প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শোয়েব সর্বনাম: প্রিয় শিক্ষকদের পেয়েছিলোাম কলেজ জীবনে

শোয়েব সর্বনাম: প্রিয় শিক্ষকদের পেয়েছিলোাম কলেজ জীবনে। ঢাকা সিটি কলেজে বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের ক্লাস নিতেন তারা। তাদের একজন ছিলেন কুদ্দুস স্যার। তিনি ক্লাসে তেমন পড়াতেন না। হাবিজাবি গল্পগুজব করতেন, অশ্লীল ধরনের রসিকতা করতেন। তাকে কখনো টিচার্স কমনরুমে পাওয়া যেতো না। ক্লাস না থাকলে কলেজের গেটে গিয়ে দারোয়ানের টুলে বসে বসে আকিজ বিড়ি খেতেন। এগুলো ২০০১ সালের কথা। তখন আমি বাংলা ফাইভ খেতাম আর ভাবতাম, বড় হলে বিড়ি খেতে হবে। অনেক পরে, ২০১৫ সালের দিকে জানতে পারি কুদ্দুস স্যার শুধু শিক্ষক নন, তিনি একজন সাহিত্যিক। শেখর ইমতিয়াজ নামে তিনি লেখেন। ফেসবুক খুঁজে তাকে পাওয়া গেলো। দু’একদিন ইনবক্স কমেন্টে টুকটাক কথাও হয়েছিলো। পরে কী মনে করে আমাকে তিনি ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে ডিলিট করে দিয়েছেন আল্লাহই জানে। সম্ভবত ছাত্র হিসেবে আমার ফেসবুককেন্দ্রিক বেয়াদবি তার পছন্দ হয়নি। আরেকজন প্রিয় শিক্ষক ছিলেন সোনিয়া ম্যাডাম। তিনিও ইংরেজি সাহিত্য পড়াতেন।

আমি তখন উদাস ভঙ্গিমায় ঘুরে বেড়ানো সাহিত্যভাবাপন্ন ছাত্র, ক্লাসে মনোযোগী ছিলাম না, সায়েন্সের ক্লাসে বসে বসে পথিক ছদ্মনামে কবিতা লিখতাম। একবার ইংরেজি গ্রামার ক্লাস চলাকালীন সময়ে চৌধুরী এন্ড হুসেনখ্যাত চৌধুরী স্যার আমাকে ইংরেজি খাতায় বাংলা সনেট রচনা করা অবস্থায় ধরে ফেলেন এবং আইডি কার্ড বাজেয়াপ্ত করেন। ওইদিন প্রথম আমি টের পাই, কবিতা লেখা একটা অপরাধ। তো যা হোক, শুধু সোনিয়া ম্যাডামের ক্লাসগুলো আমি খুব মনোযোগের সঙ্গে করতাম। তাকে আমার ভালো লাগতো। ক্লাসের ভালো ছেলেরা আমার কাব্য প্রতিভা ও ছদ্মনামের কথা ম্যাডামকে গোপনে জানিয়ে দিয়েছিলো।
পথিক নামের একটা ছেলে ক্লাসে বসে কবিতা লেখে এরকম একটা গল্প চালু হয়েছিলো। তো একদিন ক্লাসে ঢুকেই সোনিয়া ম্যাডাম আমাকে দাঁড় করিয়ে জানতে চাইলেন, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক ডায়লগ কী? আমার খুব শরম হলো। আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে কানটান লাল করে ফেলছিলাম। সেই ক্লাসে জানতে পারি, ‘পথিক, তুমি কী পথ হারাইয়াছ?’এটা বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক ডায়লগ। তিনি আমাকে কপালকুণ্ডলা পড়তে বলেছিলেন। তো সেই সোনিয়া ম্যাডামকেও ফেসবুকে পাওয়া গেছে। রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে রেখেছি। কিন্তু তিনি আজো আমাকে অ্যাড করেনন। আমার শিক্ষকভাগ্য খুবই খারাপ। প্রিয় শিক্ষকদের কেউই আমাকে পাত্তাই দিলেন না! ফেসবুক থেকে