প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

রাশিদ রিয়াজ : কোভি ভাইরাসের সংক্রমণরোধে আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। এ সময়ের মধ্যে কোনো প্রমোদ তরীও অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেগ হান্ট। কিন্তু আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৮ মাস ধরে এ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে যাচ্ছে দেশটি। স্ক্রল/দি অস্ট্রেলিয়ান
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিশন এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের অনুমতি নিতে হবে। স্কট মরিশন বলেন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো বলেন যারা পুরোদমে দুটি ডোজ কোভিড টিকা দিয়েছেন তারা ভ্রমণ করতে পারবেন। বিদেশে যেসব অস্ট্রেলীয় নাগরিক দুটি ডোজ টিকা দিয়েছেন তারাও দেশে ফিরতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়ার ৮০ শতাংশ নাগরিক ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া সম্পন্ন করেছে। কোভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ মাস থেকে বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এছাড়া অস্ট্রেলীয় নাগরিকদেরকেও সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার ১৮১ জন কোভিড রোগী শনাক্তের পর মারা গেছেন ১৩শ ১১ জন। গত বছর তেসরা সেপ্টেম্বর কোভিডে সর্বোচ্চ ৫৯ জন মারা যায়।

বিদেশ থেকে অস্ট্রেলীয় নাগরিক দেশে ফেরার পর তাদের ৭দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আর টিকা দেননি এমন ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে ১৪ দিনের। অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত খুলে দেওয়ার আগে দেশটিতে কোভিশিল্ড, এ্যাস্ট্রাজেনেকা ও সিনোভ্যাক টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া মডার্না ও জনসন এন্ড জনসনের টিকাও অনুমোদন দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রয়োজনে বিদেশিদের অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণে ফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে বলে বলছে দেশটির সরকার। অস্ট্রেলিয়ার প্রধামন্ত্রী বলেন সময় এসেছে অস্ট্রেলীয়দের জীবনযাত্রায় ফিরে যাবার। আমার জীবন বাঁচিয়েছি। আমাদের একসঙ্গে কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। অস্ট্রেলিয়ায় যারা চলচ্চিত্র বা প্রামান্যচিত্র তৈরি করতে চান তাদেরও আসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এবং বিমান বন্দরগুলোতে কোয়ারেন্টাইন সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কট বলেন নাগরিকদের বিভিন্ন সুবিধা ফের আগের মতই শুরু হতে যাচ্ছে। তাদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হচ্ছে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন ফ্রি ভ্রমণ চালুর কথাও ভাবছে তার সরকার বলে জানান স্কট। ১৬ বছরের উর্ধে এমন বয়সীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা দেওয়া হলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা আগেই বলেছিলেন স্কট। কিন্তু সিডনি, মেলবোর্ন ও ক্যানবেরায় নতুন করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় অস্ট্রেলিয়ায় ফের স্বাস্থ্যবিধিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

এর আগে চীন ও সিঙ্গাপুরসহ ১২টি দেশের ওপর জারি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেয় জাপান। কোভিডের সংক্রমণ ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশের ওপর জাপানের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চীন ও সিঙ্গাপুর ছাড়াও তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া ওপর জারি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত