দেশগুলোর খাদেম পরিচয় দিতে বা বিশ^ মুসলিম উম্মাহর অভিভাবক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চলেন। খলিফা উমরের জামার পরিধি একটু বড় হওয়ায় মসজিদে তাকে জবাবদিহী করতে হয়েছিল। খলিফা উমর বলতে বাধ্য হয়েছিলেন তার পুত্রের জামার কাপড়ের ভাগ তাকে দিয়ে দেওয়ায় জামার পরিধি একটু বড় হয়েছে। আমরা মনে করি নবীজী (সা:) দেশ বলে সৌদি আরবের কোনো সমালোচনা করা ঠিক নয়। কিন্তু ইসলাম তা কতটুকু সমর্থন করে।

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকায় ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড কিনে নিয়েছে সৌদি মালিকানাধীন কনসোর্টিয়াম। যার প্রধান সৌদি যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এই কনসোর্টিয়ামের অধীনে রয়েছে পিআইএফ, পিসিপি ক্যাপিটাল পার্টনার্স ও আরবি স্পোর্টস মিডিয়া। ক্লাবটির মালিকানা বদল করেন ব্রিটিশ ধনকুবের মাইক অ্যাশলি। সৌদি যুবরাজরা আজ পর্যন্ত হার্ভার্ড, অক্সফোর্ডের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেননি। অথচ বিশ্বের প্রথম বিশ্বিবিদ্যালয় মরোক্কোতে গড়ে তুলেছিলেন একজন মুসলিম নারী ফাতিমা। বস্তুত প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিজ্ঞানে পিছিয়ে থেকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার নাগাল পাচ্ছে না মুসলিম দেশগুলো। আর পরাশক্তি দেশগুলো সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়ার মত একাধিক মুসলিম দেশগুলোতে যুদ্ধ চালিয়ে লাখ লাখ অভিবাসীকে সস্তা শ্রমিক বানানোর কৌশল নিয়েছে।

এহেন পরিস্থিতিতে বিন সালমানরা কিভাবে বিলাস জীবন যাপন ও উৎপাদনশীল নয় এমন খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। কারণ তাদের অন্তর কোনোভাবেই রোহিঙ্গা, আফগানিস্তান, ইয়েমেনের মুসলিমদের জন্যে কাঁদে না। এই বিন সালমান সিংহ পালেন, শতাধিক বিলাসবহুল গাড়ির বহর আছে যার মধ্যে ফেরারি আছে ৪৩টি। মালদ্বীপে অর্ধশতাধিক নারী ও পুরুষ বন্ধুদের নিয়ে ফুর্তি করেন যেখানে এক রাতেই হোটেল রুম ভাড়া দিতে হয় ১২ লাখ টাকার বেশি। সেখানে তারা মাসের পর মাস মউজ ফুর্তিতে লিপ্ত থাকেন। ফ্রান্সের বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনেন। সেখানে বাস করেন না কেউ, বছরে কোনো সময় ইচ্ছে হলে বিন সালমান প্রাসাদে পা রাখেন মাত্র। লন্ডনের রাস্তায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ির দিকে মানুষ তাকিয়ে হতবাক হয়ে যায়। তারা ভাবেন আমাদের নবীজী (সা:) সারাজীবন খেজুরের চাটাইয়ে শুতেন। মৃত্যুর আগে কয়েকটি স্বর্ণ মুদ্রা ছিল ঘরে তাও দান করে যান। আর এই ইসলামের খাদেম পরিচয় দেয়া বাদশাহ ও যুবরাজরা কি করছেন। স্রেফ খ্যাতির জন্যে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছেন। এ টাকা তারা বিনিয়োগ করলে এবং সেখানে মানুষ কাজ পেলে, মুনাফা আসত যা মুসলমানদের দারিদ্র বিমোচনে কাজে আসত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত