প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফলের দাম নাগালের বাইরে

নিউজ ডেস্ক: ভিটামিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ফল। মানুষের শরীরে ভিটামিনের জোগান দেয় দেশি-বিদেশি ফলমূল। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ১০০ গ্রাম ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদরা। অথচ অত্যধিক দামের কারণে সাধারণ মানুষ ফল থেকে ন্যূনতম পুষ্টি গ্রহণ করতে পারছেন না। সূত্র: দেশ রূপান্তর

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ফলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের আনাগোনা নেই ফলের দোকানে। উচ্চবিত্ত এবং উচ্চমধ্যবিত্তদের মধ্যেই ফল কেনার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বাজারে ফলের দাম নাগালের বাইরে থাকার জন্যই ফল না কেনার কারণ বলে জানান ক্রেতারা।

একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করা সাইফুল আলম মাসুম নামে একজন ক্রেতা এসে দোকানে বিভিন্ন ফলের দাম জিজ্ঞেস করলেন। দাম শুনে তিনি কোনো কিছু না কিনেই চলে যান। তার কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘ছোট বাচ্চাটা আপেল খাবে বলে বায়না ধরেছিল। কিন্তু দাম যা চায় তাতে কেনার সামর্থ্য আমার নাই। শুধু আপেলই না, সব ফলের দামই বাড়াবাড়ি রকমের বেশি। এ দামে ফল কিনলে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে পারব না।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে এখন প্রায় সব ফলের দামই আকাশছোঁয়া। যে মাল্টা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তিন মাস আগেও, সেই মাল্টা বিক্রি হচ্ছে এখন বাজারভেদে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায়। আপেল প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। আনারস আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকা পিস হিসেবে। এ ছাড়া, সাধারণ খেজুর ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, কলা হালিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পেয়ারা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, লাল আঙুর ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা, কমলা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়।

রোজার মাস ছাড়া খুব বেশি চাহিদা না থাকা খেজুরের দামও নেই হাতের নাগালে। ইরাক থেকে আসা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। দাবাস খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। মদিনার আজওয়া বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়, যা রোজার মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকায়। সবচেয়ে ভালো খেজুর হিসেবে পরিচিত মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায়। অথচ রোজায় এ খেজুর ৭০০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।

ফলের এত দামের বিষয়ে ফল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম  বলেন, ‘ফলের দাম কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু এখন দাম কমছে। সামনে দাম আরও কমবে। সাউথ আফ্রিকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এক মাস কোনো ফল আমদানি করা যায়নি। তাই মাল্টা এবং আপেলের দাম একটু বেশিই হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি বাড়লে দামও কমবে। এখন আবার ইন্ডিয়ায় সিজন শুরু হয়েছে।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত মাসে ১৫-১৬ কেজির এক কার্টন মাল্টা বিক্রি হয়েছে পাইকারিতে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়, যা এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ টাকায়। কমলার ২০ কেজি কার্টন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। চাইনিজ আপেল পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২০ কেজি ২ হাজার ৩০০ টাকায়।

আমদানিকারকদের দেওয়া দামের হিসাবে দেখা যায়, কেজিপ্রতি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে ২০০ টাকার কিছু বেশি দামে। সেই মাল্টা খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকার বেশি। দামের এমন তারতম্যের ব্যাপারে সিরাজুল ইসলাম মধ্যস্বত্বভোগীদের দায়ী করেন।

রাজধানীতে ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো ডাব। বড় সাইজের ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা প্রতি পিস। একদম ছোট ডাবও ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়, যা কয়েক মাস আগেও ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এত দামে ডাব বিক্রি করার কারণ হিসেবে বলা হয়, বাজারে এখন যে ডাব আসছে তার বেশিরভাগই বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা ও নোয়াখালীর হাতিয়া অঞ্চলের। আর কোনো জায়গা থেকে ডাব আসছে না বাজারে। তাই ডাবের দাম বেশি। এ ছাড়া, মোবাইলের টাওয়ারের বিকিরণের কারণে ডাবের ফুল নষ্ট হয়ে ফলন কমে যাচ্ছে। তাই ডাবের দাম বেশি।

মাল্টার দামের ব্যাপারে ফল আমদানিকারক সমিতির সহসভাপতি শামসুল হক বলেন, ‘করোনার কারণে ভিটামিন সি-র চাহিদা মেটাতে মাল্টার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। কিন্তু সে তুলনায় জোগান না থাকায় দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকার অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে আমদানি না করতে পারায় এর দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।’

অসুস্থ রোগীদের ফল খাওয়ার ব্যাপারে ডাক্তারদের নির্দেশনা থাকে। তা ছাড়া, ডায়েট করতে ফল খাওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেন পুষ্টিবিদরা। ফল খেলে ফাইবার ও আঁশ চর্বি জমতে বাধা দেয় শরীরে। তাই এর চাহিদা প্রচুর। প্রতিদিন নিদেনপক্ষে একটি আপেল খাওয়ার পরামর্শ দেয় চিকিৎসকরা। কিন্তু দামের অস্বাভাবিকতার কারণে ফল খাওয়া দায় হয়ে পড়েছে সাধারণে মানুষের। এতে করে অপুষ্টি ও ভিটামিনের অভাব নিয়ে দিন কাটছে মানুষের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত