প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভালো নেই কুষ্টিয়ার জলকন্যারা, দীর্ঘদিন ঘরে বসে থেকে হারিয়ে ফেলছেন ফিটনেস

আব্দুম মুনিব : সুইমিংপুল কাঁপানো জলকন্যদের দিন কাটছে কুষ্টিয়ায় ঘরে বসে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে থমকে গেছে তাঁদের জীবন। দীর্ঘদিন ঘরে বসে থেকে হারিয়ে ফেলছেন ফিটনেস। দিন দিন ভারী হয়ে যাচ্ছে শরীর। আবার কবে জলে ফিরতে পারবেন, জলে ফিরে নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন কিনা এসব শঙ্কায় দিন কাটছে জলকন্যাদের।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে সুমি খাতুন, সুমাইয়া আক্তার জ্যামি ও মুক্তা খাতুন। গ্রামের খালে বা মজা পুকুরে সাঁতার শিখে জাতীয় পর্যায়ে সুইমিংপুল কাঁপাচ্ছেন তাঁরা। দারিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা জলকন্যাদের গলায় শোভা পেয়েছে ১০-১৫টি করে জাতীয় পদক। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও এনেছে সাফল্য।

তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে থমকে গেছে জলকন্যাদের জীবন। বাংলাদেশ আনসারের হয়ে সুইমিংপুল কাঁপানো সাঁতারু সুমি, জ্যামি ও মুক্তারা নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। করোনা ভাইরাসের শুরুতে নিজ গ্রামে ফিরে আসে জলকন্যারা।

তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ঘরে বসে থেকে ফিটনেস হারিয়ে ফেলছেন। এলাকার কোন সুইমিংপুল নেই। ব্যক্তিগত বা কোন প্রতিষ্ঠানের পুরুর ও খালে তাঁদের প্যাট্রিস করতে দেয়া হয় না। বডি ফিটনেস ধরে রাখতে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বারো কপাট নামে একটি খালে কোন রকমে প্যাট্রিস করছেন।

সরকারি ওই খালে প্যাট্রিস করতে গেলেও স্থানীয় মৎস চাষীরা তাঁদের বাঁধা দেয়। হয়ত সেখানেও আর প্যাট্রিস করা হবে না বলে জানান সাঁতারুরা। সাঁতারু সুমি খাতুন বলেন, দুই বছর কোন প্রশিক্ষণ নেই, দীর্ঘদিন ঘরে বসে থেকে ফিটনেস হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে ঘরে বসে থাকলে শরীর ভারী হয়ে যাবে।

সাঁতারু সুমাইয়া আক্তার জ্যামি বলেন, দেশসেরা সাঁতারুদের গ্রামে কোন সুইমিংপুল নেই, এ কথা শুনতেও কষ্ট লাগে। আরেক সাঁতারু মুক্তা খাতুন জানান, বাড়িতে থেকে নিজেদের পারফমেন্স ধরে রাখা যায় না। এখানে কোন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেই। দ্রুত ক্যাম্পে ফিরে না গেলে আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিত জুনিয়র জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগীতায় ভালো কিছু করতে পারবো বলে মনে হয় না।

 

সর্বাধিক পঠিত