প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ২০ দলীয় জোটে টানাপোড়েন, বিএনপির একলা চলো নীতিতে ক্ষুব্ধ শরিকরা

মহসীন কবির: [২] ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল ১৮ দল এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ২টি দলের সমন্বয়ে বিশ দলীয় জোট গঠিত হয়। বিভিন্ন সময়ে শরিকরা চলে যাওয়ায় জোটের ভেতরে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।  বিএনপি নেতারা বলছেন, শরিকদের জোট ছাড়ার পেছনে বিএনপির নিষ্ক্রিয়তা বা অবহেলা মূল কারণ নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক শক্তি কাজ করছে। এছাড়া বিএনপির একলা চলো নীতিতে ক্ষুব্ধ শরিকরা দল ছেড়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

[৩] গত ১ অক্টোবর বিএনপি জোটে থাকা সর্বশেষ নিবন্ধিত ইসলামি রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিশ জোট ছেড়েছে। এর আগে জোট ছাড়ে ১৪ জুলাই কওমি আলেমদের পুরনো দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশও। এর বাইরে যে কয়টি ধর্মভিত্তিক দল আছে তারা মূলত এর আগে জোট ছেড়ে যাওয়া দলগুলোর খন্ডিত অংশ।

[৪] এ বিষয়ে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের চাপে জোট ছেড়েছে খেলাফত মজলিশ। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করতে সরকারের অপচেষ্টার অংশ এটি। এভাবে সরকার আগেও সফল হয়নি, এবারও হবে না। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে এর প্রমাণ মিলবে। দৈনিক আমাদের সময়

[৫] বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, চাপে ফেলে বিএনপি জোট থেকে শরিকদের বিচ্ছিন্ন করা হলেও এসব দলের কর্মী, সমর্থক ও ভোটাররা তাদের সঙ্গেই আছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষকে ভোট দেবে তারা।

[৬] কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম মনে করেন, জোটে থাকা বা না থাকা একান্তভাবেই একটি দলের নিজস্ব এখতিয়ার। এই সম্পর্ক গড়ে উঠে প্রধান শরিক বিএনপি এবং জোটে থাকা অন্যান্য দলের মধ্যে। আমরা মনে করি, আগামী দিনেও সম্মিলিত সংগ্রাম প্রয়োজন হবে। অতএব আত্মসমালোচনামূলক মূল্যায়নের মাধ্যমে জোটকে শক্তিশালী করা বা সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। যুগান্তর

[৭] কর্নেল (অব) ড. অলি আহমদ বলেন, জোটে যেহেতু একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে, অনেকের মধ্যে হতাশা কাজ করছে এবং ভালো ভবিষ্যৎ দেখছে না। তাই কিছু দিন পর পর বৈঠক হলে সবাই যার যার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারত এবং সমাধান পেত। তা হলে এ ধরনের হতাশা কাজ করত না, দূরত্ব সৃষ্টি হতো না, কেউ জোট ছেড়েও যেত না।

[৭]  ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, মূলত যারা জোট ছেড়ে চলে গেছে, তারা ইসলামি দল। তাদের ওপর সরকারের চাপ আছে, এটাও যেমন ঠিক, আবার দীর্ঘদিন ধরে জোটের বৈঠক হচ্ছে না-এটাও কারণ। যত চাপ থাকুক, বৈঠক যদি দুই মাসেও একবার হতো এই দলগুলো যেত না। তখন তারা এই কথা বলত পারত না যে, নির্বাচনের পর কোনো বৈঠক হয়নি, নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে। বিএনপির উচিত হবে জোটকে বেগবান করা। বিএনপি যেহেতু নেতৃত্বে, তাই তাদেরই সব শরিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে খুব শিগগিরই একটি বৈঠক ডেকে ভুল বোঝাবুঝির অবসান করা উচিত। যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত