প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পান চাষ নিয়ে বিপাকে চাষীরা, ঝুঁকছেন ভিন্ন পেশায়

তৌহিদুর রহমান নিটল: [২] রসনা বিলাস পান শব্দটির সাথে আধিকাল থেকে জড়িয়ে আছে এদেশের গ্রাম-বাংলা নানা ঐতিহ্য। ভোজন বিলাসী অধিকাংশ মানুষের সাথে পানের একটা মনের সর্ম্পক সে বহুকাল থেকে। সমাজের অধিকাংশ নানা পেশার মানুষেরা তাদের কাজের ফাঁকে পান খাওয়া যেন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এসকল মানুষদের দৈনন্দিন নানা খাদ্যের তালিকায় পান একটা স্হান দখল করে নিয়েছে। এছাড়া বিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ নানারকম সামাজিক অনুষ্ঠানে পানের একটা আলাদা কদর রয়েছে।

[৩] খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন। শতাধিক পরিবার এই এলাকায় পূর্ব পূরুষের পেশা পান চাষ ধরে রেখেছেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে নানা সমস্যায় কারণে তারা এখন চাষাবাদটি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।একসময় ইউনিয়নের শ্রীঘর, শাহবাজপুর এবং শ্যামগ্রামে পানের বরজ থাকলেও এখন প্রতিনিয়ম লোকসানের কারণে এই চাষাবাদ চেয়ে অনেকেই জীবনের চাকা ঘুরাতে গিয়ে ভিন্ন পেশায় ঝুঁকছেন।

[৪] পান চাষী মনোরঞ্জন দত্ত বলেন, নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগে আমাদের ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। কিন্তু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। পানের বরজ তৈরি করে লতা লাগিয়ে ভাল ফলন পেলেও বাজারে যেসব সার কীটনাশক আমরা ব্যবহার করি, পানের রোগ দমন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। রোগবালাই কিংবা সমস্যা দেখা দিলে আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা ঔষধ বিক্রেতাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। স্হানীয় কৃষি অফিস তেমন কোন পরামর্শ পায়না আমরা চাষীরা। অন্য কয়েকজন চাষী বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে পান চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও কৃষি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে পান চাষের পরিমাণ। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি অপর দিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ। এসব কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাস্তবে আমাদের সহযোগিতা জন্যই কেউ এগিয়ে আসেনা। নানারকম বিপাকে পড়ে দিনদিন পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষীরা।

[৫] এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার জানান, পান চাষের উপর কৃষি বিভাগের কোনো কাযর্ক্রম নেই। চাষীদেরকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয়।