প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নির্মাণাধীন ভবণ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, ৩লাখ টাকায় রফাদফা

এএইচ রাফি: [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে গিয়ে সাত্তার মিয়া (৫০) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত সাত্তার মিয়া জেলা শহরের জাদুঘর দেওয়ানপাড়ার মৃত আইয়ুব আলী মিয়ার ছেলে। এরআগে শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে জেলা শহরের থানাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

[৩] প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থানাপাড়ার ইউসুফ মিয়ার বাড়িতে বহুলতল ভবনের কাজ করছিল ঠিকাদার আবুল মিয়ার একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। ভবনটিতে ৫তলা পর্যন্ত করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সাত্তার মিয়াসহ অন্যান্য শ্রমিকরা ভবনের কাজ করছিলো। ৫তলায় সাত্তার মিয়া হাড়ি মাথায় করে অপ্রয়োজনীয় মালামাল ফেলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। এতে তিনি হাত, পা, ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে উদ্ধার করে ২৫০শয্যাবিশিষ্ট বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় সাথে থাকা শ্রমিকরা। রাতে সাত্তার মিয়া শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

[৪] এদিকে, মারা যাওয়ার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতালের মর্গে না নিয়ে, তার বাড়িতে মরদেহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে প্রকাশ্যে ঠিকাদারের লোকজন ও স্থানীয় সর্দাররা আলোচনায় বসে ৩লাখ টাকায় রফাদফা করেন। যার রায় নিহতের পাশের বাড়িতে উঠানে বসে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণাকালে স্থানীয় প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এসময় ঠিকাদার ৩লাখ টাকার মধ্যে সবার সামনে ৪০হাজার টাকা নগদ প্রদান করেন। বাকি ২লাখ ৬০হাজার টাকা রবিবার নিহতের পরিবারকে প্রদান করা হবে এবং পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবার যেন কোন অভিযোগ না দেয়, একারণে স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেওয়া হবে।

[৫] নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বাড়িতে নিয়ে আসার পর ঠিকাদার আবুল মিয়া স্থানীয় কয়েকজন শালিশকারককে সাথে নিয়ে আসেন। তারা আলোচনা করে নিহতের পরিবারকে ৩লাখ টাকা প্রদানের রায় করেন। এছাড়া নিহতের পরিবার যেন অভিযোগ না দেন, সেজন্য স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেওয়ার রায়ও করা হয়। এসময় ঠিকাদার আবুল মিয়া, স্থানীয় বালি মিয়া, চাঁন মিয়া সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

[৬] এই বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ঠিকাদার আবুল মিয়া নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তা বেষ্টনীর না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা আলোচনা করে নিহতের পরিবারকে ৩লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে তো গরীব মানুষ, তার বাচ্ছা-কাচ্চা আছে’। তাহলে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কেন দেওয়া হবে? তাকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

[৭] এই বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন,’আমি ঘটনাটি অবগত নেই। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো’।

সর্বশেষ