প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] উপ-সচিবকে হেনস্তা ও বেআইনি পন্থায় অবরুদ্ধের অভিযোগ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিবের বিরুদ্ধে

ইফতেখার আলম: [২] নয়জন কর্মকর্তার বেতন স্কেল নির্ধারণ বিবরণী ও গোপনীয় কাগজপত্র বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতিরেকে অনৈতিক পন্থায় ফটোকপি করার প্রতিবাদ করায় ওই দুই কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বেআইনি ভাবে দুই কর্মকর্তাকে নানাভাবে হেনস্থা করাসহ প্রায় একঘন্টা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে।

[৩] গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল চার দিকে বোর্ডের সচিবের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী ঐ দুই কর্মকর্তা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

[৪] এ ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আনিসুর রহমনকে আহবায়ক, এ্যাড: মো. ইয়াহিয়া সদস্য সচিব ও বগুড়া সরকারী শাহ সুলতান কলেজের অধ্যাক্ষ্য ও শিক্ষা বোর্ডের সদস্য মো. শহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করেছে শিক্ষা বোর্ড প্রশাসন। এ কমিটিকে ১৫ দিনের কার্য্য দিবসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

[৫] ঘটনাস্থল ভিডিও ফুটেজ পর্যালচনা করে দেখা গেছে, বোর্ড সচিবের সাথে উপরোক্ত বিষয় নিয়ে উপ-সচিব (প্রশাসন) ওয়ালিদ হোসেন ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মানিকচন্দ্র সেন বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তার কিছুক্ষণ পড়েই সচিব দৌড়ে গিয়ে বাইরে দায়িত্ব থাকা একজন আনসার সদস্যকে ভেতরে আসতে বলেন এবং নিজের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে লক করে দেন।

[৬] ঐ দুই কর্মকর্তা বাইরে বের হতে চাইলে আনসার ও সচিব মিলে তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি নিয়ে ঐদিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী দুই কর্মকর্তাসহ বোর্ড সচিব চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি এখন তদন্তাধিন আছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী শিক্ষা বোডের্র চেয়ারম্যান মো. মকবুল হোসেন।

[৭] এঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার ৩ জনসহ মোট ৬ জন কর্মকর্তার কাছে ব্যাখা চেয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে চাওয়া হয়নি সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে। এনিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মাঝে।

[৮] উপ-সচিব (প্রশাসন) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, আমাদের সাথে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন। এর সুষ্ঠ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি চেয়ারম্যান মহদয়েরে কাছে।

[৯] অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) বাদশা হোসেন চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতিরেকে অনৈতিকভাবে ছোট্ট একটি চিরকুট পিয়নের হাত দিয়ে সংস্থাপন শাখাতে প্রেরণ করেন। এছাড়া বেশ কিছু কর্মকর্তার বেতন সমন্বয় সংক্রান্ত নথি ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোপনীয় নথি নিজের হস্তগত করে অফিসের বাইরে ফটোকপি করেন বলে জানায় শিক্ষা বোর্ডে কর্মরত কর্মকর্তারা।

[১০] শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বেও ঐ দফতর থেকে বিভিন্ন বেতন শিট বিকৃত করে এবং নোট শিটের কপিসহ বিভিন্ন গোপনীয় নথি বাইরে সরবরাহ করার অভিযোগ আছে ডিডি (হিসাব ও নিরীক্ষা) ও সচিবের বিরুদ্ধে।

[১১] শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ কর্মকর্তা এবিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, সচিব কর্তৃক দু’জন কর্মকর্তাকে জোড়পূর্বক নিজের কক্ষে অবরুদ্ধ বা আটকে রাখার বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে বেআইনী কাজের সমতুল্য। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, ‘আইনি বিষয়কে প্রাধান্য দিলে দন্ডবিধির ৩৩৯ ও ৩৪০ ধারায় সচিবের উক্ত আচরণটি বেআইনি। সচিবের এমন ক্ষিপ্ত আচরণ ও ভিডিও ফুটেজে উঁনার ঐসময়ের কর্মকান্ড দেখে অতিসহসায় অনুধাবন করা যায় যে, তিঁনি পূর্বপরিকল্পিত ভাবে এমন অবরুদ্ধকর পরিস্থিতি ও হেনস্তার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

[১২] একজন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়ে নিজের অফিসের অন্য একজন কর্মকর্তার সাথে ধস্তাধস্তি আর বেআইনি পন্থায় নিজের কক্ষে আটকে রাখার বিষয়টি বোর্ডে কর্মরতদের কাছে বেমানান ও অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বলেই বিবেচিত হয়েছে বলে মন্তব্য অনেকের।

[১৩] উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভাগীয়ভাবে সহকারী ক্রীড়া অফিসার মো. নুরুজ্জাম,মাধ্যমিক উপ পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মুঞ্জুর রহমান, উপ পরিক্ষা নিয়ন্ত্ররক রেকোর্ড মো; জাহিদুর রহিমকে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাখ্যা তলব করেছেন চেয়ারম্যান। এর আগে হিসাব ও নিরীক্ষা শাখার ডিডি বাদশা হোসেন, উপ-সচিব (প্রশাসন) ওয়ালিদ হোসেন ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মানিকচন্দ্র সেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান।

[১৪] এ ঘটনায় বোর্ড সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা দুই জন চেয়ারম্যন বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছি। এরচেয়ে বেশিকিছু বলতে পারবোনা। আপনার যা জানার চেয়ারম্যান মহদয়ের নিকট জানুন। এছাড়া সাংবাদিকদের নিকট বক্তব্য দেয়া নিশেধ আছে আমার বলেও জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত