প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শওগাত আলী সাগর: সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট পড়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের চুল কাটার ঘটনা সম্পর্কে খানিকটা সংশয় তৈরি হয়েছে

শওগাত আলী সাগর : রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন ১৪ ছাত্রের চুল কেটে দিয়েছেন এমন একটি খবর নিয়ে দুদিন ধরেই তোলপাড় হচ্ছে। ফারহানা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এমন একটি খবরও জানলাম। ফারহানা ইয়াসমিন যদি সত্যি সত্যি এই কাজটি করে থাকেন- তাহলে কতোগুলো বিষয় নিয়ে ভাববার আছে। ‘সত্যি সত্যি এই কাজটি করে থাকেন’- কথাটি বললাম- কারণ বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় কোনো শিক্ষক, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েরই হন বা প্রাইমারী স্কুলের হনÑ নিজ হাতে ছেলেদের চুল কেটে দেওয়ার মতো ‘সাহস’ দেখানোর স্পর্ধা রাখেন কিনা- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশের সুযোগ আছে। একজন নারী সেই সাহস কতোটা দেখাতে পারেন- এই প্রশ্ন তো থাকলোই। প্রথম আলোর রিপোর্ট বলছে, ‘এ ঘটনায় লাঞ্ছিত একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কয়েক দিন আগে ক্লাস চলাকালে ফারহানা ইয়াসমিন চুল বড় রাখার বিষয়ে ছাত্রদের বকাঝকা করেন। তাঁর ভয়ে সবাই পরের দিনই চুল ছোট করেন।’

পরের দিন সবাই যদি চুল ছোট করে আসেন তাহলে ফারহানা ইয়াসমিন কী সেই ছোট চুলই আবার কেটেছেন? প্রথম আলোর রিপোর্টে পরের লাইনে বলা হচ্ছে- ‘পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে থেকেই দরজার সামনে ওই শিক্ষক কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাদের চুল মুঠোর মধ্যে ধরা গেছে, তাদের মাথার সামনের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন।’ রিপোর্টার প্রথমে বলছেন, ‘তাঁর ভয়ে সবাই পরের দিনই চুল ছোট করেন’, পরক্ষণেই বলছেন- তিনি নিজ হাতে চুল কেটে দিয়েছেন। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ নিয়ে যায়নি, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটিকে ছড়িয়েছেন এবং আমাদের মিডিয়া সেটিকে খবর হিসেবে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট পড়ে ঘটনা সম্পর্কে খানিকটা সংশয় তৈরি হয়েছে। রিপোর্টাররা ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন সেখানে তাদের তথ্য পরিবেশনে পেশাদারিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশের সুযোগ আছে। লেখক : সিনিয়ার সাংবাদিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত