প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নাজনীন আহমেদ: পাহাড়ের মানুষের পানি সংকট দূর করতে প্রয়োজন বহুমুখী উদ্যোগ

নাজনীন আহমেদ: রাঙামাটি জেলার কথা ভাবলেই আমাদের মনে পড়ে অপরূপ কাপ্তাই লেক আর তার পাড় ঘেঁষে সবুজ পাহাড়। কাপ্তাই লেকের পানি দেখে মনে হয় এখানে পাহাড়ি মানুষের পানির কোনো কষ্ট নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো পাহাড়ে মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা পানির সরবরাহ। পানির মূল উৎস ঝর্ণা, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেক ঝরণা যেমন শুকিয়ে যাচ্ছে তেমনি ঝর্ণা থেকে পানি সংগ্রহ হয়ে পড়ছে দুরূহ। তাছাড়া ঝর্ণাগুলো থেকে প্রতিদিন কয়েকশ ফিট নিচে হেঁটে পানি নিয়ে চলাচল করা যে কি অমানবিক কষ্ট তা বলে বোঝানোর নয়। রাঙামাটির পাহাড়ে মানুষের মল কষ্টই হলো পানির সরবরাহের অভাব। পানি সংগ্রহ করতে বিশেষ করে এই এলাকার নারীদের প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সময় ব্যয় করতে হয়। স¤প্রতি ড্যানিশ সরকারের সহায়তায় ইউএনডিপি এই সকল এলাকায় গভীর ঝর্ণা থেকে পাইপের মাধ্যমে একটি স্থানে পানির জমা করার ব্যবস্থা করেছে। যেখান থেকে মানুষ এসে তাদের প্রয়োজনীয় পানি সহজেই সংগ্রহ করতে পারে। এর ফলে পানি সংগ্রহের অমানবিক কষ্ট যেমন কমেছে তেমনি পানি আনতে নিচে প্রতিদিন যে চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যাহত সেটাও কম হচ্ছে।

রাঙামাটি ভ্রমণ এর দ্বিতীয় দিনে এমনই মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এমনই কিছু উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলাম রাঙামাটির দুর্গম এলাকা জুরাছড়িতে। সেখানে যাওয়ার জন্য জাতিসংঘের স্পিডবোটে করে দেড় ঘণ্টা কাপ্তাই লেকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তারপর জুরাছড়ির নৌকা ঘাটে নেমে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে আরও কয়েক কিলোমিটার। তারপর পায়ে হেঁটে উঁচুতে উঠতে হলো। সাধারণ মানুষের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ হয়েছি। তারা বারবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পানি সংগ্রহ কষ্ট কমানোর জন্য। এই পাহাড়ী এলাকায় মেয়েদের সাংসারিক কাজ চাষবাসের কাজ সহ নানান কিছু করতে হয়। ছেলেরা খুব কম পরিশ্রম করে। এই দুর্গম এলাকায় একবার গিয়েই আমি সহ আমার টিমের সকলের অবস্থা কাহিল অথচ এই পাহাড়ের মানুষ সারাদিন কত চলাচল করে। সেখান থেকে ফেরার পথে একটি বৌদ্ধ মন্দির ঘুরে আসলাম। আমরা আমাদের জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া দরকার যে আমরা শহরের মানুষ হিসেবে কত সুবিধায় আছি। পাহাড়ের মানুষের পানির সমস্যা দূর করতে আরো অনেক উদ্যোগ দরকার। লেখক : অর্থনীতিবিদ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত