প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইউরোপে ৮ কোটি ঘর গরম রাখতে প্রাণান্তকর চেষ্টা

রাশিদ রিয়াজ : একদিকে জালানির দাম বাড়ছে, অন্যদিকে ধেয়ে আসছে শীত ফলে সংকট কঠিন হয়ে পড়ছে। ইউরোপ জুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাই উদ্বিগ্ন কিভাবে তারা ঘর গরম রাখবেন আর কিভাবেই বা গ্যাস, বিদ্যুতের বাড়তি বিল সামলাবেন। বিশেষজ্ঞ, দারিদ্র বিমোচন সংস্থার কর্মকর্তা ও পরিবেশবাদি কর্মীরা সতর্ক করে বলছেন কোভিড ভাইরাস মহামারী ও জালানির বাড়তি মূল্য দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করছে। পারিবারিকভাবে এ বাড়তি ব্যয়ের যোগান তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ফ্রান্স ৬ মিলিয়ন পরিবারকে ১শ ইউরো বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করেছে। স্পেনে জালানি কর রহিত করার পাশাপাশি জালানি সরবরাহকারীদের ওপর লেভি বসিয়েছে। সাড়ে ৫ মিলিয়ন দরিদ্র পরিবারকে ইতালি সরকার সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের জালানি ভর্তুকি দিয়েছে। ইউরোপিও এনার্জি কমিশনার কাদরি সিমসন যেসব পরিবার জালানি সংকটে পড়েছে তাদের বিশেষ সুবিধা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিল রেয়াত দিতে বলেছেন। আরটি

ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেষ্টারের অধ্যাপক স্টেফান বোউজারোভস্কি যিনি এনার্জি প্রভার্টি রিসার্চ নেটওয়ার্ক এনগাজার’এর সভাপতি, তিনি বলেন, মহামারীর আগে থেকেই মানুষ জালানি সংকট মোকাবেলা করে আসছে এবং মহামারীকালে বেশিরভাগ মানুষের আয় হ্রাস পাওয়ায় সংকট আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা তাদের ঘর যথেষ্ট গরম রাখতে সমর্থ হচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে শীতে ঘরে সঠিক মানে অভ্যন্তরীণ তাপ রক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অনেকে ব্যর্থ হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি শুধুমাত্র চারটি ইউরোপীয় দেশ – ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং যুক্তরাজ্যের সরকারি হিসেব থেকে জানা যাচ্ছে কিন্তু প্রকৃত সমস্যাটি আরো ব্যাপক বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন জালানির দাম বেড়ে যাওয়া তা আরো ঝুঁকি বেড়েছে। বিল দিতে না পারায় অনেক ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা কর্মী, সেবা খাত ও এয়ারলাইন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ এসব খাতের কর্মীরা তাদের কাজ হারিয়েছে বেশি। রেগুলেটরি এ্যাসিসটেন্ট প্রজেক্টের সিনিয়র পরামর্শক ও নীতি বিশ্লেষক লুইসি সান্ডারল্যান্ড বলেন, ২০১৯ সালের পর পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। ইউরোপে ১২ মিলিয়ন পরিবারের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। ৭ মিলিয়ন পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাইট টু এনার্জি কোয়ালিশন। এ কোয়ালিশনটি ট্রেড ইউনিয়ন, পরিবেশ সংগঠন ও এনজিও সমন্বয়ে জালানি সমস্যা নিয়ে কাজ করছে।

সান্ডারল্যান্ড বলেন, মহামারীতে পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়েছে কারণ অনেক মানুষ ঘরেই অবস্থান করছে। এতে তাদের জালানি চাহিদা আরো বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে গত শীতে গ্যাসের বিপুল চাহিদা মোকাবেলায় মজুদ ব্যবহার করতে হয়েছে। আবার গ্রীষ্মে ঘরে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালু রাখতে হয়েছে বেশি। তাই এধরনের সংকট খুচরা ও পাইকারি বাজারেও পণ্যের দাম বাড়াতে প্রভাব ফেলেছে। গত অক্টোবরে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা আগের তিন মাসের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। ডাচ টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি যে মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে ফ্রান্স ও ইতালিতে ভোক্তাদের জালানি ব্যয় বেড়েছে। আর জালানি ক্রয়ে অক্ষমতা ইউরোপ জুড়ে সাধারণ মানুষের আয়ের উৎসকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সিএনএন বিজনেসকে অধ্যাপক স্টেফান বোউজারোভস্কি বলেন জালানি দারিদ্র সহজেই ইউরোপে অনেক মানুষকে দারিদ্রসীমায় আরো নীচের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমনিতে ইউরোপের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষকে সাধারণ মানের দারিদ্র মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কিন্তু ৬০ শতাংশ ইউরোপিও নাগরিক রয়েছেন জালানি দারিদ্রে। বুলগেরিয়ার ৩১ শতাংশ মানুষ জালানি দারিদ্রের খপ্পরে পড়েছে। এরপর রয়েছে লিথুনিয়া এবং দেশটির ২৮ শতাংশ মানুষ রয়েছে জালানি দারিদ্রে। সাইপ্রাস ২১, পর্তুগাল ১৯, নরওয়ে ১ ও সবচেয়ে কম রয়েছে সুইজারল্যান্ডের ০.৩ শতাংশ মানুষ জালানি দারিদ্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইউরোপিও ইউনিয়নের উচিত স্বল্পমেয়াদে হলেও ঘরবাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বন্ধ করা। ফ্রেন্ডস অব দি আর্থ ইউরোপের আবহাওয়া বিষয়ক আইনজীবী মার্থা মিয়ার্স বলেন পানি যেমন মানুষের মানবাধিকারের পর্যায়ে পড়ে তেমনি বিদ্যুতও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন সার্বিক জালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে বিষয়টি রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত