প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেলাল মহিউদ্দীন : কবিদের সিঁদকাঠি

হেলাল মহিউদ্দীন : কবি সমাবেশ। ঘোষণা এলো সম্রাট-সম্রাজ্ঞী কবিতা ভালবাসেন। নিজেরাও কবি। কবিদের উপহৃত করবেন অসামান্য উপহারে। একুশবার তোপধ্বনি হলো। বিউগল বাজলো। রক্তবর্ণ পুষ্পপোশাকে সজ্জিত একদল বেহারা কয়েকটি খাটিয়া কাঁধে বয়ে নিয়ে এসেছে। খাটিয়ার গায়ে সম্রাটবিরচিত স্বর্ণখোদিত কাব্যকথা, কখনো-সখনো কবিরাও লাশখোর হতে জানে! খাটিয়ার ঢাকনা তুলতেই আগর-কর্পূর-লোবানের সুগন্ধমৌমৌ ভালোবাসা কেড়ে নিলো চারপাশ। কবিগণ ছানিপড়া চোখে দেখে খাটিয়াতে লাশ নেই। আছে সলোমনের রতœসিন্দুক আদলে উপহার থরেথরে সাজানো। স্বর্ণালু ভেলভেটে মোড়া।

বাক্সবন্দী কাব্যপ্রেম সম্রাট-সম্রাজ্ঞীর। কবিদের উপহারসিন্দুকে সতর্কতাবাণী আঁটা- সমাবেশে লোকালয়ে নিষিদ্ধ হলো মোড়ক উন্মোচন। উপহৃত-অপহৃত কবিগণ শশব্যস্ত ফিরে গেছে তীর্থডেরায়। বাক্স খুলতেই কবিদের ছানিপড়া চোখ ফের ঝলসে গেলো চকমকি সোনার পিঞ্জরে আঁটা একটি হাতদীর্ঘ স্বর্ণখচিত কলমে। কলমের টোপর ছাড়াতেই বিস্ময়- সে কলমে নিবটিব কোনো কিছু নেই। আছে গোরখোদকের শাবল আদলে আঁটা ধারালো পাতের দাঁত। বানরলাফে বেরিয়ে এলো একটি কাগজ। তাতে লেখা- কলম নয়, হে কবি, ইহা একটি সিঁদকাঠি! কখনো-সখনো কবিদেরও গোরখোদক হতে হয়। অথবা হতে হয় সিঁদেল তস্কর। গোর খুঁড়ে কখনো কখনো নিজেকে বানাতে হয় খাটিয়া অথবা লাশ। কখনো বা লাশঘর! ২৮ আগস্ট, ১৯৯০। মহসিন হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত