প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইয়াবা মজুদের ঘাঁটি আলীকদম

নিউজ ডেস্ক: ইয়াবাপাচারের চেনা পথগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কড়া চোখ। ধরাও পড়ছে একের পর এক বড় চালান। ফলে ইয়াবা পাচারকারীরা বদলে ফেলেছে পুরনো পথ। পেয়েছে নতুন পথের খোঁজ। ইয়াবাপাচারের ট্রানজিট বাফার স্টক পয়েন্ট হিসেবে বান্দরবানের আলীকদমকে নিরাপদ পথ ভাবছে ইয়াবার গডফাদাররা। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ডিঙিয়ে ওপার থেকে আসা ইয়াবার চালান বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে আলীকদমে নিয়ে আসা হচ্ছে। এখানেই গড়ে তোলা হচ্ছে বাফার স্টক। আর সুযোগ পেলেই বাফার স্টক থেকে ইয়াবার চালান পৌঁছে যাচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকা হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে আলীকদমের উত্তর পালংপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর র‌্যাব কর্মকর্তারা এখন পুরো আলীকদমের ওপরই দৃষ্টি ফেলেছেন। আলীকদমের উত্তর পালং থেকে ইয়াবার চালান উদ্ধারের পরদিন সাংবাদিকদের ব্রিফকালে চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭-এর সদর দপ্তরের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম ইউসুফ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, ওই দিন চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী নদীর ফিশারি ঘাট থেকে তিন লাখ ৯৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ১২ জনই রোহিঙ্গা নাগরিক।

এদিকে গত শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ার ময়নারঘোনা এলাকায় ইয়াবার আরো একটি বড় চালান বিজিবি সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে। এই অভিযানে ইয়াবা পাচারকারীরা পালিয়ে গেলেও বিজিবি সদস্যরা এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করতে সক্ষম হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে মিয়ানমার থেকে নাফ নদ হয়ে ইয়াবাপাচারের জলপথ ছিল। সম্প্রতি জলপথে কয়েকটি চালান ধরা পড়া এবং ৬৩ পাচারকারী নিহত হওয়ায় পর চোরাকারবারিরা পথ পাল্টিয়ে পাহাড়ি দুর্গম স্থলপথ বেছে নিয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ঘুনধুম, সোনাইছড়ি হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালার আশারতলী, বাইশারীর পাহাড়ি পথ ধরে আলীকদমে বাফার স্টক গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে গেল ৭ জুলাই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে ইয়াবাপাচারের সময় র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন আলীকদমের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজান সর্দার। ওই সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারের নতুন পথ আলীকদমের খোঁজ পান র‌্যাব কর্মকর্তারা।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি তাদের কাছে তথ্য আসে, কয়েকজন পাচারকারী আলীকদম হয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢাকায় পাচার করবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব-৭-এর একটি দল বান্দরবান সেনা রিজিয়নের সহযোগিতায় আলীকদমের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে ইয়াবা লুকিয়ে রাখার স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে উত্তর পালংপাড়া এলাকা ঘিরে ফেলে।

গত শুক্রবার ভোরে বার্মাইয়া হাজি কবীরের বাড়িতে তাল্লাশি চালান র‌্যাব সদস্যরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজি কবীরের ছেলে মনির হোসেন এবং দীন মোহাম্মদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছে থাকা শপিং ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটির গর্তে রাখা একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে আরো চার লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মনির ও সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

কে এই হাজি কবীর : বিভিন্ন সূত্রে কথা বলে জানা গেছে, ২০ বছর আগে মিয়ানমার থেকে আলীকদমে এসে বসবাস শুরু করেন হাজি কবীর। অনেক চেষ্টা করেও আলীকদমে তিনি ভোটার হতে পারেননি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০০৮ সালে হাজি কবীর আলীকদমের নাগরিক হিসেবে ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েন। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাতিল করে দেয়।

পরে তিনি চট্টগ্রামের পটিয়ার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করান। এক বছর পর কৌশল পাল্টিয়ে হাজি কবীর পটিয়া থেকে তাঁর নাম স্থানান্তর করে আলীকদমের ভোটার তালিকাভুক্ত করে নেন। এর পর থেকেই তাঁর চার ছেলে এবং অন্য কয়েকজনকে নিয়ে হাজি কবীর ইয়াবাপাচারের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তাঁর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গোপনে চার বছর ধরে তিনি সবজি ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার চালান নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে কক্সবাজারের চকরিয়া হয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ইয়াবার চালান পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, পুলিশের সতর্কতায় মাদকপাচারের বিভিন্ন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং বড় বড় চালান ধরা পড়ায় মিয়ানমার-নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু পথ পাল্টাতে চোরাকারবারিরা বাধ্য হয়। সূত্র: কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ