প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: যোগ্য মানুষদের সামনে এগিয়ে দেওয়া সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন : সুকি মানাবে। এবার ক্লাইমেট চেঞ্জের ওপর কাজ করে নোবেল পুরস্কার পেলেন। তার বয়স এখন ৯০! তথাপি তিনি এই ৯০ বছর বয়সেও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। সেই জন্যই বলি জ্ঞানী মানুষদের কোনো রিটায়ারমেন্ট বয়স নেই। তারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চাকিরিতে থাকে। না থাকে না তাদের রেখে দেওয়া হয়। বড় বড় অধ্যাপকদের বা শিক্ষকদের বয়স হিসাব করে চাকরি কিংবা প্রমোশন কোনোটাই হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাম গবেষকদের মাপার একমাত্র মানদণ্ড গবেষণা আর শিক্ষকতা। মৃত্যুর আগে ৮৮ বছর বয়সেও নোবেল জয়ী স্টিভেন ওয়াইনবার্গ টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে মাসে ৫ লাখ ডলার বেতন পেয়েছেন। এটিই ছিলো পদার্থবিজ্ঞানের কোনো অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতন।
আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে প্রমোশনের পৎরঃবৎরধ কী জানেন? মোট শিক্ষকতার ৭ বছরের অভিজ্ঞতা আর তার মধ্যে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর মোট ৫টি প্রকাশনা থাকতে হবে। সেটা দেশীয় জার্নালেও চলবে। এখন যদি এমন কেউ থাকে যার ৩০টি প্রকাশনা আছে এবং ৩০টির মধ্যে ২/৩ নেচার বা তার কাছাকাছি জার্নালে আছে। বাকিগুলোও খুব ভালো মানের জার্নালে আছে, কিন্তু তার মাত্র ৪ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কী তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদে প্রমোশন দেবে? না। একদম না। দরখাস্ত করার যোগ্যতাই থাকবে না। দরখাস্ত করলেও বিবেচনাতেই নেবে না। অথচ উচিত কাজ হতো তাকে পারলে সরাসরি অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া। তবেই না ব্যতিক্রমী মানুষ তৈরি হবে। ব্যতিক্রমী মানুষ তৈরির জন্য ব্যতিক্রমী পরিবেশ তৈরি করতে হয়।
আমাদের দেশে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা হলো ঐশী বিষয়। কোনো অবস্থাতেই এই নিয়ম ভাঙ্গা যাবে না। বয়সে কিংবা নিয়োগের শুরুতে একবার কেউ সিনিয়র হয়ে গেলে তাকে আর ডিঙ্গানোর কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যদি রাখা হতো সবাই ভালো কাজ করতো এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হতো। বয়সের বা চাকরির সিনিয়রিটি কোনো ঐশী জিনিস নয় যে যোগ্যতা দিয়ে সেটাকে উৎরানো যাবে না। যোগ্য মানুষদের সামনে এগিয়ে দেওয়া সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। তবেই সেখানে যোগ্য মানুষ থেকে আরো যোগ্যতর মানুষ তৈরি হবে। অনেকেই মাঝে মাঝে কমপ্লেইন করে এতো অল্প বয়সে প্রফেসর হয়ে গেছে? ফিল্ডস অ্যাওয়ার্ড জয়ী মারিয়াম মির্জাখানি ৪০ বছর বয়সে ফুল প্রফেসর। এর চেয়েও কম বয়সে অধ্যাপক হওয়ার উদাহরণও ভুরি ভুরি। এর নামই একাডেমিয়া। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়

সর্বাধিক পঠিত