প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে মোবাইলের আলোয়

সোহেল রানা: [২] চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিলিং লাইট অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। তারও পূর্বে নষ্ট হয়েছে জরুরি বিভাগের একমাত্র পোর্টেবল অপারেশন লাইটও। এই প্রয়োজনীয় লাইটগুলো নষ্ট হওয়ায় জরুরি বিভাগে দেখা দিয়েছে আলো স্বল্পতা। তবে এটা যেন জরুরি বিভাগের কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকদের নিকট কোনো সমস্যাই নয়। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে নিবিঘ্নে ক্ষত স্থানে সেলাইসহ রোগীদের নানাবিধ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

[৩] সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গতকাল রাত ৮টার দিকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আমিরুল ইসলাম (৬৫) ও সোহাগ হোসেন (২৫) নামের দুজন ব্যক্তি। আহত আমিরুল ইসলামের কপালে সৃষ্ট ক্ষতস্থানে সেলাই দিচ্ছিলেন জরুরি বিভাগের কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকেরা। জরুরি বিভাগের লাইট নষ্ট থাকায় মোবাইলের চর্ট জ্বালিয়েই কাজ করছিলেন তারা।

[৪] জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীরা বলেন, ‘হাসপাতালে টর্চ জ্বালিয়ে সেলাই করা হয় তা আগে জানা ছিল না। প্রতিটি রোগীর কাছে তাঁর ক্ষত স্থানে চিকিৎসা করানো জরুরি। তবে হাপসাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি চিকিৎসকেরা টর্চ জ্বালিয়ে ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে শুরু করে তাতে রোগীরা ঘাবরে যাবেই। মোবাইলের টর্চের আলোই আমরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছি কি না তাই বা বুঝবো কিভাবে? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিষয়টি নজরে নেওয়া উচিৎ।

[৫] জরুরি বিভাগের একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘লাইট সবগুলোই ভালো আছে, শুধু দুটি লাইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমাদের তেমন কোনো সমস্য হচ্ছে না। লাইট অন থাকলেও মোবাইলের টর্চ জ্বালালে ভালো দেখা যায়। তাই রাতের বেলা মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কাজ করি।

[৬] হাসপাতালের নষ্ট লাইট ও আলো স্বল্পতার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, ‘আলো কম থাকলেও তাদের সেবা দিতে তেমন কোরস্ সমস্যা না হওয়ায় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।’

[৭] নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার বলেন, ‘জরুরি বিভাগের ড্রেসিং রুমের দুটি লাইট সম্প্রতি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে অন্য যে লাইটগুলো ভাল আছে তা দিয়ে জরুরি বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করে যাচ্ছে। দিনের আলোতে কাজ করতে সমস্যা না হলেও রাতে আলোস্বল্পতা থাকে। তাই গুরুতর আহত রোগীরে ক্ষেত্রে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কাজ করা হয়।’

[৮] চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘জরুরি বিভাগের ড্রেসিং রুমে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন এমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। জরুরি বিভাগে যে আলো স্বল্পতা রয়েছে তাতে তাদেরইে প্রথম সমস্য হওয়ার কথা। কিন্তু তাদের এ নিয়ে কোনো সমস্যাই নেই। নতুন কিছু সিলিং লাইট হাসপাতালের স্টোরে রয়েছে, তারা চাইলেই যে কোনো সময় তা বদলে নিতে পারে। আজ জানতে পারলাম তারা মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে রোগীর ক্ষতস্থানে সেলাই দেয় তবুও লাইট গুলো বদলানোর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিছুই বলে না।’ সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত