প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাষ্ট্রায়ত্ত ১৮টি প্রতিষ্ঠানের পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা

সোহেল রহমান: [২] রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনাদায়ী ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কাছে। চলতি পঞ্জিকা বছরের গত ফেব্রুয়ারি শেষে এ ধরনের ১৮টি সরকারি সংস্থার কাছে ব্যাংকগুলোর বকেয়া পাওনার স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৫১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের কিছু ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এর পরিমাণ ৬৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

[৩] অর্থ বিভাগ জানায়, গত বছরের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ ও খেলাপি ঋণ কমেছে। গত ২০২০ সালের জানুয়ারি শেষে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের পুঞ্জিভূত ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৩৪২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ৯টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে ১৩ মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঞ্জিভূত ঋণ কমেছে ৫ হাজার ৮৯১ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং খেলাপি ঋণ কমেছে ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

[৪] প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেনার শীর্ষে রয়েছে ‘বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন’ (বিএসএফআইসি)। প্রতিষ্ঠানটির পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ বাড়ছেই। গত ২০২০ সালের জানুয়ারি শেষে সংস্থাটির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪৯১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি শেষে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৮১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

[৫] দেনার দায়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিবিসি। প্রতিষ্ঠানটির পুঞ্জিভূত ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৬ হাজার ২৯১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

[৬] তৃতীয় অবস্থানে থাকা ‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড’ (বিপিডিবি)-এর দেনার পরিমাণ কমেছে। গত বছর বিপিডিবি’র ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৬৯১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এক বছরে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

[৭] বর্তমানে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হলের দেনার দায়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। তবে গত এক বছরে সংস্থাটির পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ কমেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি শেষে বিপিসি’র ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি শেষে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৮৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

[৮] অন্যান্যের মধ্যে ‘বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন’ (বিসিআইসি)-এর দেনার পরিমাণ ৩ হাজার ৫১৫ কোটি ৭ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ৪ হাজার ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা); বিএডিসি’র দেনার পরিমাণ ৩ হাজার ৪০২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ৩ হাজার ১৩৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা); বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি)-এর দেনার পরিমাণ ৯৭১ কোটি ২৩ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ৯৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা)।

[৯] পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর দেনার পরিমাণ ৯৭০ কোটি টাকা (গত বছর ছিল ১ হাজার ১৪৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা); বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি)-এর দেনার পরিমাণ ৫৬৭ কোটি ৩ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ৬৯৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা); পেট্রোবাংলার ব্যাংক ঋণ ৩৩৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ২ হাজার ২০৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা) ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর দেনার পরিমাণ ২৬৭ কোটি ২ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ৫৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা); বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা (বিএসইসি)-এর দেনার পরিমাণ ১১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ১ হাজার ৪১১ কোটি ৭ লাখ টাকা)।

[১০] এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর দেনার পরিমাণ ৯৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা (অপরিবর্তিত); চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)-এর দেনার পরিমাণ ৯৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ১১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা)।

[১১] বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স কর্পোরেশন (বিটিএমসি)-এর দেনার পরিমাণ ২৫ কোটি ২ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ২০ কোটি ৬২ লাখ টাকা); বাংলাদেশ টি বোর্ড (বিটিবি)-এর দেনার পরিমাণ ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকা (গত বছর ছিল ১০৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা) এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর দেনার পরিমাণ ২ কোটি ১ লাখ টাকা। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত