প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবরার হত্যার রায় নভেম্বরে আশা রাষ্ট্রপক্ষের, খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় পরিবার

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় নভেম্বরের শুরুতেই পাওয়া যাবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের বিশে কৌঁসুলি আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, যৌক্তিক নানা কারণে বিচার কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। সব ঠিক থাকলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় আশা করছি। আদালতের রায়ের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারও ন্যায়বিচার পাবে।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হলো বুধবার। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকা, পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষের ভুলের কারণে পুনরায় অভিযোগ গঠন, বিচারকের প্রতি আসামিপক্ষের অনাস্থা, বিচারকের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার মতো ঘটনায় এ মামলার বিচার বিলম্বিত হয়েছে বারবার। বহুল আলোচিত এ মামলায় এখনো রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। এরপর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাবে। আবরার বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে আসামিরা সভা করে আবরারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। জানতে চাইলে আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বলেন, করোনার প্রভাব না পড়লে হয়তো মামলাটির বিচার এতদিনে শেষ হয়ে যেত। এখন আর যেন বিচার বিলম্বিত না হয় এটাই প্রত্যাশা করছি। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে পরবর্তীতে আর কেউ এমন নৃশংস কাজের সাহস পাবে না। এভাবে আর কোনো বাবা-মার বুক খালি হবে না।

মামলা ও বিচার : আবরার হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এরও আগে গত বছরের ২১ জানুয়ারি এ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। গত বছরের ১৮ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ মামলাটি বদলির আদেশ দেন। এরপর গত ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে। চার্জশিটে আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান ওরফে মিজানকে হত্যার মূল হোতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চার্জশিটে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং তদন্তে আগত ছয়জন রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে আটজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ মামলায় তিন আসামি পলাতক রয়েছে। এরা হল- বুয়েট শিক্ষার্থী মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। বাকিরা কারাগারে।

বিচারের অপেক্ষায় পরিবার : খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেখে যেতে চান নিহত আবরারের ৯০ বছর বয়সি দাদা আব্দুল গফুরসহ পরিবারের সদস্যরা। আর আবারের ব্যবহৃত জামা-কাপড়, বইপত্র হাতড়ে প্রিয় সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা রোকেয়া খাতুন। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামের বরকত উল্লাহ ও রোকেয়া দম্পতির বড় সন্তান। দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস বলেন-প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ সবাই বলেছেন আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেয়া হবে, কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো বিচার কাজ শেষ হয়নি, মৃত্যুর আগে আমার নাতির হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর দেখে যেতে চাই। কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসায় গেলে বুধবার দুপুরে গেট খুলে বেরিয়ে আসেন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ও তার মা রোকেয়া খাতুন। বাড়িতে ঢুকতেই আবরারের কক্ষ। সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে তার অর্জিত বিভিন্ন ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, বইপত্র, জামা, তসবি, টুপিসহ ব্যবহৃত জিনিসপত্র। ওই সব দেখিয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন মা রোকেয়া খাতুন। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, সবাই দেখেছেন আমার ছেলেকে কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হলেও হত্যাকারীরা এখনও জীবিত রয়েছে। অতি দ্রুত রায় ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকরের দাবি জানান তিনি। সূত্র: যুগান্তর

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত