প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা পরীক্ষায় দেরি হওয়ায় ফ্লাইট ধরতে পারেননি আমিরাতগামী যাত্রীরা

নিউজ ডেস্ক : ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করা থেকে শুরু করে উড়োজাহাজে ওঠা পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করতে দশবারও লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের। এসবের মধ্য দিয়ে বেশি সময় পার হওয়ায় করোনা পরীক্ষা করে ফ্লাইট ধরতে পারছেন না অনেকে। প্রথম আলো, বাংলাট্রিবিউন

প্রায় একই সময়ে ফ্লাইট থাকায় রাতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। এ কারণে ফ্লাইটের কমপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে আসার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের আরব আমিরাতগামী একটি ফ্লাইট ছিল। যাত্রার ছয় ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে এসে করোনা পরীক্ষা করে ফল আসতে দেরি হওয়ায় অন্তত ৮০ জন যাত্রী ফ্লাইটটি ধরতে পারেননি। বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার ফল দিতে বিলম্ব হওয়ায় তাঁরা নির্ধারিত সময়ে বোর্ডিং কাউন্টারে পৌঁছাতে পারেননি। আগেই কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর ফ্লাইট ধরা সম্ভব হয়নি।

যাত্রীদের করণীয় প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বলেন, যাত্রীদের সঠিক সময়ে বিমানবন্দরে আসতে হবে। নির্ধারিত ফ্লাইট সূচির অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে এলে এ ধরনের সমস্যা হবে না।

আরব আমিরাতগামী এয়ারলাইন্সগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ফ্লাইট ছাড়ার কমপক্ষে ১ ঘণ্টা আগে বোর্ডিং কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট না দেওয়ায় বোর্ডিং কাউন্টার বন্ধ হওয়ার পর আসছেন যাত্রীরা। তখন আর ফ্লাইটে নেওয়ার সুযোগ থাকে না তাদের। তবে দুয়েকজন যাত্রী হলে আমার ফ্লাইট ডিলে হলেও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এমন যাত্রী বেশি হলে আমাদের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যাত্রীদের সংখ্যা অনেক বেশি হলে তখন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য আমরা বারবার ল্যাবগুলোকে অনুরোধ করেছি, ফ্লাইটের সময় ধরে দ্রুত রিপোর্ট দিতে।’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা বলেন, করোনা পরীক্ষা নিয়ে কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। ‘যাত্রীদের ফ্লাইটের সময় বিবেচনা করে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। রিপোর্ট দেওয়ার পরও অনলাইন যাচাইয়ের জন্য লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে। বিমানবন্দরের ভেতর যে রিপোর্ট দেওয়া হয়, সেটা কেন আবার যাচাই করতে হবে?’

জরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘প্রতিদিনই আরব আমিরাতে ফ্লাইট যাচ্ছে। দেশটিতে প্রবেশ করতে ৪৮ ঘণ্টা আগে একবার করোনা পরীক্ষা করাতে হয়। বিমানবন্দরে এসে যাত্রার ৬ ঘণ্টা আগেও আরেকবার পরীক্ষা করাতে হয়। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে দেরি করে আসছেন বলে সমস্যা হচ্ছে।’

এ পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইটের ৮ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্টেমজ হেলথ কেয়ার (বিডি) লিমিটেড ঢাকা, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড ও ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক- এই ৬টি প্রতিষ্ঠান করোনা পরীক্ষা করছে। পরীক্ষা করাতে ১ হাজার ৬০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রবাসী কর্মীদের জন্য এ টাকা দেবে সরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত