প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চার সপ্তাহে মিয়ানমারের মুদ্রার দর পড়েছে ৬০ শতাংশ

লিহান লিমা: [২] সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত মিয়ানমারের মুদ্রা কিয়াটের মূল্যমান ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত আট মাসের সামরিক শাসনে দেশটিতে লাগামহীন ভাবে বাড়ছে খাদ্য এবং জ্বালানির মূল্য।

[৩] ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হর্সে বলেন, ‘কিয়াট নিয়ে আচ্ছন্নাবস্থায় থাকা জেনারেলদের এটি হতবাক করবে। এটি তাদেরই কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন।’ সিএনএ

[৪] আগস্টে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেফারেন্স রেটের উভয় পাশে কিয়াতের মান ০.৮ শতাংশ সংযুক্ত করার চেষ্টা করলেও বিনিময় হারের চাপের কারণে ১০ সেপ্টেম্বর হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

[৫] কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ফ্লোটিং স্ট্র্যাটেজি পরিত্যাগ করার কোনো কারণ জানায় নি। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গুরুত্বরভাবে হ্রাস পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার হিসেব দিতে রাজি হয় নি। তবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে ২০২০ সালের শেষের দিকে তাদের রিজার্ভ ছিলো মাত্র ৭.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরিচালিত ফ্লোট থেকে বেরিয়ে আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করছে। তারা ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৭৫৫ ডলার দরে কিয়াট কিনছে।

[৬] ডলারের ঘাটতি দেশটিতে এতটাই খারাপ অবস্থায় পড়েছে যে মানি চেঞ্জাররা নিজেদের ব্যবসার শাটার টানতে বাধ্য হয়েছেন। ফেসবুকে এক মানি চেঞ্জার বলেন, মুদ্রার দামের অস্থিতিশীলতার কারণে এই মুহুর্তে নর্দার্ন ব্রিজ এক্সচেঞ্জের সব সার্ভিসের শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

[৭] যারা এখনো কাজ করলেন তারা ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২ হাজার ৭০০ কিয়াটের কথা জানান। যা ১ সেপ্টেম্বর ছিলো ১ হাজার ৬৯৫ এবং ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যূত্থানের দিন ছিলো ১ হাজার ৩৯৫।

[৮] গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যূত্থানের পরের কয়েক মাসে অনেক ব্যাংক থেকে সঞ্চয় তোলার জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়েছিলেন, অনেকেই সোনা কিনেছিলেন। ইয়াঙ্গুনের এক গহনা ব্যবসায়ী বলেন, অনেক হতাশ মানুষ এখন তাদের সোনা বিক্রি করার চেষ্টা করছে। তারা হতাশ। অর্থনৈতিক সংকট মূল্যের দাম এতোটাই বাড়িয়ে দিয়েছে যে তারা ৪৮ হাজার কিয়াটে ৪৮ কেজির একটি চালের ব্যাগ কিনছেন। যা অভ্যূত্থানের পর থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। পেট্রোলের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি লিটার হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ কিয়াট।

[৯] সোমবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বছর দেশটির অর্থনীতি ১৮ শতাংশ হ্রাস পাবে। ফলে মিয়ানমারে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় সংকোচন ঘটবে এবং দেশে দারিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

[১০] জান্তা বিরোধী বিক্ষোভ এবং কয়েক মাসের ধর্মঘটের পর এখন দেশটিতে সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান চাপ পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমারের একটি ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত খারাপ, মুদ্রার হার তত খারাপ হবে।’

সর্বশেষ